ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভালুকায় বিরুনীয়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন


ভালুকায় বিরুনীয়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।সোমবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্দেশনায় তাঁরা এসব পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁরা দুর্গোৎসব যেন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়,সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন পাঠান, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও বিরুনীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরকার রিপন,বিরুনীয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক শাহনেওয়াজ মল্লিক সেলিম,বিএনপি নেতা শাহীন পাঠান, সেলিম মণ্ডল,বিরুনীয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্যসচিব সুহেল রানা,বিরুনীয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাহাদাত হোসেন,যুবনেতা কবির হোসেন, ফজলুল হক ও নাজমুল হোসেন।

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌর ছাত্রদল নেতা নুহা তালুকদার,ছাত্রদল নেতা সিফাত হোসেন,মেহেদী হাসান অন্তর পাঠান,জাকারিয়া রাতুল সরকার,কৃষক দলের আহ্বায়ক তোফাজ্জল দুলাল প্রমুখ। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নেতাকর্মীরা দুর্গোৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে আনন্দ ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান, সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুর্গোৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ পি.এম


নড়াইলে গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান, সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুর্গোৎসব
নড়াইলে অন্তত ১৫টি মসজিদ-মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান, নেই কোনো বিদ্বেষ, দুই ধর্মের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসব

নড়াইলে উৎসবমুখর পরিবেশে  হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই জেলায় রয়েছে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এখানে অন্তত ১৫টি এলাকায় গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে জেলা শহরের মহিষখোলা এলাকায় মসজিদ-মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান। এখানে সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুই ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে নেই কোনো হিংসা, বিদ্বেষ। বরং যুগ যুগ ধরে ধর্ম পালনে একে-অপরকে সহযোগিতা করে আসছেন সবাই।
 
জেলা শহরের মহিষখোলা সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সহসভাপতি প্রলয় কুমার ভৌমিক বলেন, মহিষখোলায় একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান। এটি সারাদেশের মধ্যে অনন্য নজির। এই নিয়ে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে কখনো মতবিরোধ নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে যার যার ধর্ম পালন করছেন। নামাজ ছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন একই মাঠ ব্যবহার করে ওয়াজ মাহফিল দিচ্ছেন। আবার আমরা পূজার কাজে মাঠ ব্যবহার করছি। একেবারে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান।  

মসজিদের ইমাম হাফেজ মো : এনামুল হক জানান, মহিষখোলা সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদটি একই জায়গায়। আমাদের নামাজের সময় ওরা পূজা অনুষ্ঠান বন্ধ রাখে। নামাজ শেষ হলে আমার তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু করে। এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি ভবিষ্যতেও সমস্যা হবে না।

মহিষখোলা সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আমাদের পূজামণ্ডপ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মসজিদটি পাশাপাশি অবস্থান করছে। যে যার ধর্ম পালন করছেন। আজানের সময় আজান হচ্ছে। আবার পূজার অনুষ্ঠান হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আমরা একে-অপরকে সহযোগিতা করে আসছি। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ধর্মীয় বিধি-বিধান সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে পালন করে আসছেন।

পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মফিজুর রহমান বলেন, আল কোরআনে সূরা কা-ফিরুন এ আল্লাহপাক বলেছেন, লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন। অর্থাৎ ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের এবং আমার ধর্ম আমার (কাছে প্রিয়)’। মুয়াজ্জিন মফিজুর রহমান আরও বলেন, যে দেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে দেশে অন্যন্যা ধর্মালম্বীরা মুসলিমদের কাছে আমানত। ডিমের ভেতরে কুসুম যেমন নিরাপদ, তেমনি তারা (অমুসলিম) নিরাপদে থাকবে। আমরা সেইভাবে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করি।

শহরের ভওয়াখালী মিতালী সংঘের পূজারী তন্দ্রা মুখার্জি বলেন, আমাদের নড়াইলে দুর্দান্ত একটি উদাহরণ হলো-মহিষখোলা ছাড়াও জেলার অনেক স্থানে মসজিদ ও মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান। এখানে মুসলিম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। আমরা ছোটবেলা থেকে এভাবেই দেখে আসছি।

এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিষখোলা এলাকা ছাড়াও অন্তত ১৫টি স্থানে মসজিদ ও পূজামণ্ডপের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান রয়েছে। নামাজের সময় হলে পূজামণ্ডপের ঢাক-ঢোল, গান-বাজনাসহ বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান যেমন বন্ধ থাকছে; তেমনি পূজা-অর্চনার সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের সুযোগ করে দিচ্ছেন। সঙ্গতকারণে নড়াইলে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট পজঙ্ক বিহারী অন্ন ষোষ জানান, এ বছর নড়াইলে ৫৪৩টি মণ্ডপে সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, আমি শহরের যে (মহিষখোলা) ওয়ার্ডের বাসিন্দা, সেইখানে আমার বাড়ির পাশেই মসজিদ ও মন্দির মুখোমুখি। এখানে একই মাঠ ব্যবহার করে দুই ধর্মের লোকজন যার যার ধর্ম পালন করছেন। আশার করছি এবারও সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে। বিগত সময়ে আমাদের এখানে কোনো সমস্যা হয়নি। দুর্গাপূজা সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নড়াইলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। যাতে কেউ ঘোলাপানিতে কেউ মাছ শিকার করতে না পারেন। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মোদি ভারতের সবচেয়ে বড় কাপুরুষ, দুর্ভাগ্যবশত তিনি প্রধানমন্ত্রী’ : অভিজিৎ দীপক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


‘মোদি ভারতের সবচেয়ে বড় কাপুরুষ, দুর্ভাগ্যবশত তিনি প্রধানমন্ত্রী’ : অভিজিৎ দীপক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রায় ৮ মিনিটের একটি বিবৃতি দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। এটি ঘটেছে পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার একদিন পর। তবে তার সহযোদ্ধারা এখনও বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন, সোমবার (১৯ অক্টোবর) একজন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়িয়েছেন।

অভিজিৎ দীপকের বিবৃতি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:

"নরেন্দ্র মোদি, ২৬ বছর বয়সি সৌরভ দাসকে জেলে আটকে রেখে নিশ্চয়ই আপনি নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে করছেন? রাস্তায় শিশুদের মারধর করে, পুরো দিল্লিকে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে, আর শিক্ষার্থীদের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়েও নিশ্চয়ই আপনি নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে করছেন?"

"সৌরভ ও আশুতোষ (রাঙ্কা) জাতীয় পতাকা ওড়াতে যন্তর-মন্তরে গিয়েছিল। এর জেরে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এরপর তাঁদের শুনানির প্রক্রিয়াটিই আটকে দেওয়া হয়... প্রতিদিন কোনো না কোনো অজুহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হতে থাকে।"

"৩০ বছর বয়সি আশুতোষকে কারাগারে রাখা, ২৬-২৭ বছর বয়সি সৌরভ দাসকে কারাগারে রাখা; এভাবে বিশ্বগুরু নরেন্দ্র মোদি নিশ্চয়ই খুব শক্তিশালী বোধ করছেন।"

"এটাই শক্তি! পুলিশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা, আদালতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা, এটাই নরেন্দ্র মোদির ‘শক্তি’।"

"এমন দুজন তরুণের বিরুদ্ধে পুরো রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যারা তার (মোদির) নিজের নাতি-নাতনিদের বয়সি হতে পারত, যদি তার কোনো পরিবার থাকত, যদি তার কোনো সন্তান থাকত! সৌরভ দাস ও আশুতোষ তার নাতি-নাতনিদের বয়সিই হতো। সৌরভ ও আশুতোষকে কারাগারে আটকে রেখে তিনি নিজেকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে মনে করছেন।"

"আপনি নিজেকে খুব শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী বলে মনে করেন, আপনার তা-ই মনে হয়। আসলে আপনি একজন কাপুরুষ। শক্তি কাকে বলে, তা আপনাকে বলি। ২৭ বছর বয়সি সৌরভ দাস, যে জীবনে কখনো ভাবেনি যে তাকে কখনো জেলে যেতে হতে পারে; পাঁচ দিন ধরে কারাগারে।"

"একবার আমি সৌরভকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তুমি জেলে কতদিন টিকতে পারবে?’ আর সে বলেছিল, ‘একদিনও না!’"

"…সুতরাং সেই সৌরভ দাস, যিনি ভেবেছিলেন কারাগারে একদিনও টিকতে পারবেন না, তিনিই পঞ্চম দিনে আদালতে হাসিমুখে বললেন, বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে জেনেও তার মনে কোনো ভয় নেই। এটাই শক্তি।"

"পাঁচ দিন কারাগারে থাকার পর আদালতে এসেও আশুতোষের মধ্যে কোনো ভয় নেই, এটাই শক্তি।"

"শক্তি মানে এই নয় যে, আপনি পুরো পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকবেন, অন্য কোনো শক্তির আশ্রয় নেবেন, কিংবা পুরো দিল্লি শহরকে অচল করে দেবেন। প্রকৃত শক্তি হলো, যখন আপনি জানেন যে আপনি নিজের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কোনো শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছেন এবং এই লড়াইয়ের পরিণাম কী হতে পারে তা-ও আপনার জানা আছে। তবুও আপনি লড়াই চালিয়ে যান।"

"একেই বলে শক্তি — আপনার মতো নয়, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের সামান্য চাপে আপনি পুরো ভারতের স্বার্থ বিসর্জন দিলেন! আর আপনি নিজেকে শক্তিশালী নেতা বলে দাবি করেন! আপনি কোনো শক্তিশালী নেতা নন। আপনি এই দেশের দেখা সবচেয়ে বড় কাপুরুষ।"

"আর ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, তাদের এমন একজন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন যিনি এতটাই ভীতু ও কাপুরুষ যে, তিনি পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আড়ালে লুকিয়ে থাকেন, ব্যবস্থার আড়ালে আশ্রয় নেন; আর সারাক্ষণ কেবল একটি কথাই ভাবেন — আমার (মোদি) বিরুদ্ধে কথা বলা শিশুদের কি কারাগারে বন্দি করব, নাকি তাদের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাব, অথবা অন্য কোনো উপায়ে তাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেব?"

"তবে জনাব মোদি, আপনাকে দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের কেউই আপনাকে ভয় পায় না এবং আমরা কেউই এ বিষয়ে চুপ করে থাকব না। আপনি আমাকে দুবার কারাগারেও পাঠিয়েছেন; আর যদি মনে করে থাকেন যে আমরা চুপ করে থাকব বা কথা বলা বন্ধ করে দেব, তবে আপনি ভুল করছেন। এটি আপনার একটি ভ্রান্ত ধারণা। আপনি হয়তো অনেককে কিনে নিয়েছেন বা অনেকের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দিয়েছেন, কিন্তু দেশের তরুণ প্রজন্মকে আপনি স্তব্ধ করতে পারবেন না।"

"আমি আশু ও সৌরভকে নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু তারা যখন হাসিমুখে আদালতে এলো, তখন তাদের দেখে আমিও সাহস পেলাম। আপনারা যে সৌরভকে ভয় দেখাতে চাইছেন, সে-ই দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে, আমি আপনাদের এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি। কারণ, আপনারা যদি মনে করে থাকেন যে তাকে দেখে এই বার্তাটি ছড়িয়ে পড়বে যে, যারা মোদির বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তবে আসলে ঘটছে ঠিক তার উল্টোটা। সে লাখ লাখ তরুণকে অনুপ্রাণিত করছে যেন তারা (ভয়ে]) এক পা-ও পিছিয়ে না আসে এবং মোদির মতো কোনো ব্যক্তিকে ভয় না পায়।"

"সুতরাং, আপনারা আপনাদের পুরো পুলিশ বাহিনীকে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে পারেন, সমস্ত ব্যাটালিয়নকে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে পারেন। আপনারা আমার এবং প্রতিবাদরত অন্যদের ওপর ঠিক এটাই করেছেন। করুন তবে! এর বাইরে আপনাদের আর কিছুই করার নেই। আপনাদের হাতে অন্য কোনো উপায় নেই; রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ছাড়া আপনারা আর কিছুই করতে পারেন না।"

"দেশের যে বিরোধী পক্ষ (রাজনৈতিক দলগুলো) আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদের নিশ্চিহ্ন করতে আপনি এটিই ব্যবহার করেছিলেন। আর এখন দেশের তরুণ প্রজন্মকে স্তব্ধ করতে, ভয় দেখাতে এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে আপনি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের সেই একই অপব্যবহার করতে চাইছেন।"

"‘মেরি কম’ নামে একটি সিনেমা আছে, যদি আপনি সেটি দেখে থাকেন, তাতে একটি সংলাপ ছিল: কাউকে এত বেশি ভয় দেখিয়ো না যে তার ভয়টাই পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়।"

"জনাব মোদি, আপনাকে শুধু এটুকুই বলতে চাই, আপনি দেশের তরুণদের এতটাই ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, এখন আমাদের ভেতর থেকে সেই ভয়ই উবে গেছে। তাই আমরা আর ভয় পাব না।

সূত্র: দ্য ওয়্যার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাহরাইনের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


বাহরাইনের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আদেল আল ফাদেলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎটি রোববার (১৮ অক্টোবর) বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তারা একসঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন এবং বিদ্যমান সহযোগিতা ও সমন্বয়কে আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার এবং বাহরাইনের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আদেল আল ফাদেল দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি ও ফলো-আপ বিভাগের প্রধান মেজর হুমুদ ইয়াকুব উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বাহরাইনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করছেন। তাদের দৈনন্দিন জীবন, কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

রাষ্ট্রদূতের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার একটি অংশ। তবে বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা, শ্রমবাজার, ভিসা বা কনস্যুলার সেবা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

একইভাবে সাক্ষাতে আলোচিত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত, চুক্তি কিংবা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি মহল : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


জুলাই অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি মহল : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি মহল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন হয়নি। একইভাবে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, এবং প্রতিবারই দেশের জনগণ ধর্ম-বর্ণ ভুলে রাস্তায় নেমে এসেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সব পেশা ও ধর্মের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে যদি আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।"

তারেক রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে জনগণ নির্বাচিত করেছে। তিনি সকলের জন্য কাজ করতে চান, যারা ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি। তিনি বলেন, "সব এলাকার উন্নয়ন সমবণ্টন করে কাজ করতে চাই।" তিনি গত একনেক মিটিংয়ে এ এলাকার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একসঙ্গে কাজ করতে হবে, হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার যে ঐক্য তৈরি করতে চাচ্ছে, সেখানে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।" তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে যে দল বিতর্কিত করতে চেয়েছিল, তাদের ফলাফল ভালো হয়নি। "চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানও বিতর্কিত করতে চেষ্টা করছে। আপনাদের প্রতি আহ্বান, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।"

তিনি আরও বলেন, জনগণ দেশে একটি স্থিতিশীলতা চায়। অতীতে যে রাজনীতি আমরা দেখেছি, তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই। নবমীর দিনে দেশের সব ধর্মের মানুষের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, যেন সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "হাজার বছর যেন শান্তিতে থাকতে পারি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%