প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিভিন্ন শর্তের প্রতিফলন হওয়ার কারণে ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আশাতে আছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই বক্তব্যটি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন যে, গভর্নরের সাথে বৈঠক করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
নতুন মুদ্রানীতিতে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আশাবাদী।
এর আগে, ডলার সংকট মোকাবিলা করার জন্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের সাথে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।
এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। উভয় পক্ষ নতুন ঋণ কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সাথে বৈঠকে বসে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল।
বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সাথে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে তিনি আগের ঋণ কর্মসূচির কিছু সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। জনগণের স্বার্থে নতুনভাবে ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছি। কিস্তির টাকাগুলো নিয়ে আমি চিন্তা করছি না। আগের সরকার যে ঋণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল, তাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি।’
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগের ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। একই সাথে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং পর্যটকদের সুবিধার জন্য ভিসা নীতিতেও পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দফতরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। যদি সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হয়, আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন