প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে দোহায় সমাহিত করা হয়েছে, বিশ্বের অত্যন্ত ধনী ও আধুনিক রাষ্ট্র কাতারের রূপান্তরের কারিগর। স্থানীয় সময় রবিবার (১২ জুলাই) সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তারপর দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর তার জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে।
জানাজার সময় শোকাহত মানুষ কাতারি ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শেখ হামাদের কাফন-মোড়ানো মরদেহের দিকে মুখ করে হাত বেঁধে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর তার ছেলে ও উত্তরসূরি আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা তার মরদেহ মসজিদ থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। শেখ হামাদকে দোহার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
আল জাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি বলেছেন, অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত ‘সাধারণ’ এবং শেখ হামাদকে একটি ‘সাধারণ কবরে’ সমাহিত করা হয়েছে। বাসরাভি আরও মন্তব্য করেছেন যে, এই সরলতা ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এটি ‘ফাদার আমির’-এর জীবনযাপনেরও প্রতিফলন। তিনি জাগতিক ঐশ্বর্য বা আড়ম্বরের প্রতি সেভাবে খেয়াল না রেখে বরং নিজের জনগণের কল্যাণের ওপর বেশি মনোনিবেশ করেছিলেন।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হামাদের শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল দেশের বিশাল গ্যাস সম্পদের উন্নয়নে তার বিশেষ মনোযোগ। ২০০৬ সালের মধ্যেই এই ক্ষুদ্র দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানে পৌঁছে যায়।
তিনি ছিলেন একমাত্র আরব নেতা, যিনি ২০১২ সালে গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ভেঙে সেখানে সফর করেছিলেন। তার মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে। এই সময়ে উপসারগরীয় দুই দেশেই সব সরকারি দপ্তর এবং বিদেশে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন