০২:১৪ পি.এম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকার আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি রবিবার সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় অল্প সময়ে বড় পরিবর্তন আনার সম্ভবনা নেই। তবে সঠিক পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে কাজ করলে আগামী কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা আছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি এ সময় জানালেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এসেছে, তা ছয় মাসের মধ্যে জানার দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, শিক্ষা কোনো পোশাক পরিবর্তনের মতো নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের দুর্বলতা দূর করার উপরে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী মৌলিক বাংলা ও পড়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ সমস্যা সমাধানে রিমিডিয়াল এডুকেশন বা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তামূলক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন, যদি কোনো শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, কিন্তু সে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রয়োজনীয় পড়াশোনা না জানে, তাহলে তাকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা দেওয়া কঠিন। তাই শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার।
তিনি জানান, আউট অব স্কুল চিলড্রেন কমিয়ে সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নন ফরমাল এডুকেশন ব্যুরোর বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি স্কুলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার পাইলট কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মানবসেবাই আসল ধর্ম: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য
মিড ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কেও তিনি কথা বলেন। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচিতে যেসব সমস্যা দেখা গেছে, সেগুলো শনাক্ত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, একটি পাইলট প্রকল্প সফল হয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু বাস্তবায়নের পরিমাণ নয়, বরং এর মাধ্যমে কতগুলো সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও, পিইডিপি ৫ নিয়ে নতুনভাবে কাজ করার কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে প্রকল্পগুলিকে আরও যৌক্তিক ও কার্যকর কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পিইডিপি ৫-এর আওতায় থাকা কার্যক্রমগুলো থাকবে, তবে সেগুলোকে আরো কার্যকর ও অপারেশনাল কাঠামোয় সাজানো হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা সমীক্ষামূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে তুলতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্টিম শিক্ষা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড
তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব চালুর পাশাপাশি কারিকুলামে সায়েন্স টয়েজ ও ডিজাইনভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে গণিত, বিজ্ঞান ও নকশার বিষয়গুলোর ওপর শিক্ষার সুযোগ পাবে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পুরো প্রশাসনিক ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ জন্য নতুন শিক্ষক সম্পর্কিত নীতি এবং বিভাগীয় পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও পুরো কমিউনিটির কল্যাণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নয়, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্কুল ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে।
ববি হাজ্জাজ নোট করেছেন, সরকারের শিক্ষা বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, এনসিটিবি, নেপ, বিএনএফই এবং সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সবার কাছ থেকে সৎ ও বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স
তিনি আরো বলেন, ডাটা ডিপেন্ডেন্ট ও এভিডেন্স বেজড পদ্ধতিতে কাজ করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা থাকলে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন