০৮:১১ এম
হতাশার ড্রয়ে শুরু হলো ব্রাজিলের হেক্সা মিশন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ সি'র প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মরক্কো।
১১ মিনিট পর দারুণ এক গোলে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বল পজেশন আর শট নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে লড়াই ছিল প্রায় সমান। ব্রাজিল ৫১ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখে ১৩টি শট নিয়েছে, যার ৫টি লক্ষ্যে গেছে, অন্যদিকে মরক্কোর ১৪ শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কোর চমৎকার গতি এবং পরিকল্পিত আক্রমণে ব্রাজিলকে দিশেহারা মনে হচ্ছিল। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা মাঠে প্রবেশের পর থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়লেও, তারা যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি ২৭ অক্টোবর
এই ম্যাচে ভিনি জুনিয়রকে ফিফার পক্ষ থেকে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ব্যক্তিগত ভুলে ভরা নিষ্প্রভ এক ম্যাচে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই যেন ব্রাজিলের খেলায় প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। বাঁ প্রান্ত ধরে তার একক নৈপুণ্য কিংবা গ্যালারির দর্শকদের উজ্জীবিত করার আহ্বান—ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের মূল কারিগর ছিলেন এই উইঙ্গার।
জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচে ভিনি পেয়েছেন নিজের দশম গোল; যা ছিল রিয়াল মাদ্রিদে তার খেলা স্টাইলের প্রতিচ্ছবি। প্রতিপক্ষের ডাবল মার্কিংয়ের মুখে বল পেয়েও ভিনি দমে যাননি; একক দক্ষতার প্রদর্শন করে ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল দেওয়া-নেওয়া করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নিজেকে নিয়ে যান। এরপর আইনাউইকে অনায়াসে ড্রিবল করে কাটানোর পর ইয়াসিন বুনোর নাগাল এড়িয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
ম্যাচ শেষে ‘জিই টিভি’কে ভিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রথমার্ধে আমরা খুব বাজেভাবে শুরু করেছিলাম, যা পরিস্থিতি অনেক কঠিন করে তুলেছিল। গোল খেয়ে বসার পর বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ছন্দে ফেরা সবসময়ই কঠিন। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে, কারণ এটি বিশ্বকাপ; এখানে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।’
দলের উন্নতির জায়গা নির্দেশ করে ভিনি যোগ করেন, ‘আমাদের আরও বেশি বল দখলে রাখতে হবে, একপাশ থেকে অন্যপাশে পাস দিয়ে খেলা সচল রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় প্রতিপক্ষ রক্ষণে মনোযোগ দেবে এবং পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবে। আপাতত বেশি কিছু বলার নেই, আমাদের কাজ করে যেতে হবে কারণ পরের ম্যাচটি খুব দ্রুতই আসছে।’
আরও পড়ুন: গাড়িচাপায় দুই পা হারালেন অস্ট্রেলীয় এমপি হেলেন হেইনস
দ্বিতীয়ার্ধে যদিও ব্রাজিল ও মরক্কো—উভয় দলই খুব একটা কার্যকর ফুটবল খেলার সক্ষমতা রাখতে পারছিল না, তবে ব্রাজিলের সেরা সুযোগটি তৈরি হয়েছিল ভিনির পা থেকেই। ভিনির বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে রাফিনিয়াকে ব্যাকপাস দিয়েছিলেন তিনি, যেখান থেকে গোলের জন্য একটি ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
এমনকি রক্ষণভাগেও ভিনির পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। প্রথমার্ধে রাফিনিয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার দায়িত্ব ছিল রক্ষণে সহযোগিতা করা। তবুও ভিনিসিয়ুস একাই চারবার বল রিকভার করেছেন। মাঠে তিনি ৩টি ফাউল করেছেন এবং ফাউলের শিকার হয়েছেন ২ বার।
‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচটি ২০ জুন হাইতির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬.৩০ মিনিটে গ্রুপপর্বের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে সেলেসাওরা।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন