প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট এবং বল—দুই বিভাগেই পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে। প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের অসাধারণ ১৬০ রানের ইনিংসের উপর ভিত্তি করে সফরকারীরা ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড অর্জন করে।
এর পর, পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খান ও আলি উসমান তাদের ঘূর্ণি বোলিংয়ে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে দেন। ফলে পাকিস্তানের সামনে ৭৫ রানের একটি সহজ লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা তারা ২৩.৩ ওভারেই মাত্র দুটি উইকেট হারিয়ে অতিক্রম করে। ফলে সিরিজটি ড্র হলো।
ম্যাচের ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম ইনিংসে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪৪ রান সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা বড় একটি সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করে। জাস্টিন গ্রিভস ৭৩ এবং অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৭০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে। ব্রেন্ডন কিং ৪৬ রান করেন এবং শাই হোপ ২৯ রান যোগ করেন। কিন্তু কেউই ইনিংসকে শতকের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি।
পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অফস্পিনার সাজিদ খান। তিনি ৩২.৪ ওভারে ৮৫ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন। একইভাবে কার্যকর ছিলেন আলি উসমান, যিনি ৩৫ ওভারে ৮০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। মোহাম্মদ আলি এবং উবাইদ শাহও ২টি করে উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।
বিপরীতে, পাকিস্তানের শুরুটা খুব ভালো হয়নি। তারা ৩৪ রানেই ইমাম-উল-হককে হারায়। তবে আজান আওয়াইস এবং আবদুল্লাহ শফিক দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রানের একটি জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত্তি স্থাপন করেন। আজান ৫৫ রান করে আউট হন, তবে শফিকের সঙ্গে বাবর আজম ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১৮৩ রান যোগ করেন। বাবর ১৪৭ বলে ৮৮ রানের ভালো ইনিংস খেলেন, তবে শতকের অপেক্ষা করেই রানআউট হন। অন্যদিকে, আবদুল্লাহ শফিক ৩২৩ বল মোকাবিলা করে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় অসাধারণ ১৬০ রানের ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৮ এবং সাজিদ খান ৩০ রান করে পাকিস্তানকে ৩৮৭ রানে পৌঁছে দেন। ফলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের মূল্যবান লিড গ্রহণ করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জোমেল ওয়ারিকান দারুণ বোলিং করেন, যিনি ৪৬ ওভারে ১১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেন। শামার জোসেফ ২টি এবং জেইডেন সিলস ১ উইকেট পান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে অসহায় আত্মসমর্পণ করে। উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান ওঠার পর তারা একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে। কেভেম হজ সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। রোস্টন চেইজ ১৭, শাই হোপ ১৫ এবং ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ১৭ রান করেন; কিন্তু আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারলেন না। ইনজুরির কারণে ব্র্যান্ডন কিং, যিনি প্রথম ইনিংসে ৪৬ রান করেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি।
ফলস্বরূপ, ৪৬.১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায়। পাকিস্তানের পক্ষে আবারও দারুণ পারফরমেন্স করেন সাজিদ খান এবং আলি উসমান, যিনি ১৯.১ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এবং সাজিদ খান ১২ ওভারে ৩২ রান খরচায় সমান সংখ্যক উইকেট নেন। মোহাম্মদ আলি নেন বাকি একটি উইকেট।
৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারান। ইমাম-উল-হক ৯ এবং আজান আওয়াইস ১৮ রান করে ফেরেন। তবে আবদুল্লাহ শফিক এবং বাবর আজম কোন নাটকীয়তার সুযোগ না দিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
শফিক ৫১ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ২৪ রান করেন এবং বাবরও ৩০ বলেই ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। ২৩.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ রান তুলে পাকিস্তান ৮ উইকেটের জয়ের নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ, দুই ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন