০৬:৩৪ পি.এম
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ডিজিটাল অবকাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভূমিকা নিয়ে ঢাকায় একটি সেমিনার আয়োজন করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার ক্রিস্টাল বলরুমে ‘ফ্রম ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার টু এআই ইকোনমি: বিল্ডিং বাংলাদেশ’স নেক্সট গ্রোথ ইঞ্জিন’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা।
অ্যামচেমের আইসিটি সাবকমিটির উদ্যোগে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। সেমিনারটি ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬-এর অংশ হিসেবে অ্যামচেম ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। সেমিনারে বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
আরও পড়ুন: পোশাক শিল্পের অস্থিরতা বিনিয়োগে প্রভাব ফেলবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে ওরাকলের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা। আলোচনায় অংশ নেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে ভিসার কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ, শপআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আতাউর রহিম চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
সেমিনারে বিদ্যমান ডিজিটাল অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে এআইভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা ডিজিটাল সংযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনায় আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ, ই-কমার্সসহ বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
সেমিনারে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতকে আরও শক্তিশালী করা, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ভূমিকা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে শিল্পাঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
গত ৫ থেকে ৭ নভেম্বর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬-এর অংশ হিসেবে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অ্যামচেম ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগগুলো তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন