ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগস্ট মাসে টানা বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস


আগস্ট মাসে টানা বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস

চলতি আগস্ট মাসে দেশব্যাপী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্পর্কে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)।

শনিবার (১ আগস্ট) বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি) তাদের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখিত তথ্যগুলো জানিয়েছে।

ওই দিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, সিলেট ও ময়মনসিংহে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বন্যার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তবে এই মাসে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। যদিও বৃষ্টির বিরতির সময়ে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে (১–৮ আগস্ট) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে এ সময় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে।

দ্বিতীয় সপ্তাহে (৯–১৬ আগস্ট) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করা হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে (১৭–২৪ আগস্ট) দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে ভারী বর্ষণের ফলে কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মাসের শেষ সপ্তাহে (২৫–৩১ আগস্ট) দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

সংস্থাটি আরও জানাচ্ছে, চলতি মাসে ১২ আগস্ট পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং ২৮ আগস্ট চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হলেও এই দুটি গ্রহণের কোনওটিই বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীর ভাঙনে বিলীন ফসলি জমি, হুমকির মুখে গ্রামের বসতবাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


নদীর ভাঙনে বিলীন ফসলি জমি, হুমকির মুখে গ্রামের বসতবাড়ি

বান্দরবানে বর্ষায় খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর ভাঙনে ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে টানা বন্যার ফলে বান্দরবান সদর উপজেলার খোয়ালিয়া খোলা এলাকায় বসতি এবং ফসলি জমি, খেত-খামারসহ বিশাল area ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

নদী ভাঙনের কারণে কৃষি নির্ভরশীল মানুষগুলোর স্বপ্নের ফসলের জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নদীতীরে রয়েছে অনেক পরিবার, যারা এখনও আত্মীয়-স্বজন বা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও, হেডম্যানপাড়া খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, গোয়ালিয়া খোলা নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বান্দরবানের অন্যতম শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গোয়ালিয়াখোলা এলাকা ফসলি জমি, খেত-খামার ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তাদের মতে, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় খেত-খামার ও বসতবাড়ি ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। তারা বাপদাদার সম্পত্তিগুলো হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছে। নদীভাঙনে গৃহহীন এবং ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার মানুষ। এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবারের শেষ ঠাঁই মেলে আত্মীয়-স্বজন বা অন্যের আশ্রয়ে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রায় ২৫০ মিটারের মতো এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে আপদকালীন কাজ জরুরি শুরু করা হবে।

এছাড়া, নদী ভাঙন এলাকাগুলো নিয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে গোয়ালিয়া খোলা এলাকায় ১ কিলোমিটার বাঁধের কাজ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে কাজটি শুরু করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক নদী ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় বিভাগীয় প্রধানকে বলা হয়েছে, তালিকাও করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করবেন। নদী ভাঙনটা রোধ করা না গেলে আরও বেশি ভাঙন সৃষ্টি হবে এবং বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ ও পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মেরামত ও নদীতীর রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনপ্রবণ এ জেলাকে বিশেষ হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নদী সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রবাহ বাড়াতে খাল খননকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে, বলে জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের তুলনায় ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


বিশ্বের তুলনায় ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার যুগে এসে, যখন গিগাবিট গতির ইন্টারনেটকে ভিত্তি করে ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তুলছে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো, বাংলাদেশের জন্য ধীরগতির ইন্টারনেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হচ্ছে। বিগত এক দশকে দেশের ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছালেও, নাগরিকরা উচ্চগতি ও মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সম্প্রতি, বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেশের ইন্টারনেট সেবার মানের করুণ চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে ১০৩টি দেশের মধ্যে ৯১তম এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে ১৪১টি দেশের মধ্যে ৯৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘দি আনফিনিশড ডিজিটাল রেভল্যুশন: এক্সপান্ডিং ইন্টারনেট অ্যাকসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চগতির ইন্টারনেট এখন যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি দেশের উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের প্রায় সব জায়গায় ইন্টারনেটে সংযোগের আওতায় এলেও, ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুসারে, দেশের অধিকাংশ জনগণের কাছে নেটওয়ার্ক পৌঁছালেও, উচ্চমূল্যের ডিভাইস, ডেটা প্যাকেজ ও ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবের কারণে অনেক মানুষ এখনও ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। ২০২৪ সালে ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক দেশের ১০০ ভাগ জনগণের আওতায় পৌঁছাতে পারলেও, বাস্তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেনি মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ।

অর্থাৎ নেটওয়ার্ক কাভারেজ থাকা সত্ত্বেও প্রতি নয়জনের মধ্যে তিনজন এখনও অনলাইনে নেই। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই প্রকৃত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন না, সে কারণগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর ও ন্যায়সংগত নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের জন্য অর্থবহ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে এসব প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৭টি দেশে অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনে কখনো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস পাঠায়নি; বাংলাদেশও ওই তালিকায় রয়েছে।

অবশ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দাবি, দেশে এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ শতাংশ। মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে, দেশে এখন ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগ ও গতির নাজুক অবস্থা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ, রফতানি, প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণেও। বর্তমানে সরকার যখন নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন ধীরগতির ইন্টারনেট বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, পয়েন্ট অব সেল ও কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেটের গতি কম থাকলে লেনদেন সম্পন্ন হতে দেরি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়া এবং একই লেনদেন একাধিকবার সম্পন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশে এখনই ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটানো প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মতো নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে ইন্টারনেটের আওতা বাড়লেও সে অনুপাতে ইন্টারনেটের গতি বাড়ছে না। বিপরীতে উন্নত ও দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি সংযোগের গতিও দ্রুত বাড়ছে। সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, হংকং, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটের গতি সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক মধ্যম ডাউনলোড গতির (মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড) তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবার ওপরে রয়েছে, দেশটির ইন্টারনেট গতি সেকেন্ডে ৬৮১ মেগাবিট। সিঙ্গাপুরে ইন্টারনেট গতি ৪২১ এমবিপিএস। এমনকি নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ভিয়েতনামে প্রায় ১৮৮ এমবিপিএস। বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ৪৩ মেগাবিট, অন্যদিকে ব্রডব্যান্ডে গতি ৬৬ মেগাবিট। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ব্রডব্যান্ডের গতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তরের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। উচ্চ আয় দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। নিম্ন আয় দেশের মাত্র ২৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অর্থাৎ প্রতি চারজনে একজনেরও কম মানুষ অনলাইনে যুক্ত।

নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোয় ইন্টারনেট ব্যবহার ও গতি কম থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আয় ও নিম্ন আয় উভয় ধরনের দেশেই গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের হার শহরের তুলনায় পিছিয়ে। এর প্রধান কারণ হলো অবকাঠামোগত ঘাটতি ও তুলনামূলক কম আয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ ও গতি কম রয়েছে, যার কারণে মানুষ বাজারসংক্রান্ত তথ্য, কৃষিসহায়তা, ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিহেলথ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা ও কর্মসূচিতে সহজে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও গ্রামীণ এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোতে এই বৈষম্য আরও প্রকট।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধীরগতির মোবাইল ইন্টারনেট কেবল ব্যবহারকারীদের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং এটি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ প্রবাহকেও বাধাগ্রস্ত করছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা ও ধীরগতি তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অটোচালককে কুপিয়ে ২ লাখ টাকা নিয়ে পালাল ছিনতাইকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


অটোচালককে কুপিয়ে ২ লাখ টাকা নিয়ে পালাল ছিনতাইকারীরা

রাঙামাটির একটি ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে এক অটোচালককে কুপিয়ে ও মারধর করে আনুমানিক ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে লংগদু উপজেলার মুসলিম ব্লকের সেগুনবাগান এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

আহত ব্যক্তির নাম আমির হোসেন (৩০), যিনি বাইট্টাপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কিছু ব্যক্তি রাস্তার পাশে লাকড়ি তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করে আমির হোসেনকে মুসলিম ব্লকের সেগুনবাগানের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং মারধর করে তার কাছে থাকা আনুমানিক দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। অবশেষে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সেগুনবাগানের ভেতরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর, আমির হোসেন স্থানীয় বাসিন্দা বেলালকে মোবাইলফোনের মাধ্যমে কল করে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানান।

বেলাল বলেছেন, "আমিরের ফোন থেকে কল আসে। সে শুধু বলছিল, আমাকে বাঁচান ভাই।" খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান অটোরিকশাটি রাস্তায় পড়ে রয়েছে এবং আমিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় সেগুনবাগানের ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে।

এরপর স্থানীয়রা আমিরকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আমিরের শরীরে ধারালো ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে অন্যত্র রেফার করা হতে পারে।

এ বিষয়ে লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনআইডি সংশোধন সহজ করতে গঠন হলো কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


এনআইডি সংশোধন সহজ করতে গঠন হলো কমিটি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি সহজ করতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

রবিবার, ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক হাবিবা আখতার সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদনের নিষ্পত্তি কার্যক্রমকে সহজ করতে আবেদনের সাথে সংযুক্ত বা দাখিলকৃত প্রমাণকগুলোর নিরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এ চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালককে (নিবন্ধন ও প্রবাসী) আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির কার্যপরিধিতে নির্দেশিত আছে, কমিটির আওতায় লক্ষ্য করা হবে পরিবর্তনের ধরন কী, তার শ্রেণিকরণ এবং নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় প্রমাণক হিসেবে কোন দলিলগুলোর প্রয়োজন হবে তার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনে প্রমাণক অপর্যাপ্ত থাকার কারণে বাতিল হওয়া এবং পুনঃদাখিলকৃত আবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণক দাখিল করা হলে সেসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ এবং নির্দেশনা দেয়া হবে।

তাছাড়া, ‘ইলেকট্রনিক্যালি অ্যাকশন’ গ্রহণের সময় উদ্ভুত জটিলতা নিরসনের জন্য সিএমএস পোর্টালে কেমন ধরনের মোডিফিকেশন প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতামত প্রদান, এনআইডি আনলক এবং রোলব্যাকের যৌক্তিকতা নিয়েও কমিটিকে সুপারিশ করতে হবে।

বর্তমানে দেশে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটার রয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬, এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%