প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটে সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটার পর পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘর্ষের সময় মূল অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা করে এবং অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
মামলার তদন্তের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে নন্দিনী নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে ভুট্টাখেত থেকে তার মরদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটির নিচে পাওয়া যায়।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির চাচা (পারিবারিক সম্পর্কে) বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। কিন্তু আটক করার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বিধানের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনও সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসন স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এর ফলে ডিসি, এসপি এবং ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, 'ভুট্টাখেতে শিশুটির লাশ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনগণ বাধা প্রদান করে। পরে বিজিবি ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে আমরা সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে আসামিকে নিয়ে আসার সময় অতর্কিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।'
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, 'আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।'
তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন