০২:০৩ পি.এম
সুদানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি) এবং তার দুই ভাইসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যা রবিবার আদালতে মনোনীত কাউকে উপস্থিত না রেখে করা হয়।
আদালত মূলত এক আঞ্চলিক গভর্নরকে হত্যার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করে। এই রায় পশ্চিম দারফুরের রাজধানী এল জেনেইনায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা দায়ের করার পর দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের জুনে, আরএসএফ যোদ্ধারা পশ্চিম দারফুরের গভর্নর খামিস আবাকারকে আটক করে তাদের স্থানীয় সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহর উপস্থিতিতে তাকে সেখানে হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
এই হত্যার পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে, তার মরদেহ বিকৃত করা হচ্ছে। পোর্ট সুদানের আদালতের বিচারক এক বিবৃতিতে জানান, মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেত্তি), তার ভাই আবদেলরহিম দাগালো ও আল-কনি হামদান দাগালোসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এল-তিজানি আল-তাহির কারশুম, আরএসএফের বর্তমান রাজ্য কমান্ডার ইদ্রিস হাসান হারুন, কিছু আরব গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফ-সমর্থক এক কর্মী। আদালত ১৬ জন আসামিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং নিষিদ্ধ যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
এছাড়া, আদালত আরএসএফের সব সম্পদ সুদানের সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে করে দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ প্রদানের কথা জানানো হয়।
বিচারক মন্তব্য করেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। পাশাপাশি সুদানের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কারণে এসব অপরাধ রাজনৈতিক ক্ষমার আওতায়ও এসে না। আদালতে একটি রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি ধ্বংস ও লুটপাট এবং বেসামরিক মানুষ, আবাসিক এলাকা, স্কুল ও উপাসনালয়ের ওপর হামলার জন্য আরএসএফ প্রধান হেমেত্তি আইনগতভাবে দায়ী।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
অন্যদিকে, আবদেলরহিম দাগালোকেও এল জেনেইনা শহর অবরোধ পরিকল্পনা, বাসিন্দাদের ওপর কঠিন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়া, বেসামরিক লোকজনকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার এবং মাসালিত জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যায় অংশগ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত আল-কোনি দাগালোকে এল জেনেইনায় হামলায় সহায়তা প্রদান করার কারণে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিচারকের মতে, তিনি জানতেন যে, আরএসএফ বাহিনী সেখানে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তবুও হামলায় সহযোগিতা করেছিলেন। আবদুল রহমান জুমা বারকাল্লাহকে মাসালিত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পরিকল্পিত হামলার সময় আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের নেতৃত্ব দেবার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে গেলে মাসালিত সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ এল জেনেইনা ও পশ্চিম দারফুরের অন্যান্য অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হয়ে পূর্ব চাদের সীমান্তে আশ্রয় নিতে গিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন