০২:১৫ পি.এম
তারকাদের জীবন মানেই আলো, ক্যামেরা এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সদা যোগাযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে যোগযোগ, কাজের প্রচারণা অথবা ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া- সবে স্মার্টফোনই এখন সঙ্গী। কিন্তু পরিচিত এই অভ্যাস থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল।
তিনি প্রায় এক বছর যাবত স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন না। বরং প্রায় এক বছর থেকেই তিনি ‘ডাম্ব ফোন’ বা সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। এমনকি ভবিষ্যতে সাধারণ মোবাইল ফোনটিও নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা করেছেন।
ফাহাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সময়কে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করার ইচ্ছা। অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা এবং মনোযোগ নষ্ট করা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহার অনেকটাই কমিয়েছেন।
আরও পড়ুন: হাজার ডিসেম্বর গেলেও হাসিনা ফিরবেন না : রাশেদ খাঁন
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘মারিসান’ সিনেমার প্রচারণার একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছেন, তিনি প্রায় এক বছর অবধি সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করে আসছেন।
ফাহাদের পরিকল্পনা আরও বিশাল। আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার আশা রাখছেন। তখন শুধুমাত্র ই-মেইলের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা, এ বিষয়ে তিনি নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
তবে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না ফাহাদ। প্রয়োজন অনুভব করলে তিনি কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কোনো সক্রিয় উপস্থিতি নেই।
এক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন ফাহাদ। কিন্তু সেখানে কী পোস্ট করবেন, কী প্রকাশ করবেন অথবা কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত কিনা- এসব নিয়ে তিনি অসুবিধার সম্মুখীন ছিলেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন জনসমক্ষে আসুক, সেটি তিনি চাইতেন না। তাই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
ফাহাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব অর্থপূর্ণ তার সময় এবং মনোযোগ। তিনি নির্দিষ্ট রুটিনে জীবন কাটিয়ে অভিনয়ের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে চান। তাঁর বিশ্বাস, অপ্রয়োজনীয় কিছু যদি মনোযোগ কেড়ে নেয়, তাহলে সৃষ্টিশীল কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর এই কারণেই স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর অভ্যাস কমিয়ে এনেছেন তিনি।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য ফাহাদ প্রযুক্তির চেয়ে কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেন। মালয়ালম সিনেমার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেতা বর্তমানে তামিল ও তেলেগু সিনেমাতেও সমান পরিচিত। ‘পুষ্পা’, ‘বিক্রম’, ‘সুপার ডিলাক্স’, ‘আবেশম’, ‘জোজি’, ‘মহেশিন্তে প্রতিকারম’সহ একাধিক সিনেমায় তাঁর অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
ফাহাদের অভিনয়ের শুরুটা ছিল হতাশার। ২০০২ সালে তাঁর বাবার পরিচালনায় ‘কাইয়েথুম দুরাথ’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি অভিনয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু প্রথম সিনেমাই ব্যর্থ হওয়ার কারণে মারাত্মক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। এরপর অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে দর্শনের পড়াশোনা করেন।
সাত বছর পরে দেশে ফিরে আবার অভিনয়ে মনোযোগ দেন ফাহাদ। দ্বিতীয়বারের সেই যাত্রাতেই বদলে যায় তাঁর ক্যারিয়ার। ‘কেরালা ক্যাফে’ দিয়ে ফিরে আসার পর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৮ সালে ‘থন্ডিমুথালুম দৃকসাক্ষীয়ুম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
আরও পড়ুন: ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ উপসচিবের পদায়ন
কিন্তু এত সাফল্যের পরও টানা নিজেকে সফল অভিনেতা মনে করেন না ফাহাদ। তাঁর মতে, তিনি এখনো এমন একটি সিনেমার অপেক্ষায় আছেন, যেটির পরে নিজের ক্যারিয়ারকে সফল বলতে পারবেন।
স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার বিষয়েও তাঁর দর্শন অনেকটা অভিনয়ের মতো সরল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকলে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহাদের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য, তাঁর দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক সিনেমার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে।
অভিনেতার মতে, যেদিন তিনি সিনেমায় খারাপ অভিনয় করা শুরু করবেন, সেদিনই দর্শকের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করা তাঁকে দর্শকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে একজন তারকার এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। কিন্তু ফাহাদের কাছে এটি কোনো প্রচারণার কৌশল নয়; বরং এটি হচ্ছে নিজের সময়, মনোযোগ এবং জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার একটি সচেতন চেষ্টা।
আরও পড়ুন: শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ছাত্রদল নেত্রীর বিতর্কিত পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন