ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলে বিবাদ


হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলে বিবাদ

পাকিস্তান একসময় বিশ্ব ক্রিকেটে দাপট দেখাতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইমরান খানের সময় এবং জাভেদ মিয়াঁদাদ, সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হক, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস ও শোয়েব আখতারের মতো তারকা খেলোয়াড়রা একপ্রকার প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই সোনালী দিনগুলো এখন অতীত। বর্তমানে পাকিস্তান দল সাফল্য খুঁজতে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করছে।

পুরুষ দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রভাব কেবল পুরুষদের উপর সীমাবদ্ধ নয়, নারীদের দলেও পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্যের চেয়ে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের পরিচিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিতর্ক। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দলটি বিজয়ের স্বাদ খুব একটা পায়নি।

এর আগে আয়ারল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময়ও জয় না পাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ধারাবাহিক এই ব্যর্থতা দলের মধ্যে চাপ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মাঠের বাইরের বিতর্কগুলোকেও উস্কে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ

এমন একটি পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক আবারও চরমে পৌঁছেছে। সিনিয়র ক্রিকেটার আলিয়া রিয়াজের হোটেল রুমে স্বামী আসা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সিনিয়র খেলোয়াড় আলিয়া রিয়াজ তার হোটেল রুমে স্বামী আলী ইউনুসকে নিয়ে আসার ফলে অধিনায়ক ফাতিমা সানা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তিনি বিষয়টিকে দলের শৃঙ্খলা ও প্রোটোকল ভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে স্বামীকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

পরে, বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পূর্বে নির্ধারিত অনুশীলন এড়িয়ে আলিয়া স্বামীর সঙ্গে বাইরেই সময় কাটান, যা অধিনায়কের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে। এই কারণে আলিয়ার একাদশে থাকা না থাকার পক্ষে দাবিও তোলে ফাতিমা সানা।

কিন্তু অধিনায়কের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে কোচ ওয়াহাব রিয়াজ আলিয়াকেই চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করেন। ঐ ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ২৩ রানে পরাজিত করে, যেখানে আলিয়া ব্যাট হাতে কোন রান করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে আজ মুখোমুখি হচ্ছে কে-কার

পরাজয়ের পর অধিনায়ক ফাতিমা সানা কোচিং স্টাফের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোচিং ইউনিট ব্যর্থ হচ্ছে।

অন্যদিকে, কোচের দাবি, খেলোয়াড়রা মাঠে পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না, যার ফলে ধারাবাহিক ব্যর্থতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

এদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, দলের ভেতরের এই দ্বন্দ্ব এবং বিভাজন নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে।

গত কয়েক বছরে একাধিক কোচ পরিবর্তন করলেও পাকিস্তান মহিলা দল সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই বিতর্ক দলটির সংকটটিকে আরও গভীর করেছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুরে প্রায় ১১ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


দিনাজপুরে প্রায় ১১ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস

দিনাজপুরে প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালান পণ্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর সেক্টরের আওতাধীন জয়পুরহাট, ফুলবাড়ী এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছেন।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ১৩ হাজার ১৯০ বোতল ফেনসিডিল, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫১৬ দশমিক ৭৫ কেজি গাঁজা এবং ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ লিটার মদ। এছাড়া ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১১৭টি বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্যও ধ্বংস করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি সমাজের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বিজিবি রংপুর রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, ‘মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়, এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃढ़প্রতিজ্ঞ।’

অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য ধ্বংস কার্যক্রমে অংশ নেন। সীমান্ত এলাকায় মাদক এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রিজের যে অংশ পরিষ্কার না করার কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


ফ্রিজের যে অংশ পরিষ্কার না করার কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে

বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্রের তালিকায় ফ্রিজ বিদ্যমান। এটি খাবার দীর্ঘসময় সতেজ রাখতে অপরিবর্তনীয়। তবে ফ্রিজ ব্যবহার করলেই হয় না, নিয়মিত যত্ন না নিলে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা কমে আসতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে।

অনেকেই ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার রাখেন, কিন্তু পেছনের অংশে থাকা কনডেনসার কয়েল বা ধাতব জালির দিকে নজর দেন না। অথচ, ফ্রিজের সঠিক কুলিং বজায় রাখতে এই অংশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেন কনডেনসার কয়েল গুরুত্বপূর্ণ? ফ্রিজের পেছনের জালিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধুলা, ময়লা ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র কণা জমতে থাকে। যখন এই স্তর অনেক বেশি পুরু হয়ে যায়, তখন তাপ বের হতে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে ফ্রিজকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এর সরাসরি প্রভাব বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর পড়ে।

কতদিন পরপর পরিষ্কার করবেন? গৃহস্থালি ব্যবহারের সাধারণ সিঙ্গল ডোর ফ্রিজের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে কুলিং স্বাভাবিক থাকে এবং যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

যাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যেসব বাড়িতে পোষা প্রাণী রয়েছে অথবা যেখানে ধুলাবালির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, সেখানে কয়েলে দ্রুত ময়লা জমে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি ২ থেকে ৩ মাস অন্তর পরিষ্কার করা ভালো।

পরিষ্কারের আগে যা করবেন? কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ফ্রিজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। এরপর ফ্রিজটিকে নেতা থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নিন, যাতে পিছনের অংশে সহজে পৌঁছানো যায়।

কীভাবে পরিষ্কার করবেন? জালিতে জমে থাকা ধুলো সরাতে নরম ব্রাশ, শুকনো কাপড় অথবা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে কখনোই পানি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিষ্কার না করলে কী সমস্যা হতে পারে? কনডেনসার কয়েল দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকলে- ফ্রিজের কুলিং কমে যেতে পারে, কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়, অন্যান্য যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে এবং ফ্রিজের আয়ু কমে যেতে পারে।

ফ্রিজের পেছনের জালি বা কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার রাখা একটি ছোট কাজ হলেও এর সুফল অনেক। নিয়মিত এই অংশের যত্ন নিলে কুলিং ভালো থাকবে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ফ্রিজও দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে। তাই ফ্রিজ পরিষ্কারের তালিকায় শুধু ভেতরের অংশ নয়, পিছনের জালিকেও সমান গুরুত্ব দিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের যোগসাজশে ‘প্রিজাইড গ্রীন সিটি’র বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্প, ভূমিদস্যুতা ও কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: রনি সিকদার

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের যোগসাজশে ‘প্রিজাইড গ্রীন সিটি’র বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্প, ভূমিদস্যুতা ও কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

