১০:৫৫ এম
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির তলদেশে অবস্থিত সমুদ্রের নিচের যোগাযোগ ক্যাবলকে নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কাতার সতর্ক করে বলেছে, যদি এসব ক্যাবলে হামলা হয়, তাহলে ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের তুলনায় অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। একই সঙ্গে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।
সউদী গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবলের কথা উল্লেখ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মোহেব্বি বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। নতুন অস্ত্রেরও আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব অঞ্চল থেকে দূর করার অঙ্গীকার করেছে ইরান। তবে ক্যাবলগুলোতে হামলার জন্য নির্দিষ্ট সময় বা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
আরও পড়ুন: রাশিয়া ও চীনের প্রধানমন্ত্রী সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকে মিলিত
পূর্বে, গত মার্চের শুরুতে, ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং ক্লাউড সেবায় সমস্যা দেখা দেয়। নতুন হুমকির পর গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত এসব ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পরিচালিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে একাধিক দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অনলাইন সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, ইরানের পক্ষের কেউ যদি পরিস্থিতি নিয়ে সৎভাবে চিন্তা করেন, তাহলে তাঁর প্রশ্ন করা উচিত, ‘সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কে?’ আল-হাশমির মতে, এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরই বেশি পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১, নিখোঁজ ১
কাতার আরও সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থা নয়, পানির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের মতো কর্মকাণ্ডে প্রণালির পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই জলপথটিকে লক্ষ্য করে হামলা ও হুমকি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।
এর আগে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এ অঞ্চলের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব অবকাঠামোতে হামলা হলে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। দেশটির মতে, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির ক্যাবলে হামলা হলে বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট সেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা নির্ভর করবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবলের সংখ্যা, বিকল্প সংযোগের সক্ষমতা এবং মেরামতের সময়ের ওপর।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ফিজি সফরে ইসরাইলের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের অংশীদারিত্ব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন