০১:২৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি যাতে ইসরাইল কোনো পরিস্থিতিতেই নস্যাৎ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুল শহরে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি পরিষ্কার করে জানান, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা এবং অবদান ছাড়া তৈরি হওয়া কোনো সমাধান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরাইলি প্রশাসন অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ইসরাইল সরকারকে যুদ্ধ-আসক্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হুঙ্কার দেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ-আসক্ত ইসরাইলি সরকারকে আমাদের ভূগোলকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।’
আরও পড়ুন: সততার কারণে এক বছরে দুই বার বদলি
তুর্কি নেতা এর আগেও একাধিকবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে, গাজার হামলা, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অবিরত হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।
গত ১৭ জুন কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এরপর, চুক্তির বাস্তবায়ন কিভাবে হবে, সেই বিষয়ে গত মাসের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে কারিগরি বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বসেন। বৈঠকে বেশ কিছুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বৈঠকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করা হয় পাকিস্তান ও কাতারের তরফ থেকে।
বিষয়টি পরবর্তীতে, লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলার কারণে আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হয়। এর ফলে নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়। এমনকি নৌ চলাচলে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর, গত সপ্তাহে কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: গ্রিস ও সাইপ্রাসের পার্লামেন্টে ইসরায়েলের সহযোগিতামূলক কমিটি গঠন
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে ইরানের শীর্ষ আলোচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে অংশ নেননি। ইরানের পক্ষে কারিগরি দলের নেতৃত্ব দেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বৈঠকে প্রধানত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ এবং লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে ইরানি গণমাধ্যমকে শিক্ষামূলক বক্তব্যে কাজেম গারিবাবাদি জানান, দোহায় দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের’ বিষয়টি উত্থাপন করে ইরান। এই সময়, ভবিষ্যতে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করতে উভয় পক্ষ এক সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা বা যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হয়।
দ্বীতিয় বৈঠকে বিদেশে জব্দ যাওয়া ইরানের ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা এই অর্থ ছাড়ার বিষয়ে তেহরান দাবি জানিয়ে আসছে। উভয় পক্ষ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: জুমার নামাজের পর আল-আকসা মসজিদের খতিবকে গ্রেপ্তার করলো ইসরায়েলি বাহিনী
যদিও বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের রক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জব্দ অর্থ ছাড়সহ বাণিজ্যিক বিষয়গুলোর আলোচনা অব্যাহত থাকলেই নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির আশার জন্ম দিতে পারে। খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শেষে আগামী ১১ জুলাই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হবে, এমন তথ্য উরিষ্ঠ করেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন