বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:০০ এম
ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট এবং বল—দুই বিভাগেই পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে। প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের অসাধারণ ১৬০ রানের ইনিংসের উপর ভিত্তি করে সফরকারীরা ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড অর্জন করে।
এর পর, পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খান ও আলি উসমান তাদের ঘূর্ণি বোলিংয়ে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে দেন। ফলে পাকিস্তানের সামনে ৭৫ রানের একটি সহজ লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা তারা ২৩.৩ ওভারেই মাত্র দুটি উইকেট হারিয়ে অতিক্রম করে। ফলে সিরিজটি ড্র হলো।
ম্যাচের ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম ইনিংসে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪৪ রান সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা বড় একটি সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করে। জাস্টিন গ্রিভস ৭৩ এবং অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৭০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে। ব্রেন্ডন কিং ৪৬ রান করেন এবং শাই হোপ ২৯ রান যোগ করেন। কিন্তু কেউই ইনিংসকে শতকের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি।
পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অফস্পিনার সাজিদ খান। তিনি ৩২.৪ ওভারে ৮৫ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন। একইভাবে কার্যকর ছিলেন আলি উসমান, যিনি ৩৫ ওভারে ৮০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। মোহাম্মদ আলি এবং উবাইদ শাহও ২টি করে উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।
বিপরীতে, পাকিস্তানের শুরুটা খুব ভালো হয়নি। তারা ৩৪ রানেই ইমাম-উল-হককে হারায়। তবে আজান আওয়াইস এবং আবদুল্লাহ শফিক দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রানের একটি জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত্তি স্থাপন করেন। আজান ৫৫ রান করে আউট হন, তবে শফিকের সঙ্গে বাবর আজম ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১৮৩ রান যোগ করেন। বাবর ১৪৭ বলে ৮৮ রানের ভালো ইনিংস খেলেন, তবে শতকের অপেক্ষা করেই রানআউট হন। অন্যদিকে, আবদুল্লাহ শফিক ৩২৩ বল মোকাবিলা করে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় অসাধারণ ১৬০ রানের ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৮ এবং সাজিদ খান ৩০ রান করে পাকিস্তানকে ৩৮৭ রানে পৌঁছে দেন। ফলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের মূল্যবান লিড গ্রহণ করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জোমেল ওয়ারিকান দারুণ বোলিং করেন, যিনি ৪৬ ওভারে ১১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেন। শামার জোসেফ ২টি এবং জেইডেন সিলস ১ উইকেট পান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে অসহায় আত্মসমর্পণ করে। উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান ওঠার পর তারা একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে। কেভেম হজ সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। রোস্টন চেইজ ১৭, শাই হোপ ১৫ এবং ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ১৭ রান করেন; কিন্তু আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারলেন না। ইনজুরির কারণে ব্র্যান্ডন কিং, যিনি প্রথম ইনিংসে ৪৬ রান করেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি।
ফলস্বরূপ, ৪৬.১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায়। পাকিস্তানের পক্ষে আবারও দারুণ পারফরমেন্স করেন সাজিদ খান এবং আলি উসমান, যিনি ১৯.১ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এবং সাজিদ খান ১২ ওভারে ৩২ রান খরচায় সমান সংখ্যক উইকেট নেন। মোহাম্মদ আলি নেন বাকি একটি উইকেট।
৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারান। ইমাম-উল-হক ৯ এবং আজান আওয়াইস ১৮ রান করে ফেরেন। তবে আবদুল্লাহ শফিক এবং বাবর আজম কোন নাটকীয়তার সুযোগ না দিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
শফিক ৫১ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ২৪ রান করেন এবং বাবরও ৩০ বলেই ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। ২৩.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ রান তুলে পাকিস্তান ৮ উইকেটের জয়ের নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ, দুই ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট মিলিয়ে পাকিস্তানের হয়ে সর্বাধিক ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ইমরান খানের রেকর্ডের পাশে নিজের নাম লেখান বাবর আজম। শান মাসুদের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন এই ব্যাটার ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ শুরুর আগে।
তিনি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে চার ইনিংসে ৯৬.৫০ গড়ে মোট ১৯৩ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে সিরিজ শেষ করেন। তবে সিরিজের শুরুতে বাবরের পারফরম্যান্স খুব একটা আহামরি ছিল না। প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র ২৩ রান করেন। তবে এরপর, সফরকারী দলের রান তাড়া করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাঝে তিনি একটি লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরি উপহার দেন।
পরের ম্যাচেও বাবর সেই লড়াকু মানসিকতা ধরে রাখেন এবং প্রথম ইনিংসে ৮৮ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যা পাকিস্তানকে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দিতে বড় ভূমিকা পালন করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষ ম্যাচে তিনি মাত্র ৩০ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দুটি ছক্কা ও দুটি চার। এই ইনিংসটি দলের ৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা সহজে টপকে যেতে সহায়তা করে।
তার এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে যৌথভাবে ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কারটি জিতে নেন। গ্রিভস চার ইনিংসে ১১১ রান করার পাশাপাশি সাতটি উইকেটও শিকার করেন; যার মধ্যে প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে নেওয়া পাঁচ উইকেটও রয়েছে।
যৌথভাবে পাওয়া এই ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কারটি ছিল বাবরের টেস্ট ফরম্যাটে প্রথম। এর ফলে তার মোট পুরস্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ। এর আগে তিনি টি-টোয়েন্টিতে পাঁচবার এবং ওয়ানডেতে চারবার এই সম্মাননা অর্জন করেন।
এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে সর্বাধিক ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কার জয়ীদের তালিকায় ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তিদের রেকর্ডের সমান অবস্থানে পৌঁছান। এই তালিকায় ওয়াকার ইউনিসের নামও রয়েছে, যিনি মোট নয়বার এই পুরস্কার জিতেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি এ সময় বলেছেন, দেশের মানুষ বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্য চায়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শহীদ আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস এবং গণতন্ত্রের প্রতি অটল অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অন্যান্য অধ্যায়। শহীদদের এই আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি জনগণের ভোটাধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত। তাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
শামা ওবায়েদ বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামেননি, তারা দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন, সন্ত্রাস, নির্যাতন ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই আন্দোলন করেছিলেন। এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়।
নগরকান্দা ও সালথার মানুষের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের মানুষ সবসময় অন্যায়, অবিচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। ভবিষ্যতেও জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অপচেষ্টা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিহত করা হবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জাজরীস ও বদরুজ্জামান তাঁরা, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নগরীর আলুপট্টি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ সাকিব আনজুমের পরিবারের সঙ্গে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
সাক্ষাৎকালে পুলিশ কমিশনার শহীদ সাকিবের বাবা-মায়ের বক্তব্য শোনেন এবং হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল-পরবর্তী সকল আইনগত প্রক্রিয়ায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এছাড়াও পরিবারের বসতভিটা সংক্রান্ত প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলমান বিরোধের বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন কমিশনার।
এ ছাড়াও পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় শহীদ সাকিব আনজুমের পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কমিশনারের আগমনে আন্তরিক সন্তোষ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত সম্পন্নকরণ, নিয়মিত খোঁজ-খবর গ্রহণ এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) নাসিদ ফরহাদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মোসা. আরজিনা খাতুন, মিডিয়া সেলে কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নোমান প্রমুখ।
এদিকে, পুলিশ কমিশনারের শহীদ পরিবারের বাড়িতে এসে খোঁজ-খবর নেওয়া ও তাদের আশ্বস্ত করায় শহীদের এলাকা জুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত 'জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও অবদান যথাযথভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তথ্যচিত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা থেকে থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীরও এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হচ্ছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসের যথার্থতা ও পূর্ণাঙ্গতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে তথ্যচিত্রটি সংশোধন করে শিগগিরই পুনরায় জনসম্মুখে উন্মুক্ত করা হবে।
এতে বলা হয়, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা, ৯ দফা কর্মসূচি, ৩ আগস্ট ঘোষিত এক দফা এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাবলির যথাযথ প্রতিফলন না হওয়া ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।
কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা কোনো পক্ষের ভূমিকা খাটো করা, উপেক্ষা করা বা ইতিহাসের কোনো অংশকে আড়াল করার কোনো উদ্দেশ্য মন্ত্রণালয়ের ছিল না এবং নেই।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তথ্যভিত্তিকভাবে সংরক্ষণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং আন্দোলনের প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ করে তথ্যচিত্রটি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সংশোধিত তথ্যচিত্র দ্রুত পুনরায় জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হবে, যাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, ঘটনাপ্রবাহ, সংশ্লিষ্ট সবার গুরুত্বপূর্ণ অবদান, যথাযথ মর্যাদা ও ঐতিহাসিক সত্যতা নিষ্ঠার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়।
এতে আরো বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য আবারও আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে সবার গঠনমূলক মতামত, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা কামনা করছে। সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইতিহাস সংরক্ষণই মন্ত্রণালয়ের অঙ্গীকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