০৭:১৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মাঝে সংঘাত নিরসনের চুক্তি ঘোষণার পরেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুসারে, গত রবিবার চুক্তি ঘোষণার পর থেকে এই জলপথের মাধ্যমে মাত্র সাতটি জাহাজ ওমান উপসাগরের দিকে অতিক্রম করেছে।
বিবিসি ভেরিফাই জানাচ্ছে, এই সময়ে প্রণালী অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি ছিল তেলবাহী ট্যাংকার এবং বাকি চারটি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে, যদিও সমঝোতা ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিল একাধিক সংগঠন
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হচ্ছে, সাতটি জাহাজের মধ্যে একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ট্যাংকার তার অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে প্রণালী অতিক্রম করেছে। বাকি ছয়টি জাহাজ তাদের অবস্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু রেখেই গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ ‘দিশা’ ছিল প্রণালীটি দিয়ে ট্রান্সপন্ডার চালু অবস্থায় প্রথম অতিক্রমকারী জাহাজ। বর্তমানে এটি আরব সাগর পেরিয়ে ভারতের গুজরাট রাজ্যের দাহেজ বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
বিবিসি ভেরিফাই এমন একটি ভিডিও পর্যালোচনা করেছে, যেখানে জাহাজটির হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি অনলাইনে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, এটি কাছাকাছি থাকা অন্য একটি জাহাজ থেকে ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চুক্তি ঘোষণার পরেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক কম। মার্চ মাসের শুরু থেকেই সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৫ বাংলাদেশি সাংবাদিক ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিতে চীন যাচ্ছেন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে এই সংখ্যা দৈনিক ১০০টিরও বেশি ছিল।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালীর ভূমিকা অপরিসীম। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তাই এই জলপথে স্বাভাবিক নৌ চলাচল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে স্বস্তি আনলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রয়োজন সময়। বীমা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন: জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন