০৬:৫৬ পি.এম
মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, যেকোন মূল্যে ব্ল্যাক বেঙ্গলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যখন সরকার ব্ল্যাক বেঙ্গাল ছাগল সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতি জেলায় একটি করে খামার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপির এমপির ফুলেল শুভেচ্ছা, সাধারণ সম্পাদককে শোকজ
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত “মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা” অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল আমাদের দেশের হাজার বছরের ইতিহাস। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনে।
বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাগলের কৃত্রিম প্রজনন, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং দরিদ্র নারীদের বিনামূল্যে ছাগল উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তী সরকারগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ প্রকল্প পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতটি এখন বিলুপ্তির পথে রয়েছে।
এছাড়া, দেশে দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে মহিষ খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মহিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মহিষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত জাত সংরক্ষণ এবং খামারিদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে গবেষণা জরুরি।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪ নেতা গ্রেফতার
মন্ত্রী আরও বলেন, গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি যদি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে দেশের দুধ ও মাংস উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে এবং খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। উন্নত দেশগুলোতে মহিষ দুধের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। আমাদের দেশের চরাঞ্চলে কৃষিকাজ তুলনামূলকভাবে কম হয়। তার মতে, লবণাক্ত মাটির জন্য উপযোগী, লবণ সহিষ্ণু জাতের ঘাস চাষের মাধ্যমে মহিষ পালনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে মন্ত্রী সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে কৃষিকাজের জন্য জায়গার স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তাই কম জায়গায় কীভাবে মহিষ পালন করা যায় সে বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এছাড়া, তিনি এই দিকেও ইঙ্গিত করেছেন যে, আগামীতে গবেষণা খাতে আরো বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া দেশ যে এগিয়ে যেতে পারবে না। তবে প্রকৃত অর্থে গবেষণা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
গবেষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে যান। আপনাদের পূর্বপুরুষেরা ভালো কিছু করেছেন বিধায় এখন আপনারা তার সুফল ভোগ করছেন। তিনি আরো বলেন, পাহারা দিয়ে গবেষণা করানো সম্ভব নয়, এটি আপনাদের ভেতর থেকেই আসতে হবে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে কালীবাড়ি ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলে বিস্ফোরণে ৫ জন দগ্ধ
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন