০২:৪৩ এম
মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর খসড়াকে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে।
হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে পর্যটকে প্রাণ ফিরেছে, দ্বীপবাসী স্বস্তিতে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তথ্য অধিদফতরের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, "বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬"-এর খসড়া অনুমোদনের মাধ্যমে দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে এটি এখন ক্যাবিনেটে পাস হয়ে বিল আকারে সংসদে যাবে। সংসদ না থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশ দিয়ে কার্যক্রম চালানো গেলেও, সংসদ চালু হলে প্রথম দিনেই তা বিল আকারে পেশ করে পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে হবে বলেও জানান তিনি।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এ মোট ছয় দফা সংশোধন আনা হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনটি গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে করা হয়।
আরও পড়ুন: তেল-সার-গার্মেন্টসকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে: ত্রাণমন্ত্রী
নতুন সংশোধনে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগ-বঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সভায় ২০২৭ সালের জন্য মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ছুটির মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন, যার মধ্যে ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (২টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে।
নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন, যার মধ্যে ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (১টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদযাপনে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে। সাপ্তাহিক ছুটির ৭ দিন বাদ দিলে ২০২৭ সালে কার্যত সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২২ দিন।
আরও পড়ুন: দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাবেন না সুনামগঞ্জের ৩৫ হাজার গ্রাহক
বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
এই চুক্তির ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, অপরাধী আটক ও অন্যান্য আইনি সহযোগিতার পথ সুগম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন