০৫:২৪ এম
সময়ের সঠিক ব্যবহারে ডিমসহ অ্যালার্জিযুক্ত খাবার খাওয়ালে শিশুদের অ্যালার্জি কমবে, নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের খাবারে ডিমসহ অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে এমন খাবারগুলোকে দেরিতে দেওয়ার পুরোনো ধারণাটি এখন পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ছয় মাস বয়সের মধ্যে ডিমসহ অ্যালার্জি ঝুঁকিপূর্ণ খাবার দেওয়ার ফলে শিশুদের মাঝে ডিমের অ্যালার্জির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান
‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় নির্দেশনা চালুর পর শিশুদের মধ্যে ডিমের অ্যালার্জির হার ১৭ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে, এমন জানিয়েছে।
গবেষকদের বক্তব্য, বিজ্ঞানভিত্তিক নির্দেশনা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে জনসংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পূর্ববর্তী ধারণার পরিবর্তন
আগের ধারণাটি ছিল, যেসব পরিবারের মধ্যে অ্যালার্জির ইতিহাস রয়েছে, তাদের শিশুকে ডিমসহ অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবারগুলো দেরিতে খাওয়াতে হবে—২০১ এক থেকে তিন বছর বয়সের মধ্যে।
আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা
কিন্তু পরবর্তী গবেষণায় বলা হয়েছে, এই দেরি আসলে অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়ক নয়। বরং এটি উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছয় মাস বয়স থেকেই ধীরে ধীরে এসব খাবার শিশুদের খাওয়ানো উচিত।
গবেষণার ফলাফল কী
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ৭ হাজারের বেশি শিশুর ওপর করা একটি গবেষণাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে ডিম খাওয়ানো শুরু করার হার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল
একইসাথে, ডিম অ্যালার্জির হার ৯.২ শতাংশ থেকে কমে ৭.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি থাকা শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।
আগেভাগে খাবার দেওয়ার উপকারিতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ছোট বয়সেই খাবারের সাথে পরিচিত হয়, তখন সেটি নিরাপদ হিসেবে চিনতে শেখে। এ কারণে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঝুঁকি কমে যায়।
আরও পড়ুন: ৫৩ বছরেও ফিট থাকার জন্য শচীন ছেড়ে দিলেন দুই বদঅভ্যাস
যেসব শিশুর ত্বকের সমস্যা বা একজিমা আছে, তাদের ক্ষেত্রে আগেভাগে খাবার চিনতে দেওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে, সময়মতো নীতিমালা পরিবর্তন এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন তৈরি করা সম্ভব।
তারা বলছেন, আগে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তা যথেষ্ট প্রমাণভিত্তিক ছিল না এবং বর্তমানের নতুন তথ্য সেই পরামর্শগুলোকে সংশোধন করছে।
আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা
সতর্কতা ও পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুকে খাবার দেওয়ার আগে অবশ্যই তার শারীরিক প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যেমন—বসে থাকা, মাথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা এবং খাবার গিলতে পারার সক্ষমতা রয়েছে কি না।
এক বছরের নিচে শিশুকে খুব সতর্কতার সাথে নরম করে খাবার দিতে হবে, যাতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।
নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, ভয় নয়—সঠিক সময়ে সঠিক খাবার দেওয়াই হতে পারে অ্যালার্জি প্রতিরোধের চাবিকাঠি। সময়মতো ডিমসহ খাবার পরিচয় করানো শিশুর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যকে আরও নিরাপদ করতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন