১২:২৭ এম
কুমিল্লায় ডিসেম্বর মাসের আগমনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ।
মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অন্তত ১৪টি কৌশলগত ও নির্জন পয়েন্টে যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নাশকতার পাঁয়তারা চলছে। তবে গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে আগাম তথ্য পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে।
নাশকতার পরিকল্পনা প্রতিহত করার লক্ষ্যে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রযুক্তির সাহায্যে জেলাজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান কৌশল থাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে অচল করে দেওয়া। মহাসড়কের ১০৩ কিলোমিটার অংশ দেশের বাণিজ্যিক হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত। তাই সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে বা জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে এই সড়কটিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
অতীতের রেকর্ড বিশ্লেষণ করেও দেখা গেছে, যেকোনো বড় রাজনৈতিক অচলাবস্থায় এই মহাসড়কে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর প্রবণতা বেশি।
গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ইন্ধন ও অর্থায়নে ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
মহাসড়কের যে ১৪টি পয়েন্টকে নাশকতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হলো—দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর, ইলিয়টগঞ্জ, পুটিয়া, তীরচর ও গোমতা; চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ও কাঠেরপুল; বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও কাবিলা; আদর্শ সদর উপজেলার সৈয়দপুর, আলেখারচর ও কোটবাড়ী; সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী
বিশেষ করে রাতের আঁধারে এসব পয়েন্টের নির্জন স্থানগুলোকে কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার যানবাহনে ককটেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অপচেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে মহাসড়কে নাশকতার পরিকল্পনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আভাস পেয়েছে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, "আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ডিসেম্বর ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নাশকতার ছক কষছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন নজরদারির মাধ্যমে আমরা তাদের অবস্থান চিহ্নিত করছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।"
নাশকতার পরিকল্পনার শেষ বিন্দু পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান চলবে।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, "ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।"
চিহ্নিত ১৪টি পয়েন্টসহ মহাসড়কের ১০৩ কিলোমিটার এলাকায় দিন-রাত বিশেষ টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কোনো অবস্থায়ই মহাসড়কে কোনো অশুভ শক্তিকে যানবাহন ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করতে দেওয়া হবে না। জনগণের জানমালের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন