০৮:২৯ পি.এম
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শুধু গালাগাল বা কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করলেই তা আইনের দৃষ্টিতে অশ্লীলতা হিসেবে গণ্য হবে না। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি বিপুল এম. পাঁচোলির বেঞ্চ শুক্রবার (১৭ জুলাই) একটি মামলার শুনানিতে এই রায় দেন।
আদালতের বক্তব্য উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, কোনো বক্তব্যকে অশ্লীল হিসেবে গণ্য করতে হলে সেটি অবশ্যই যৌন উত্তেজনা তৈরি করতে হবে, কুরুচিপূর্ণ আগ্রহ উসকে দিতে হবে এবং মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটানোর প্রবণতা ব্যক্ত করতে হবে—এটি প্রমাণ করতে হবে।
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, শুধুমাত্র গালাগাল বা কটু ভাষা ব্যবহার করা যতটা আপত্তিকর বা অভদ্র হলেও, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ (খ) ধারার আওতায় অশ্লীলতার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
আদালত আরও জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ২৯৪(খ) ধারায় অপরাধ প্রমাণের জন্য জনসমক্ষে অন্যদের বিরক্তি বা উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে—এটি প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আলোচিত মামলায় এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বেঞ্চের ভাষ্যমতে, অভিযোগকারীসহ অন্য কেউ জনসমক্ষে সেই শব্দ ব্যবহারে বিরক্ত হয়েছেন—এমন দাবি বা প্রমাণ নেই। তাই আইপিসির ২৯৪(খ) ধারায় অপরাধের উপাদান এখানে পূরণ হয়নি।
এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, মামলাটি ২০১৭ সালের আগস্টে তামিলনাড়ুর একটি কৃষিজমি নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে ঘটে। শুরুতে আবেদনকারী ও তার ভগ্নিপতির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
দুই দিন পর একই জমি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাতিজার সঙ্গে আবারও একটি কলহে জড়ান আবেদনকারী।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
অভিযোগে বলা হয়, মধ্যস্থতার প্রয়োজনে অভিযোগকারী আবেদকের কাছে গেলে আবেদনকারী তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন।
এর আগে ট্রায়াল কোর্ট আবেদনকারীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(খ) (অশ্লীল আচরণ), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত) এবং ৫০৬(২) (ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন