০৯:৪৭ পি.এম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন যে, দেশের অধিকাংশ মানুষের হৃদয়ে ইসলাম বিদ্যমান এবং তারা প্রত্যাশা করছেন যে দেশ ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
তিনি দাবি করেন যে, একটি মহলের অতি ক্ষমতার লোভের কারণে দেশে ইসলামী শরীয়াহ তথা ইসলামী হুকুমত কায়েম হয়নি। সেই মহলটি আমেরিকা ও ভারতের অনুকম্পা পেতে নির্বাচনী ইশতেহার থেকে ইসলাম শব্দটি বাদ দিয়েছে এবং ইসলামী শরীয়াহর আলোকে দেশ পরিচালনা করবে না বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেছে।
রবিবার পাবনার কাশিনাথপুরের একটি মাদ্রাসা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাবনা জেলা পূর্ব শাখার আয়োজনে জেলা মজলিসে শুরা অধিবেশনে তিনি প্রধান অতিথি হিসাবে বসে এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
পীর সাহেব চরমোনাই সতর্ক করে বলেছেন, যারা ইসলামের কথা বলে জাতিকে ধোকা দেয় তাদের সম্পর্কে সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন যে, হেকমতের নামে মিথ্যার আশ্রয় ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের মোক্ষদণ্ডন ও কালজয়ী আদর্শ ইসলাম সার্বজনীন। ইসলামের আলোকে নিজেদের আলোকিত করার পাশাপাশি ইসলামের আলোকে দেশ ও সমাজকে আলোকিত করা হল আমাদের কাজ।
তিনি আরো বলেন, দেশ পরিচালনায় ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই এবং এই কথা বার বার বলে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ইসলামের সুন্দর নিয়ম, নীতির পাশাপাশি ভাল দিকগুলো তুলে ধরে জনগণকে আকৃষ্ট করতে হবে। কারণ সমস্ত অশান্তির মূলে অনৈসলামি শাসন ব্যবস্থা রয়েছে। শান্তি ও মুক্তি পেতে ইসলামের বিকল্প নেই।
চরমোনাই পীর মন্তব্য করেন যে, ইসলামের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই। ইসলামের সৌন্দর্য, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণের দিকগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। তাঁর দাবি, সমাজের অস্থিরতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অবক্ষয়ের মূল কারণ হল অনৈসলামিক শাসনব্যবস্থা।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত। বৈষম্য ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামী মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
পাবনা জেলা সভাপতি মাওলানা সেলাইমান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী মো. রাশেদুল ইসলাম এমএসসির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শূরা অধিবেশনে দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমেদ আবদুল কাইয়ূম এবং রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ নুরুন্নাবী বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
সভায় পাবনা জেলা পূর্ব শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়। এতে মাওলানা সোলাইমান জাহাঙ্গীরকে সভাপতি এবং মো. রাশিদুল ইসলাম এমএসসিকে সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন