ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯


উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. ইউসুফ (২৬), মো. খোরশেদ (২৫), মো. আরমান (২৬), মোছা. মারজান ওরফে নিপা (২২), শিরিন আক্তার (২৫), তানিয়া আক্তার (২১), মো. রাব্বি (১৯), মো. ফরহাদ (২৬), মো. সোহান রহমান (২৪), মো. হাসান (৩২), মো. মনির হোসেন (২৮), মো. খোরশেদ আলম (৪২), মো. আপন হোসেন (২০), মো. শাকিল (২৯), মো. শাকিল সরকার (২১), মো. তানভীর হাসান রিফাত (২১), মোছা. সাদিয়া (২০), সিয়াম খান (২২) ও মো. জিয়াউর রহমান (২৫) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনের বরকত পেতে ১৫টি আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


জুমার দিনের বরকত পেতে ১৫টি আমল

জুমার দিন, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন।

এ কারণে জুমার দিনে মুমিনদের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব এক সুখ ফুটে উঠতে দেখা যায়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এই দিনটি বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমলের জন্য পরিচিত, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে দেখা যায়। নিম্নে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো––

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)

জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করতেন, কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির আলোচনা, পুনরুত্থান এবং কিয়ামতের দিনে সমবেত হওয়ার বিষয়গুলি উল্লেখিত হয়েছে। এই Sসুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।"

কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এই দিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসাথে সমবেত হন। যারা জুমার নামাজকে অলসতা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যা বলে, "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।" (তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, "আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমামের জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, 'চুপ থাকো' সে একটি অনর্থক কাজ করল।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।" (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে 'সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা' ও 'হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ' সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, "কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করতে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, "জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে। এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তা দান করেন।" তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সান্তোসকে জেতানোর পর প্রতিপক্ষের ‘হৃদয়ও’ জিতলেন নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


সান্তোসকে জেতানোর পর প্রতিপক্ষের ‘হৃদয়ও’ জিতলেন নেইমার

বল যেন তার কথা শোনে! তা না হলে এমন অবিশ্বাস্য পাসটা কীভাবে দিতে পারেন নেইমার জুনিয়র। এই পাসটি চোখে লেগে থাকা এক বিশেষ পাস।

কনমেবল সুদামেরিকানার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ক্লাব দেপোর্তিভো মাকারার বিপক্ষে ম্যাচে ফিরতে যখন সান্তোস মরিয়া হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই ম্যাচের ৪৪ মিনিটে নেইমার এই অবিশ্বাস্য পাসটি করেন। ডি বক্সের বেশ বাইরে থেকে তিনি সতীর্থর কাছ থেকে পাওয়া বলকে বাঁ পায়ে আলতো টোকা দিয়ে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের মাথার ওপর দিয়ে, ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার খেলা শুরু করেন।

ডি-বক্সে ঢুকে ফাঁকা জায়গা পেয়ে গ্যাব্রিয়েল বারবোসা সুবিধামতো বল পান।

এমন অনিন্দ্য পাস পেয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তিনি জালের পথ দেখান। ফলে সান্তোস ১-১ গোলে সমতায় ফেরে।

৭৬ মিনিটে আবারো একটি অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। এবার কর্নার থেকে দেওয়া অ্যাসিস্টে গোল করেন উইলিয়ান আরাও।

সেই গোলে পরে ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে হাসিমুখে মাঠ ছাড়েন নেইমাররা। লিডটি আরো বড় হতে পারত, যদি না দুটি গোল বাতিল না হতো। এর আগে ম্যাচের ৫ মিনিটে ফ্রাঙ্কো পোজের গোলে লিড নিয়েছিল ইকুয়েডরের ক্লাব মাকারা।

অ্যাসিস্ট করে সান্তোসের হৃদয় জিততে সক্ষম হন নেইমার। ঠিক তেমনি, ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও সেলফি তোলার আবেদন মিটিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

রেফারি শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মাকারার খেলোয়াড়রা লাইন ধরেন ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের সঙ্গে সেলফি তুলতে। হাসিমুখে সেই আবদার মিটিয়েছেন তিনি। সেলফি তোলার সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মুখে তৃপ্তির হাসি ছিল। দেখে বোঝার উপায় ছিল না কিছুক্ষণ আগে নেইমারের কাছেই তাদের পরাজয় ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজও ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


আজও ঢাকার বাতাস মাঝারিমানের

বিশ্বে জলাবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় দিন দিন বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাংলাদেশ রাজধানী ঢাকার অবস্থান বায়ুদূষণের তালিকায় ২১তম।

ঢাকার বায়ুমান স্কোর ৯০ রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের এই অবস্থার মানকে মাঝারিমানের বলা হচ্ছে। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবারও ঢাকায় বাতাস ছিল মাঝারিমানের।

এছাড়া, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বায়ুদূষণের তালিকায় ১৮৬ স্কোর নিয়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা দূষণের শীর্ষে রয়েছে, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া ১৭৬ স্কোর নিয়ে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা রয়েছে, যার স্কোর ১৭২।

এর পরের অবস্থানে আছে কাতারের দোহা, পাকিস্তানের লাহোর, বাহারীনের মানামা এবং কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, যা দূষণে ওপরের দিকে রয়েছে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ বলে মনে করা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বায়ুর মান ধরা হয় ‘মাঝারি বা সহনীয়’। আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ফলাফল থাকে।

অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে ধরা হয়। তাছাড়া, স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
হবিগঞ্জ

গ্যাস সংকটে ১৭১ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০২ এম


গ্যাস সংকটে ১৭১ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ১৫ দিন ধরে চাহিদার তুলনায় অল্প গ্যাস পাওয়া গেলেও বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এতে করে সংশ্লিষ্টভাবে ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের উৎপাদন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষত, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।

উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানিয়েছেন, তাদের শিল্পপার্কে মোট ছয়টি কারখানা রয়েছে। টায়ার ও পাওয়ার প্লান্ট ছাড়া অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানই সম্পূর্ণরূপে রপ্তানিমুখী।

শিল্পপার্কে শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষ কাজ করেন। কারখানাগুলোর দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের চাহিদা ১৩ দশমিক ৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ কয়েকদিন ধরে মাত্র ৩ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। এতে উৎপাদন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বুধবার রাত ১২টা থেকে সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

স্টার সিরামিকসের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা পল্লব জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন ধরে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। বুধবার দুপুর থেকে তা পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক আবুল বাশার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৩ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ৩৮ হাজার মেট্রিক টন সুতা উৎপাদন হতো। বর্তমানে পুরো উৎপাদন বন্ধ, ফলে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলার ক্ষতি হচ্ছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকা।

হবিগঞ্জের স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফরাস দেবনাথ জানান, কিছু দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ঠিকভাবে করা যাচ্ছিল না। এখন গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানার কাজও বন্ধ রয়েছে এবং তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এসে অলস সময় পার করছেন। এভাবে দীর্ঘদিন চললে তাদের আয়-রোজগার ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জের সব শিল্প-কারখানায় একইভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো গ্যাস পাচ্ছে। তিনি জানান, আমাদের গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কিছু কিছু কোম্পানিতে এখনও গ্যাস সরবরাহ চলছে। তাহলে একই এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ভিন্নতা কেন? এটা বৈষম্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গ্যাস সংকট যদি জাতীয় সমস্যা হয়, তাহলে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত। কোন প্রতিষ্ঠান গ্যাস পাবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান গ্যাস পাবে না—এ ধরনের বৈষম্য শিল্প খাতের জন্য আরও সংকট তৈরি করবে।

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ) মহাব্যবস্থাপক দীপক কুমার দেব জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকট চললেও বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সরবরাহ একেবারে শূন্য হয়ে গেছে, ফলে শিল্পপার্কের সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

স্কয়ার ডেনিমের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মাজেদ বলেছেন, তাদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। কিন্তু বুধবার বিকেল তিনটা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে কারখানার প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বায়ারদের অর্ডার নেওয়া আছে, কিন্তু এখন উৎপাদন করা যাচ্ছে না। সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একসময় বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী। কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে রপ্তানিমুখী।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। গ্যাস না থাকায় ক্যাপটিভ পাওয়ারও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ ও উৎপাদন—দু’দিক থেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিল্প-কারখানাগুলো।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই গ্যাস সংকট শুরু হয়। প্রথমদিকে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও কোনোভাবে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু বুধবার থেকে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ কমানো বা বন্ধের বিষয়ে একাধিক চিঠি দিয়েছে। তবে কেন সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে চিঠিগুলোতে স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর।

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী জানান, গ্যাস সংকট জাতীয় সমস্যা। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকেই এ সংকট শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কারণে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমাতে হয়েছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ক্রেতাদের আস্থা—সব কিছুই ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। উদ্যোক্তারা শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%