ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন কে-পপ তারকা ইজে


ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন কে-পপ তারকা ইজে

বিশ্বজুড়ে পরিচিতি অর্জন, অস্কারজয়ী গান এবং সংগীতের সাফল্যের পর, কে-পপ তারকা ইজে এবার ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।

দীর্ঘদিনের প্রেমিক স্যাম কিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। গত ১৭ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’–এর মাধ্যমে ইজে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ‘গোল্ডেন’ গানের জন্য অস্কার জয়ের পর তিনি আবারও আলোচনায় আসেন। এবার বিয়ের খবর প্রকাশ করে ভক্তদের মাঝে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন এই তারকা।

আরও পড়ুন: তানজিন তিশার ক্ষোভ, ফ্যাশন ডিজাইনারের বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তুললেন

সংবাদমাধ্যম ভোগ-এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ইজের বিয়ের স্থানটি তার কাছে বিশেষ স্মৃতিবিজড়িত। ছোটবেলায় এই জায়গাতেই তার দাদা-দাদি বসবাস করতেন। শৈশবের অনেকটা সময় তিনি সেখানে কাটিয়েছেন।

বাড়ির বাগানে ঘুরে বেড়ানো কিংবা পেছনের পাহাড়ে দাদুর সঙ্গে হাঁটাহাঁটির স্মৃতিও ওই স্থানটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাই বিয়ের জন্য এমন একটি স্থান বেছে নেওয়া তার কাছে আবেগের বিষয় ছিল।

বিয়ের সাজে কোরীয় ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন ইজে ও স্যাম কিম। দুজনই পরেছিলেন কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক ‘হানবক’। কনের সাজে ইজের পরনে ছিল সবুজ ও সোনালি রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হানবক। এর সঙ্গে ছিল গাঢ় লাল রঙের দীর্ঘ ও ঘেরওয়ালা স্কার্ট।

পোশাকটির ওপরের অংশটি ‘ডাঙ্গুই’ নামে পরিচিত, যা ঐতিহ্যবাহী জ্যাকেটধর্মী পোশাক। অন্যদিকে, নিচের দীর্ঘ স্কার্টটির নাম ‘চিমা’। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের রং ও নকশায় বিয়ের সাজে ফুটে উঠেছিল কোরীয় সংস্কৃতির স্বতন্ত্র সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন: তানজিন তিশার বিরুদ্ধে নতুন মামলা, বাদীকে হুমকির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে সাফল্যের মধ্যেই ইজের জীবনে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে ঐতিহ্যবাহী সাজে বিয়ে—সব মিলিয়ে তার বিশেষ দিনটি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন দূত উইটকফের পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বুধবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


মার্কিন দূত উইটকফের পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বুধবার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। এর আগে, নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন। বৈঠকের পর, জেলেনস্কি জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আবার কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবারের অসলো বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আলোচনায় যুক্ত হন। আলোচনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা আলোচনাকে ‘খুবই ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় হয়েছে। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট স্টাবও আলোচনায় ‘প্রকৃত অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধৈর্য প্রয়োজন।

উইটকফ এবার অসলোতে আলোচিত প্রস্তাবগুলো পুতিনের কাছে তুলে ধরবেন। ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা মনে করছেন, এসব প্রস্তাবের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান এখন স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় এবং আরও বিস্তৃত বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ তৈরি করা।

গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা কৃতজ্ঞ যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এখন কাজ করছে।’ তাঁর মতে, এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া গেলে হামলার আগে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়।

কিয়েভ আগে অভিযোগ করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য আটকে রাখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা সরবরাহ এবং ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার বিষয় উঠে আসে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রুশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন অভিযানসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবস্থার কিছু সামরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার খবর প্রকাশিত হয়েছে। জেলেনস্কি এ বিষয়ে আরও অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, রাশিয়াও যুদ্ধের অবসান চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। রুশ জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নিয়েও ট্রাম্প সমালোচনা করেছেন।

ইউরোপীয় নেতারা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যেকোনো আলোচনায় ইউরোপেরও উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের প্রস্তাবও অসলোতে আলোচনার অংশ ছিল।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কিয়েভ ও আশপাশের এলাকা, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এবং মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো শহরে হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। বুধবার রাতেও খারকিভের কাছে আরেকটি হামলায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুতিনের সঙ্গে উইটকফের প্রস্তাবিত বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় নতুন অগ্রগতি আনে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমানবন্দরের আয়নায় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ এম


বিমানবন্দরের আয়নায় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

একটি রাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তন হওয়া এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার চরিত্র বদলানো একসাথে ঘটে না। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার চেয়ার পরিবর্তিত হতে পারে, মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে, রাজনৈতিক স্লোগানও পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক আনুগত্য এবং অপরাধের পৃষ্ঠপোষকতার পুরোনো কাঠামো অক্ষত থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তনের সুফল আসবে না। তখন রাষ্ট্রের বাহ্যিক রঙ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু ভেতরের দেয়ালে পুরোনো দাগ রয়ে যায়।

বিরোধী দলে থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা একটি বিষয়, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে নিজের দলের লোকজনসহ সবাইকে একই আইনের আওতায় আনাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমটি রাজনৈতিক বক্তব্য; দ্বিতীয়টি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার পরীক্ষা।

জনগণ কোনো সরকারকে কেবল তার অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য অনির্দিষ্টকাল ছাড় দেয় না। বরং যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি দল ক্ষমতায় আসে, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় সময়ের সঙ্গে। কারণ, জনগণের কাছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল্যায়ন হয় বক্তৃতার মঞ্চে নয়, দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতায়।

একজন যাত্রী বিমানবন্দরে নামবেন, নিজের লাগেজ সংগ্রহ করবেন এবং স্বজনদের জন্য আনা উপহার নিয়ে বাড়ি ফিরবেন—এটি নাগরিক জীবনের একটি সাধারণ প্রত্যাশা। কিন্তু দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলির সংকট, যাত্রী হয়রানি এবং মালামাল চুরির অভিযোগ বারবার সামনে আসলে প্রশ্নটি আর নিছক যাত্রীসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের সক্ষমতা, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে।

বিগত মাফিয়া সরকারের আমলের মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিমানবন্দর শাখার দৌরাত্ম্য কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যাত্রীদের লাগেজ কাটার ভিডিওর বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা কী? অতীতের দুর্নীতি ও এসব প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা কতটা পূরণ হয়েছে?

বিমানবন্দরে অনিয়মের বিরুদ্ধে একজন প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে যে তৎপরতা দেখা গেছে, নাগরিকসেবায় ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও কি একই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে? রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিকের প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য কি না, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রতিবাদের পেছনে থাকা সমস্যাটির বাস্তবতা কতটুকু। প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নের উত্তর যদি প্রশাসনিক ব্যাখ্যার বদলে শুধু পাল্টা আইনি পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

যে দল দীর্ঘকাল রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনের দলীয়করণ এবং বিরোধী মতের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছে, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থেকে তার কাছে জনগণের প্রত্যাশাও বেশি।

সরকার যদি অতীতের রাজনৈতিক হয়রানির সংস্কৃতি থেকে সত্যিকার অর্থে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে—ক্ষমতার পালাবদল শুধু শাসকের পরিচয় বদলায়নি, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতেও পরিবর্তন এনেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিয়ে আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একজন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক জবাবদিহির একটি পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু এখানেই কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ? সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দিলেই কি কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন নিষ্পত্তি হয়ে যায়? পদত্যাগ কি ফৌজদারি তদন্তের বিকল্প, নাকি এটি তদন্তের পাশাপাশি চলার মতো পৃথক কোনো রাজনৈতিক পরিণতি? পদত্যাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক পদটির অবসান ঘটতে পারে; কিন্তু ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, কে নির্দেশ দিয়েছেন, কে অংশ নিয়েছেন, কারা সুবিধা পেয়েছেন এবং কার কী আইনি দায়—এসব প্রশ্নের উত্তর পদত্যাগপত্রের সঙ্গে জমা পড়ে না। জনগণ শুধু পদত্যাগের খবর শুনতে চায় না; জানতে চায়, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত কোথায় পৌঁছেছে। জনগণ শুধু দলীয় শাস্তির ঘোষণাই নয়, পাশাপাশি দেখতে চায়, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে কি না।

বাংলাদেশে পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট শাসনামলের দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই সুবিধাভোগী নেটওয়ার্ক, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও অনিয়মের সুযোগগুলো কতটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে?

দুর্নীতির কাঠামো রাতারাতি তৈরি হয় না। অর্থনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক যোগাযোগ, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্বল জবাবদিহির সমন্বয়ে তা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। সরকার পরিবর্তনের পরও যদি এসব নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পুরোনো সুবিধাভোগীরা নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।

তবে প্রমাণ ছাড়া বর্তমান সরকারকে পুরোনো দুর্নীতির চক্রের পৃষ্ঠপোষক বলে ঘোষণা করাও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়। বরং প্রয়োজন—কোন খাতে কী অনিয়ম ঘটেছে, কারা সুবিধা পেয়েছে, তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তথ্যের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা। সরকার পরিবর্তনের প্রকৃত অর্থ এখানেই। পুরোনো সিন্ডিকেটের সাইনবোর্ড বদলে নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলে সংস্কার হয় না। ক্ষমতার করিডরে নতুন মুখ এলেও পুরোনো নিয়মেই যদি অনিয়মের সুযোগ বহাল থাকে, তবে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি একসময় ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাও তাই শুধু একটি স্থাপনা ভাঙচুরের মামলা নয়; এটি রাজনৈতিক প্রভাব, জনসম্পদ ও জনস্বার্থের প্রশ্নে ক্ষমতাসীনদের দায়বদ্ধতা যাচাইয়ের একটি উপলক্ষ। একইভাবে, বিমানবন্দরের ঘটনাও শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বিমানবন্দর কর্মকর্তার বিরোধ নয়; এটি নাগরিকসেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির এক বিরাট পরীক্ষা।

কিন্তু একটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা যায়—রাষ্ট্র কি ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে এমন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে, যাতে নাগরিকদের মনে দলীয় পরিচয়ভিত্তিক বিচার পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি না হয়?

যদি পুরোনো প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক ভাঙার ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর করতে হয়, তবে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নীতির পরিবর্তে রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টনের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

রাষ্ট্রের পরিবর্তন সেদিনই দৃশ্যমান হবে, যেদিন নাগরিককে আর প্রশ্ন করতে হবে না—কে ক্ষমতাসীন, কে বিরোধী, কে প্রভাবশালী। বরং সবাই নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে : অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই উঠুক, তদন্ত হবে নিরপেক্ষ; অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা হবে আইনানুগ; আর জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রের জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকবে না।

ক্ষমতার পালাবদল তখনই অর্থবহ হবে, যখন ক্ষমতার সঙ্গে দায়বদ্ধতাও বদলাবে। অন্যথায় চেয়ার বদলাবে, সাইনবোর্ড বদলাবে, স্লোগান বদলাবে—কিন্তু নাগরিকের ভাগ্যে সেই পুরোনো অপেক্ষাই থেকে যাবে : ন্যায়বিচারের অপেক্ষা, প্রতিকারের অপেক্ষা আর রাষ্ট্র সত্যিই বদলেছে কি না—তার উত্তরের অপেক্ষা।

লেখক : গবেষক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


ঢাকা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে।

এ তালিকা সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেধা ও সাধারণ—দুই শ্রেণিতে নির্ধারিত হারে মাসিক বৃত্তি এবং বইপত্র ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য এককালীন অর্থ সহায়তা পাবে।

বোর্ডের প্রকাশিত শর্তাবলীর ভিত্তিতে, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩৫০ টাকা করে পাবেন। এছাড়া, বইপত্র ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বছরে এককালীন ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ৪৫০ টাকা পাবেন।

বৃত্তির অর্থ প্রাপ্তির জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই উচ্চ শ্রেণিতে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে বিধি অনুযায়ী বৃত্তির অর্থ উত্তোলন করতে হবে।

এছাড়া, শিক্ষার্থীর সদাচরণ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং সন্তোষজনক পাঠোন্নতির ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে বৃত্তির যোগ্যতা বাতিল হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের ভেতরে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বৃত্তি কার্যকর হবে। অননুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নকাল পাঠবিরতি হিসেবে গণ্য হবে বলেও শর্তাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃত্তিপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থী বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে মাসিক বেতন নিতে পারবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর কাছে বেতন দাবি করে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শর্তাবলিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বৃত্তির সংখ্যা, হার ও মেয়াদ আপাতত নির্ধারিত। প্রয়োজন হলে সরকার কোনো কারণ না দেখিয়েও এসব পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালাহকে ছুঁয়ে ইতোর রেকর্ডের কাছে পৌঁছালেন আশরাফ হাকিমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


সালাহকে ছুঁয়ে ইতোর রেকর্ডের কাছে পৌঁছালেন আশরাফ হাকিমি

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করার রাতে আশরাফ হাকিমি একটি অসাধারণ মাইলফলক অর্জন করেছেন। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) এই মরক্কান রাইট-ব্যাক সতীর্থের গোলের জন্য সহায়তা করে মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। এখন প্রতিযোগিতাটিতে উভয়েরই ১৯টি করে অ্যাসিস্ট রয়েছে।

প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে পিএসজির ৪-২ গোলের বিজয়ে হাকিমির অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে তার অসাধারণ ক্রস থেকে ফাবিয়ান রুইজ বলটি জালে পাঠান। এই মুহূর্তে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে তার ১৯তম অ্যাসিস্টের কীর্তি স্থাপন করেন।

এই পারফরম্যান্সের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে আফ্রিকান ফুটবলারদের মধ্যে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের তালিকায় হাকিমি ও সালাহ যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতো, যার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ২০টি। হাকিমি যদি আর একটি গোল করান, তবে তিনি আফ্রিকান হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ডে ইতোকে স্পর্শ করবেন।

অন্যদিকে, সালাহর বর্তমান ক্লাব তুরস্কের ত্রাবজোনস্পোর এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণ না করায় তিনি ইউরোপের তৃতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা ‘কনফারেন্স লিগে’ অংশ নিচ্ছেন, ফলে আপাতত হাকিমিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তার নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%