০৮:৪৯ এম
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। বড় বড় ঢেউয়ের কারণে গভীর সমুদ্রে টিকতে না পেরে উপকূলে ফিরে এসেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এর ফলে টানা চার দিন ধরে সমুদ্রে যেতে পারেননি পটুয়াখালীর জেলেরা। জীবিকার তাগিদে যারা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে গেছেন, তারাও ফিরেছেন প্রায় খালি হাতে। একের পর এক সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার।
টানা চার দিন ধরে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। গভীর সমুদ্রে হঠাৎ হঠাৎ বিশাল ঢেউ তৈরি হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে মাছ ধরা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বহু জেলে জাল গুটিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। শত শত মাছ ধরার ট্রলার এখন উপকূলে নিরাপদে নোঙর করে রয়েছে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায়।
জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে জাল ফেলাও সম্ভব হচ্ছে না, আবার টেনে তোলাও সংকটজনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কয়েকদিন মাছ ধরার সুযোগ পাওয়ার পর আবার ঝড় শুরু হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তীরে ফিরে আসতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বের ১০০ জনের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র নারী! ঠাকুরগাঁওয়ের বিলকিস ইতালিতে পেলেন আন্তর্জাতিক সম্মাননা
৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১২ জুন থেকে সমুদ্রে মাছ ধরা কার্যক্রম শুরু হলেও জেলেদের জীবনে কোনো স্বস্তি ফিরে আসেনি। এক মাসও পেরোতে না পেরোতেই বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া শুরু হয়। ফলে অনেকেই সমুদ্রে যেতে পারেননি। যারা ঝুঁকি নিয়ে গেছেন, তারাও উত্তাল সাগরে সঠিকভাবে জাল ফেলতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরেছেন।
জেলেদের অভিযোগ, বছরের বেশিরভাগ সময়ই কোন না কোন কারণে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। কখনও সরকারি নিষেধাজ্ঞা, কখনও নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় বা বৈরী আবহাওয়া। ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পাবেন। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, জেলেরা যেভাবে সরকারি আইন মেনে মাছ ধরছেন, তাতে আবহাওয়া অনুকূলে এলে তারা পর্যাপ্ত ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরার সুযোগ পাবেন এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা রক্ষা এবং সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে পটুয়াখালীর উপকূলে বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ২৭০ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এর ফলে একদিন মাছ ধরতে না পারলেই যেসব জেলে পরিবারের চুলায় আগুন জ্বালে না, সেই পরিবারগুলো এখন বছরের অধিকাংশ সময় কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। একদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ; সব মিলিয়ে জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে উপকূলের হাজারো জেলে পরিবারের সদস্যরা।
আরও পড়ুন: দৃষ্টিনন্দন বনায়ন: রাঙ্গামাটিতে ১০ একর জমিতে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন