ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এলপিজির দাম আবার বাড়ল


এলপিজির দাম আবার বাড়ল

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আগস্ট মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করেছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ ১৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫২৮ টাকা।

রোববার (২ আগস্ট) নতুন এই দাম ঘোষণা করে সংস্থাটি বিইআরসি।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই দাম রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোটি টাকার আশ্রয়ণকেন্দ্র, কিন্তু নেই মানুষের আশ্রয় রাঙ্গাবালীর ১২টি মুজিব কেল্লা এখনো অর্পণ হয়নি জনগণের কাছে"

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. আসাদ মিয়া,, রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


কোটি টাকার আশ্রয়ণকেন্দ্র, কিন্তু নেই মানুষের আশ্রয় রাঙ্গাবালীর ১২টি মুজিব কেল্লা এখনো অর্পণ হয়নি জনগণের কাছে"

PKG ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলের মানুষের জীবন রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল আধুনিক আশ্রয়ণকেন্দ্র। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উদ্বোধনও করেন সেগুলোর। কিন্তু উদ্বোধনের চার বছর পার হলেও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ১২টি আশ্রয়ণকেন্দ্র এখনো পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনগুলোতে নেই বিদ্যুৎ, ফ্যান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, এমনকি কিছু ভবনে ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে দুর্যোগের সময় আশ্রয় নিতে এসেও ফিরে যেতে হয় মানুষকে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের মানুষের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে রাঙ্গাবালী উপজেলায় নির্মাণ করা হয় ১২টি বহুমুখী আশ্রয়ণকেন্দ্র বা মুজিব কেল্লা। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এসব আশ্রয়ণকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।
কিন্তু উদ্বোধনের চার বছর পার হলেও অধিকাংশ আশ্রয়ণকেন্দ্র এখনো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর চাবি বুঝিয়ে দেয়নি। ফলে ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের সময় আশ্রয় নিতে এসে অনেক মানুষ ফিরে যেতে বাধ্য হন।

শুধু তাই নয়, নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। কোথাও নেই বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান কিংবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম। এমনকি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপনের জন্য আনা কিছু মালামাল ও সোলার ব্যাটারি ঠিকাদার সরিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

(স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য)
আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবন বুঝিয়ে দিলে তখনই চাবি গ্রহণ ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি আশ্রয়কেন্দ্রের সোলার ব্যাটারিও ঠিকাদার নিয়ে গেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ভবনের দেয়ালে ফাটলের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এটি নকশাগত ত্রুটির কারণে হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(অজিৎ চন্দ্র দেবনাথ,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার রাঙ্গাবালী,পটুয়াখালী।
"দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যেই নির্মাণ করা হয়েছিল এসব আশ্রয়ণকেন্দ্র। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক বছর পরও সেগুলো পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় উপকূলের হাজারো মানুষ প্রয়োজনের সময় নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ত্রুটি সংস্কার করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্ট মাসে টানা বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


আগস্ট মাসে টানা বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস

চলতি আগস্ট মাসে দেশব্যাপী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্পর্কে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)।

শনিবার (১ আগস্ট) বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি) তাদের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখিত তথ্যগুলো জানিয়েছে।

ওই দিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, সিলেট ও ময়মনসিংহে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বন্যার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তবে এই মাসে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। যদিও বৃষ্টির বিরতির সময়ে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে (১–৮ আগস্ট) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে এ সময় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে।

দ্বিতীয় সপ্তাহে (৯–১৬ আগস্ট) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করা হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে (১৭–২৪ আগস্ট) দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে ভারী বর্ষণের ফলে কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মাসের শেষ সপ্তাহে (২৫–৩১ আগস্ট) দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানাচ্ছে, চলতি মাসে ১২ আগস্ট পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং ২৮ আগস্ট চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হলেও এই দুটি গ্রহণের কোনওটিই বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীর ভাঙনে বিলীন ফসলি জমি, হুমকির মুখে গ্রামের বসতবাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


নদীর ভাঙনে বিলীন ফসলি জমি, হুমকির মুখে গ্রামের বসতবাড়ি

বান্দরবানে বর্ষায় খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর ভাঙনে ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে টানা বন্যার ফলে বান্দরবান সদর উপজেলার খোয়ালিয়া খোলা এলাকায় বসতি এবং ফসলি জমি, খেত-খামারসহ বিশাল area ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

নদী ভাঙনের কারণে কৃষি নির্ভরশীল মানুষগুলোর স্বপ্নের ফসলের জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নদীতীরে রয়েছে অনেক পরিবার, যারা এখনও আত্মীয়-স্বজন বা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও, হেডম্যানপাড়া খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, গোয়ালিয়া খোলা নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বান্দরবানের অন্যতম শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গোয়ালিয়াখোলা এলাকা ফসলি জমি, খেত-খামার ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তাদের মতে, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় খেত-খামার ও বসতবাড়ি ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। তারা বাপদাদার সম্পত্তিগুলো হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছে। নদীভাঙনে গৃহহীন এবং ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার মানুষ। এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবারের শেষ ঠাঁই মেলে আত্মীয়-স্বজন বা অন্যের আশ্রয়ে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রায় ২৫০ মিটারের মতো এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে আপদকালীন কাজ জরুরি শুরু করা হবে।

এছাড়া, নদী ভাঙন এলাকাগুলো নিয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে গোয়ালিয়া খোলা এলাকায় ১ কিলোমিটার বাঁধের কাজ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে কাজটি শুরু করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক নদী ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় বিভাগীয় প্রধানকে বলা হয়েছে, তালিকাও করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করবেন। নদী ভাঙনটা রোধ করা না গেলে আরও বেশি ভাঙন সৃষ্টি হবে এবং বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ ও পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মেরামত ও নদীতীর রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনপ্রবণ এ জেলাকে বিশেষ হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নদী সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রবাহ বাড়াতে খাল খননকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে, বলে জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের তুলনায় ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


বিশ্বের তুলনায় ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার যুগে এসে, যখন গিগাবিট গতির ইন্টারনেটকে ভিত্তি করে ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তুলছে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো, বাংলাদেশের জন্য ধীরগতির ইন্টারনেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হচ্ছে। বিগত এক দশকে দেশের ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছালেও, নাগরিকরা উচ্চগতি ও মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সম্প্রতি, বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেশের ইন্টারনেট সেবার মানের করুণ চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে ১০৩টি দেশের মধ্যে ৯১তম এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে ১৪১টি দেশের মধ্যে ৯৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘দি আনফিনিশড ডিজিটাল রেভল্যুশন: এক্সপান্ডিং ইন্টারনেট অ্যাকসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চগতির ইন্টারনেট এখন যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি দেশের উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের প্রায় সব জায়গায় ইন্টারনেটে সংযোগের আওতায় এলেও, ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুসারে, দেশের অধিকাংশ জনগণের কাছে নেটওয়ার্ক পৌঁছালেও, উচ্চমূল্যের ডিভাইস, ডেটা প্যাকেজ ও ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবের কারণে অনেক মানুষ এখনও ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। ২০২৪ সালে ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক দেশের ১০০ ভাগ জনগণের আওতায় পৌঁছাতে পারলেও, বাস্তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেনি মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ।

অর্থাৎ নেটওয়ার্ক কাভারেজ থাকা সত্ত্বেও প্রতি নয়জনের মধ্যে তিনজন এখনও অনলাইনে নেই। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই প্রকৃত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন না, সে কারণগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর ও ন্যায়সংগত নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের জন্য অর্থবহ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে এসব প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৭টি দেশে অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনে কখনো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস পাঠায়নি; বাংলাদেশও ওই তালিকায় রয়েছে।

অবশ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দাবি, দেশে এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ শতাংশ। মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে, দেশে এখন ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগ ও গতির নাজুক অবস্থা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ, রফতানি, প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণেও। বর্তমানে সরকার যখন নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন ধীরগতির ইন্টারনেট বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, পয়েন্ট অব সেল ও কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেটের গতি কম থাকলে লেনদেন সম্পন্ন হতে দেরি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়া এবং একই লেনদেন একাধিকবার সম্পন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশে এখনই ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটানো প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মতো নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে ইন্টারনেটের আওতা বাড়লেও সে অনুপাতে ইন্টারনেটের গতি বাড়ছে না। বিপরীতে উন্নত ও দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি সংযোগের গতিও দ্রুত বাড়ছে। সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, হংকং, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটের গতি সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক মধ্যম ডাউনলোড গতির (মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড) তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবার ওপরে রয়েছে, দেশটির ইন্টারনেট গতি সেকেন্ডে ৬৮১ মেগাবিট। সিঙ্গাপুরে ইন্টারনেট গতি ৪২১ এমবিপিএস। এমনকি নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ভিয়েতনামে প্রায় ১৮৮ এমবিপিএস। বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ৪৩ মেগাবিট, অন্যদিকে ব্রডব্যান্ডে গতি ৬৬ মেগাবিট। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ব্রডব্যান্ডের গতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তরের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। উচ্চ আয় দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। নিম্ন আয় দেশের মাত্র ২৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অর্থাৎ প্রতি চারজনে একজনেরও কম মানুষ অনলাইনে যুক্ত।

নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোয় ইন্টারনেট ব্যবহার ও গতি কম থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আয় ও নিম্ন আয় উভয় ধরনের দেশেই গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের হার শহরের তুলনায় পিছিয়ে। এর প্রধান কারণ হলো অবকাঠামোগত ঘাটতি ও তুলনামূলক কম আয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ ও গতি কম রয়েছে, যার কারণে মানুষ বাজারসংক্রান্ত তথ্য, কৃষিসহায়তা, ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিহেলথ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা ও কর্মসূচিতে সহজে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও গ্রামীণ এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোতে এই বৈষম্য আরও প্রকট।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধীরগতির মোবাইল ইন্টারনেট কেবল ব্যবহারকারীদের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং এটি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ প্রবাহকেও বাধাগ্রস্ত করছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা ও ধীরগতি তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%