মো: রনি সিকদার: ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে বরিশাল–পটুয়াখালী–কুয়াকাটা ও বরিশাল–ভোলা মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ‘প্রিজাইড গ্রীন সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এই প্রকল্পে প্লট বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা, কৃষিজমি ও সরকারি খাসজমি দখল, জলাশয় ভরাট, জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি, এক প্লট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি এবং প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রিজাইড গ্রীন সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মনজুরুল ফরাজী। তার সঙ্গে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাহিম আকন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ কাজী, মার্কেটিং ডিরেক্টর এস. এম. রফিকুজ্জামান, পরিচালক হাফেজ মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ কাইয়ুম ও মো. অহিদুর রহমান প্রিন্স। অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই অতীতে এমএলএমভিত্তিক ডেসটিনি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবাসন ব্যবসার আড়ালে একই ধরনের বিনিয়োগ ও প্লট বিক্রির মডেল অনুসরণ করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ডেসটিনি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত তরিকুল ইসলাম বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত ঢাকা থেকে এসে প্রকল্পের কার্যক্রম তদারকি করেন এবং প্লট বিপণন ও সদস্য সংগ্রহে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যদিও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রিজাইড গ্রীন সিটি গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রকাশ্যে প্লট বিক্রি করে আসছে। একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্প পরিচালনার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ প্রায় ২০ থেকে ২২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও প্রিজাইড গ্রীন সিটির নামে এমন কোনো অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ। ট্রেড লাইসেন্স ও ইউনিয়ন পরিষদের একটি অনাপত্তিপত্র ছাড়া প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কোনো নথি নেই বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানিটি অন্যের জমির ওপর নিজেদের লে-আউট পরিকল্পনা তৈরি করে বড় বড় সাইনবোর্ড, আকর্ষণীয় লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে প্রচারণা চালিয়ে প্লট বিক্রি করছে। অনেক ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন প্লট দেখিয়ে অর্থ আদায়, একই প্লট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, টাকা নেওয়ার পর প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অন্যের মালিকানাধীন জমিকে কোম্পানির সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, অনেক পরিবার জীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেও আজ পর্যন্ত কোনো প্লট বুঝে পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ক্রেতা বলেন, পরিবারের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে প্লট কিনলেও পরে অফিসে গিয়ে প্লট বুঝে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষিজমি, সরকারি খাসজমি, খাল, নালা ও জলাশয় দখল করে বালু ভরাটের মাধ্যমে প্লট তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষার আইন উপেক্ষা করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ কাজী গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রিজাইড গ্রীন সিটির মার্কেটিং পরিচালক এস. এম. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি শুধু প্লট বিক্রিতেই নয়, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, জমি দখল এবং প্রকল্প পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো নলছিটি উপজেলার পূর্বচর দপদপিয়া মৌজার ১৬১ ও ১৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমিটির প্রকৃত রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন মোক্তার আলী ফকির। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিক হন ছেলে মো. হাসমত আলী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৪৫ এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৪২১৭৩১৫৩৭৮০৭৭।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ মে নলছিটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ১৪৬৪ নম্বর সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে একই জমি ‘হাসমত ফকির’ নামে ভিন্ন পরিচয়ের এক ব্যক্তির নামে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় প্রিজাইড গ্রীন সিটি লিমিটেডের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। ওই পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ১৯৭৫, মায়ের নাম ফুল বানু এবং অন্যান্য তথ্য প্রকৃত মালিকের তথ্যের সঙ্গে মিল নেই বলে অভিযোগ। আইডি নম্বর ৪২১৭৩১৫৩৯০২১৭। এরপরও দলিল রেজিস্ট্রি এবং পরবর্তীতে স্থানীয় এসিল্যান্ড অফিস থেকে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জন্ম তারিখ ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি। আইডি নম্বর ৪২১৭৩১৫৩৯০২১৭। এসব দেখেও যাচাই বাছাই না করেই নলছিটির সাবরেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নলছিটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও এসিল্যান্ড অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, জাল কাগজপত্র যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশ ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয় বলে তারা দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি, খাসজমি ও জলাশয় দখল এবং প্লট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রিজাইড গ্রীন সিটির চেয়ারম্যান মনজুরুল ফরাজী, পরামর্শক তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ কাজী, মার্কেটিং পরিচালক এস. এম. রফিকুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পটির বৈধতা যাচাই, জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদিত দলিল ও নামজারির তদন্ত, সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখলের অভিযোগ অনুসন্ধান, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। চলবে....

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে চেয়ার-টেবিল স্থাপন করে জামায়াতের দলীয় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


মসজিদে চেয়ার-টেবিল স্থাপন করে জামায়াতের দলীয় সভা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী।এই ঘটনায় মসজিদের আদব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে অনেকে, ফলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামের মসজিদে এই দলীয় সভা আয়োজন করা হয়।জানা গেছে, নামাজের পর মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সভা শুরু করেন।সভায় মনোহর বাদশা নামের একজনকে ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল।এ সময়ে জামায়াতের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সভা করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘মসজিদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলছে মোনাফেকগুলা।’ অন্য একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে কিসের ভণ্ডামি, এরা ইসলামের নামে ভণ্ডামি শুরু করে দিয়েছে।’

মিঠাপুকুরের হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোগ্রামে সাধারণত অন্য দলের সমালোচনা করা হয়ে থাকে, যা গিবতের পর্যায়ে পড়ছে।মসজিদের ভেতরে তো গিবত করার সুযোগ নেই।এ ছাড়া চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে দলীয় সভা করার ফলে মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধন না হয়ে সৌন্দর্যহানি ঘটলে, এটি মসজিদের আদবের লঙ্ঘন হয়েছে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, আমরা মসজিদভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো করি, তবে এভাবে প্রোগ্রাম করি না।মসজিদটি গ্রামের মধ্যে, একদম বাড়ির সঙ্গে।সেসময় সেখানে লোকজন ছিল না।এ কারণে আমরা মসজিদটি ব্যবহার করেছি।তিনি আরও বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ হচ্ছে সংসদ।তবে এটাকে মানুষ ভালোভাবে নেয় না।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে যা আমিও দেখেছি।সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয় না।সামনের দিকে আমরা বিষয়টি খেয়াল রাখব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%