ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিশুদের অ্যালার্জি কমাতে নতুন পদ্ধতির সন্ধান গবেষণায়


শিশুদের অ্যালার্জি কমাতে নতুন পদ্ধতির সন্ধান গবেষণায়

 

সময়ের সঠিক ব্যবহারে ডিমসহ অ্যালার্জিযুক্ত খাবার খাওয়ালে শিশুদের অ্যালার্জি কমবে, নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের খাবারে ডিমসহ অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে এমন খাবারগুলোকে দেরিতে দেওয়ার পুরোনো ধারণাটি এখন পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ছয় মাস বয়সের মধ্যে ডিমসহ অ্যালার্জি ঝুঁকিপূর্ণ খাবার দেওয়ার ফলে শিশুদের মাঝে ডিমের অ্যালার্জির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় নির্দেশনা চালুর পর শিশুদের মধ্যে ডিমের অ্যালার্জির হার ১৭ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে, এমন জানিয়েছে।

গবেষকদের বক্তব্য, বিজ্ঞানভিত্তিক নির্দেশনা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে জনসংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পূর্ববর্তী ধারণার পরিবর্তন

আগের ধারণাটি ছিল, যেসব পরিবারের মধ্যে অ্যালার্জির ইতিহাস রয়েছে, তাদের শিশুকে ডিমসহ অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবারগুলো দেরিতে খাওয়াতে হবে—২০১ এক থেকে তিন বছর বয়সের মধ্যে।

আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

কিন্তু পরবর্তী গবেষণায় বলা হয়েছে, এই দেরি আসলে অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়ক নয়। বরং এটি উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছয় মাস বয়স থেকেই ধীরে ধীরে এসব খাবার শিশুদের খাওয়ানো উচিত।

গবেষণার ফলাফল কী

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ৭ হাজারের বেশি শিশুর ওপর করা একটি গবেষণাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে ডিম খাওয়ানো শুরু করার হার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল

একইসাথে, ডিম অ্যালার্জির হার ৯.২ শতাংশ থেকে কমে ৭.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি থাকা শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

আগেভাগে খাবার দেওয়ার উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ছোট বয়সেই খাবারের সাথে পরিচিত হয়, তখন সেটি নিরাপদ হিসেবে চিনতে শেখে। এ কারণে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঝুঁকি কমে যায়।

আরও পড়ুন: ৫৩ বছরেও ফিট থাকার জন্য শচীন ছেড়ে দিলেন দুই বদঅভ্যাস

যেসব শিশুর ত্বকের সমস্যা বা একজিমা আছে, তাদের ক্ষেত্রে আগেভাগে খাবার চিনতে দেওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে, সময়মতো নীতিমালা পরিবর্তন এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন তৈরি করা সম্ভব।

তারা বলছেন, আগে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তা যথেষ্ট প্রমাণভিত্তিক ছিল না এবং বর্তমানের নতুন তথ্য সেই পরামর্শগুলোকে সংশোধন করছে।

আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

সতর্কতা ও পরামর্শ

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুকে খাবার দেওয়ার আগে অবশ্যই তার শারীরিক প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যেমন—বসে থাকা, মাথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা এবং খাবার গিলতে পারার সক্ষমতা রয়েছে কি না।

এক বছরের নিচে শিশুকে খুব সতর্কতার সাথে নরম করে খাবার দিতে হবে, যাতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।

নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, ভয় নয়—সঠিক সময়ে সঠিক খাবার দেওয়াই হতে পারে অ্যালার্জি প্রতিরোধের চাবিকাঠি। সময়মতো ডিমসহ খাবার পরিচয় করানো শিশুর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যকে আরও নিরাপদ করতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরের দেড়শ বছরের কেডি খাল এখন ময়লার স্তূপে পরিণত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ এম


রংপুরের দেড়শ বছরের কেডি খাল এখন ময়লার স্তূপে পরিণত

রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন করা ঐতিহ্যবাহী কেডি খাল এখন ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালের সংস্কারের অভাবে খালজুড়ে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে শুধু মশার উপদ্রব বাড়ছে না, বরং এটি তৈরি করছে চরম জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কোথাও কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পানিপ্রবাহ, অন্যদিকে কোথাও আবার জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। খালের দুই পাড় দখল ও ভরাটের কারণে অনেক স্থানে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পণ্য নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার কারণে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে সংস্কারের নামে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

জানা যায়, জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রংপুর নগরীকে রক্ষা করতে প্রায় দেড়শ বছর আগে তৎকালীন পৌর প্রশাসক কৃষ্ণধন ঘোষ (কেডি ঘোষ) এই খাল খনন করেছিলেন। এই খালটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চিকলি বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শ্যামাসুন্দরী খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। প্রয়োজনে এটি খোকসা ঘাঘট নদীতে গিয়ে মেশে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল এটি, কিন্তু বর্তমানে খালটি যেন দুঃখের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিনা আক্তার জানান, ‘এই খালের পাড়ে আমার বাড়ি। একবার খনন করার পর খনন করা মাটি খালেই মিশে গেছে। আশপাশের বাড়িগুলোর পায়খানার লাইনের ময়লা এই খালে পড়ছে। মশা-মাছির যন্ত্রণায় দিনের বেলাও বাচ্চাদের মশারির মধ্যে রাখতে হয়। মাঝে মাঝে এত পরিমাণে দুর্গন্ধ ছড়ায় যে, আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’

অন্য একজন বাসিন্দা আনিস মোল্লা বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ খালটি। তাই পানি কোথাও যাওয়ার উপায় পাচ্ছে না। দুর্গন্ধের কারণে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। শহরের বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসনে কেডি খাল কাজ করে। শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে অনেক মিটিং এবং আন্দোলন হলেও এটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। মেয়র আসে-যায় কিন্তু কোনো কাজ হয় না। আমরা চাই শ্যামাসুন্দরী খালের পাশাপাশি কেডি খাল দ্রুত সংস্কার করা হোক।’

রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন সৌন্দর্যময় শহর গড়ে উঠেছে খালের পাশে। আমাদের শহরে দুটি ঐতিহ্যবাহী খাল রয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেগুলো আশীর্বাদের জায়গায় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নতুন সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে। এসব খাল শুধু খনন করলেই হবে না, খালপাড়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে বিনোদনের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

২০২২ সালে কেডি খাল সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। তবে তার সুফল এখনও নগরবাসী পাচ্ছে না। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, খালটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, ‘কেডি খাল রংপুরের ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। আমি এটি খনন করে প্রাণ ফেরাতে চেষ্টা করব। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খালগুলো সংস্কারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছি। এখানে নগরবাসীর সহযোগিতা চাই।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প–ফিফা সভাপতির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ এম


ট্রাম্প–ফিফা সভাপতির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপ টিকেটের বরাদ্দ বাতিলের অভিযোগ ইরানের। বিসিবি পরিচালকরা কে কোন দায়িত্বে। ট্রায়ালে অংশ নিতে আমেরিকা থেকে ঢাকায় জিনাত। ঢাকায় শুরু হচ্ছে ৬ জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল। মাঠে ফিরেই ম্যাচসেরা, যা বললেন মোসাদ্দেক।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক। সোমালিয়ার এক রেফারিকে মিয়ামি বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা ভিসা পাননি এবং ইরান জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শিবির মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার মত ঘটনা বিশ্বকাপের আয়োজনকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

সমালোচকদের মতে, এই সমস্যাগুলোর ইঙ্গিত আগেই দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম দিনেই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা’ শিরোনামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। পরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ব্যবসা বা পর্যটক ভিসা আবেদন করতে ১৫ হাজার ডলারের মতো বন্ড জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়। এছাড়া ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা আবেদনও স্থগিত রাখা হয়।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত ভিসা সমস্যা দেখা দেওয়াকে অনেকেই অস্বাভাবিক মনে করছেন না।

তবে দীর্ঘদিন ধরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এসব উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি। তিনি ২০২৫ সালে প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে বলেছিলেন, ‘বিশ্বকে আমেরিকায় স্বাগত জানানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়, সংশ্লিষ্ট সবাই এবং অবশ্যই সমর্থকরা স্বাগত। এটা শুধু আমার কথা নয়, এটা মার্কিন সরকারের অবস্থান।’

একই বছরের গ্রীষ্মে কেনিয়ার এক দক্ষিণ আফ্রিকান সাংবাদিক ইনফান্তিনোকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমরা এমন একটি দেশে খেলতে যাচ্ছি যেখানে আমাদের অনেকেই নিজেদের স্বাগত মনে করি না। আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যদের যেন বহিরাগত বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার।

এ ব্যাপারে ইনফান্তিনো জবাবে বলেন, এ বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আগামী বছরের বিশ্বকাপে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। যোগ্যতা অর্জনকারীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে আসতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতির বিষয় এবং এর জন্য সরাসরি ফিফাকে দায়ী করা যায় না। তবে ইনফান্তিনোর বাণিজ্যিক আশ্বাস এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এখন ফিফাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে। কাতার বিশ্বকাপের সময়ও তিনি স্বাগতিক দেশের পক্ষে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবার তিনি একই কৌশল নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একটি ফুটবল সংস্থা হিসেবে তারা কোনো দেশের অভিবাসন নীতিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখেন না। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, ইনফান্তিনো নিজেই ফিফাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন এটি কেবল একটি ক্রীড়া সংস্থা নয়, বরং বৈশ্বিক ঐক্যের একটি প্রতীক। তার স্লোগান হলো ‘

ফুটবল বিশ্বকে একত্রিত করে’ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে, পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক নেতার চেয়ে বেশি বার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেখা গেছে ইনফান্তিনোকে। ট্রাম্পের অভিষেকের আগের একটি সমাবেশে তিনি রিপাবলিকানদের প্রতীকী লাল টাই পরেন। মার-আ-লাগো সফর করেন এবং ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যা করছেন, আমেরিকানদের তা সমর্থন করা উচিত, কারণ বিষয়টি ভালো দেখাচ্ছে।’

শুধু তাই নয়, নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা অফিস খোলা হয়েছে। ফলে ফিফা সরাসরি ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায় ভাড়া দিচ্ছে। বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের স্থানও শেষ মুহূর্তে লাস ভেগাস থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ট্রাম্পপন্থিদের প্রভাব বিদ্যমান ছিল।

এসব কারণে সমালোচকদের প্রশ্ন, এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার পরও ফিফা কীভাবে দাবি করছে যে তারা কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজক এবং ভিসা সমস্যার বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই?

ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা ট্রাম্প আমলেই শুরু হয়নি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়েও এ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলো ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ ভিসা সাক্ষাৎকারের অপেক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরে কংগ্রেস ৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়ে সেই জট কমানোর উদ্যোগ নেয়।

কাতার বিশ্বকাপে দর্শকদের জন্য ‘হায়া কার্ড’ ব্যবস্থার মতো একটি বিশেষ সুবিধা ২০২৬ বিশ্বকাপেও চালু করতে চেয়েছিল ফিফা। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো মিলিয়ে একটি অভিন্ন ভিসা ব্যবস্থার প্রস্তাবও গৃহীত হয়নি। ফলে তিনটি দেশের জন্য আলাদা প্রবেশ নীতি বহাল রয়েছে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া চার দেশের নাগরিক—সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান এবং হাইতির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

ফিফা কিছু সাফল্যের দাবি করলেও সেগুলোর প্রভাব সীমিত। ‘ফিফা পাস’ নামে একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সমর্থকেরা দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন।

এদিকে বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের জন্য কিছু দেশের নাগরিকদের ভিসা বন্ড মওকুফ করার ঘোষণা হলেও শর্ত ছিল কঠোর। নির্দিষ্ট সময়ে টিকিট কেনা এবং ফিফা পাসে নিবন্ধন করা ব্যক্তিরাই কেবল এ সুবিধা পান। তাই বাস্তবে উপকৃত হয়েছেন খুব অল্পসংখ্যক সমর্থক।

ভিসা সাক্ষাৎকারের বাস্তবতাও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বৈধ কারণ প্রমাণ করতে হয়। সাক্ষাৎকারে দেখাতে হয় যে তাদের স্থায়ী বাসস্থান রয়েছে এবং সফর শেষে তারা দেশে ফিরে যাবেন। সাবেক কনস্যুলার কর্মকর্তারা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে অনেক কর্মকর্তা ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হতে পারে।

এগুলোর প্রেক্ষিতে ফিফা সভাপতিকে গণমাধ্যমের সামনে খুব কমই জবাব দিতে দেখা গেছে। বিশ্বকাপের টিকিট বিতর্ক, স্টেডিয়ামে পানির বোতল নেওয়ার বিধিনিষেধ, উচ্চ পরিবহন খরচ কিংবা দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে নাম প্রদর্শনের মতো বিষয়গুলোতেই তিনি নীরব থেকেছেন।

তিন দিন আগে মিয়ামিতে বিশ্বকাপের রেফারিদের উদ্দেশ্যে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, আমরা আপনাদের জন্য সেরা পরিবেশ ও সেরা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই। আমি আপনাদের পাশে আছি। আমরা আপনাদের সমর্থন করব।

কিন্তু একই দিনে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান মিয়ামিতে পৌঁছে মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন এবং শেষ পর্যন্ত দেশে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্স পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে আরতান বলেন, ‘আমার কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ছিল। আমার বৈধ ভিসাও ছিল।’

ঘটনার বিস্তারিত এখনও পরিষ্কার নয়। তবে ফিফার প্রতিক্রিয়া ছিল সংক্ষিপ্ত।

এ ঘটনায় ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, স্বাগতিক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ফিফা জড়িত নয়। আগের টুর্নামেন্টগুলোর মতোই একজন ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কিনা এবং তার দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত স্বাগতিক দেশের সরকারের হাতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গরমেও গোলাপে ভরবে বাগান, মেনে চলুন এসব যত্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


গরমেও গোলাপে ভরবে বাগান, মেনে চলুন এসব যত্ন

গরমের সময় অনেকেই গোলাপ গাছে কুঁড়ি না আসা বা ফুল ফোটা কমে যাওয়ার জন্য অভিযোগ করেন। সঠিক পরিচর্যা জানলে, গরমের সময়ে গোলাপ গাছ নতুন কুঁড়ি ও রঙিন ফুলে ভরে উঠতে পারে। কিছু সহজ নিয়ম পালন করলেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

শুকনো ফুল ও ডাল নিয়মিত ছেঁটে ফেলা খুবই প্রয়োজন। গোলাপ গাছে শুকিয়ে যাওয়া ফুলগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা জরুরি। শুকনো ফুল গাছের শক্তি নষ্ট করে এবং নতুন কুঁড়ি গঠনে বাঁধা সৃষ্টি করে। প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা ছাঁটাই করলে নতুন ডাল গজায় এবং ফুলও বেশি আসে।

গরমকালে গোলাপ গাছের অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। তাই নিয়মিত সার দেওয়া দরকার। তবে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে, তাই পরিমিত ব্যবহারই ভালো।

কলার খোসায় থাকা পটাশিয়াম গোলাপ গাছের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। শুকনো করে গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ব্যবহৃত চা-পাতা পরিষ্কার করে শুকিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং গাছ সুস্থ থাকে।

মাসে অন্তত একবার পচা গোবর সার ব্যবহার করলে গাছের মাটিতে নাইট্রোজেন বেড়ে যায়। এতে গাছের পাতা সবুজ ও সতেজ থাকে এবং ফুল ফোটার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

গোলাপ গাছে সকালে বা সন্ধ্যায় পানি দেওয়া সবচেয়ে ভালো। মাটির উপরের স্তর শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গোলাপ গাছ রোদ পছন্দ করে, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা রোদ পেলে গাছ ভালোভাবে ফুল দেয়। তবে গ্রীষ্মের তীব্র রোদে সরাসরি রাখা ঠিক নয়। সঠিক যত্ন ও নিয়ম পালন করলে গরমকালে গোলাপ গাছ রঙিন ফুলে ভরে উঠতে পারে। সামান্য পরিচর্যা আপনার বাগানের সৌন্দর্য বদলে দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্টেমিস-৩ মিশনের নভোচারী দল ঘোষণা করল নাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ এম


আর্টেমিস-৩ মিশনের নভোচারী দল ঘোষণা করল নাসা

 

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস ৩’ মহাকাশ অভিযানের নভোচারীদের নাম ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, এই মিশনের মূল দলে চারজন নভোচারী থাকছেন— আন্দ্রে ডগলাস, ফ্রাঙ্ক রুবিও, লুকা পারমিতানো এবং র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। এছাড়া মূল দলের বিকল্প হিসেবে জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিজ্ঞ টেস্ট পাইলট বব হাইন্টজকে রাখা হয়েছে।

২০২৭ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত এই দুই সপ্তাহের মিশনে নভোচারীরা মূলত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবেন মহাকাশে এবং ভবিষ্যতের জন্য চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতি হিসেবে মহাকাশযান ডকিংয়ের (একে অপরের সাথে যুক্ত করার প্রক্রিয়া) অনুশীলন করবেন।

ঘোষিত দলের মধ্যে কোনো নারী নভোচারী না থাকলেও, নির্বাচিত চারজনের রয়েছে বৈচিত্র্যময় ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা:

র‍্যান্ডি ব্রেসনিক (কমান্ডার): ৫৮ বছর বয়সী ব্রেসনিক এই দলের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক টেস্ট পাইলট ও মেরিন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে নাসার স্পেস শাটল মিশনে অংশ নেয়া ব্রেসনিকই সেই দলের একমাত্র সদস্য যিনি বিখ্যাত শাটল কর্মসূচিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। ২০১৭ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্দ্রে ডগলাস (মিশন স্পেশালিস্ট): ৪০ বছর বয়সী ফ্লোরিডার এই প্রকৌশলীর জন্য এটি প্রথম মহাকাশ যাত্রা। এর আগে তিনি চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা ‘আর্টেমিস ২’ মিশনে বিকল্প নভোচারী হিসেবে ছিলেন। ডগলাসের এই যাত্রা একটি অনন্য ইতিহাস তৈরি করবে, কারণ তিনি মহাকাশে যেতেন এমন ইতিহাসের কয়েকশ মানুষের মধ্যে ২৪ জন আফ্রিকান-আমেরিকান (কৃষ্ণাঙ্গ) ব্যক্তিদের একজন হতে যাচ্ছেন।

ফ্রাঙ্ক রুবিও (মিশন স্পেশালিস্ট): ৫০ বছর বয়সী সালভাদোরান-আমেরিকান এই চিকিৎসক একসময় মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার চালক ছিলেন। বর্তমানে মহাকাশে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (৩৭১ দিন) থাকার মার্কিন রেকর্ড তাঁর দখলে রয়েছে।

লুকা পারমিতানো (পাইলট): ৪৯ বছর বয়সী পারমিতানো এই মিশনের একমাত্র অ-মার্কিন নাগরিক। ইতালির পাতের্নোতে জন্ম নেয়া পারমিতানো তিনি নিজ দেশে বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ইতালীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আর্টেমিস ৩ মিশনটি সরকারি ও বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত হবে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে মোট তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। এর মধ্যে একটি রকেটে করে চার নভোচারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাবেন। অন্য দুটি রকেটে যথাক্রমে জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’ এবং ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’ কোম্পানির তৈরি ল্যান্ডারের মডেল থাকবে। এই মহাকাশযানটি কক্ষপথে গিয়ে ঐ দুটি ল্যান্ডারের সাথে যুক্ত হওয়ার মহড়া চালাবে।

গত ২৮ মে ফ্লোরিডায় ব্লু অরিজিনের একটি মনুষ্যবিহীন ‘নিউ গ্লেন’ রকেট পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় বিস্ফোরিত হয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিস্ফোরণের ফলে কেপ কানাভেরালের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটিতে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

তবে নাসা এবং ব্লু অরিজিনের কর্মকর্তারা এই উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন। নাসার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেরেমি পারসন্স বলেন, “যেকোনো বিপর্যয় আমাদের জন্য শেখার সুযোগ। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ২০২৭ সালের নির্দিষ্ট সময়ের আগে নিউ গ্লেন রকেট আর্টেমিস ৩-এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।”

এই মিশনের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশ গবেষণায় চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকা। চীন ইতিমধ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং ২০২৪ সালে তারা ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে রোবটের মাধ্যমে চাঁদের দূরবর্তী অংশ (ফার সাইড) থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো মিশনের মাধ্যমে প্রথম চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন চান ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে মেয়াদের শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন নভোচারীদের পুনরায় চাঁদে নামাতে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল আর্টেমিস ৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে মানুষের নামার। তবে মহাকাশযাত্রায় নভোচারীদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে এবং কারিগরি ত্রুটি এড়াতে গত ফেব্রুয়ারিতে কিছু পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে আর্টেমিস ৩ মিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি চাঁদের মাটিতে না নেমে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, যা পরবর্তী চন্দ্র অভিযানের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে এবং ২০৩০ সালের আগে চীনের চেয়ে দ্রুত চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%