বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:২৩ এম
দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রঞ্জন সরকার সুমন।
গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে সোহানুল ইসলাম গোপালগঞ্জ জেলার, খলিল ভোলার, বরুন বালা মাদারিপুরের এবং দুলাল মিয়া রংপুরের বাসিন্দা।
তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায়, যেমন দিনাজপুর, পিরোজপুর এবং ঢাকা মহানগর, বেশ কয়েকটি ডাকাতির মামলা রয়েছে। চক্রের মধ্যে বিভিন্ন জেলায় আরো অনেকে ছড়িয়ে রয়েছে বলে জানানো হয়।
রঞ্জন সরকার সুমন জানান, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের একটি চক্র দিনাজপুরে জড়ো হচ্ছিল এবং মোবাইল ফোন অপারেটরের টাওয়ারে ব্যবহৃত দামি লিথিয়াম ব্যাটারিসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি হাতিয়ে নিতে লক্ষ্য ছিল। এধরনের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নেমেছে ডিবি পুলিশ। তথ্য অনুযায়ী একটি পিকআপসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা সক্ষম হয়েছে তারা। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি প্রাইভেটকারসহ পালিয়ে গেছে চক্রের আরো দুই সদস্য।
তিনি আরো জানান, ডাকাত দলের কাছে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আধুনিক সকল যন্ত্রপাতি। পুলিশ আরও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত সন্ধ্যায় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার বাহাদুর বাজার স্টেশন রোডের হোটেল রাজের ৩০৬ নম্বর কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন সহযোগী পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় বুধবার (১ জুলাই) শেষ হওয়া এই বৈঠকে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে কাতার জানিয়েছে। তবে স্থায়ী শান্তির পথে বড় কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি।
আলোচনায় সম্পৃক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, দুই দেশের আলোচকরা দোহায় মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা প্রাথমিক চুক্তির দুটি অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুনে যুদ্ধ স্থগিত হওয়ার সমঝোতা স্মারকের বিষয়গুলো নিয়ে দোহা আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকাজের জন্য বৈঠকটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্বিমত দেখা গেছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে উভয় আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো বৈঠক হয়েছে এবং বিষয়টি আমরা দেখছি।’
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, মূলত প্রযুক্তিগত প্রকৃতির এই আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুটি এখনও উত্থাপিত হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘পারমাণবিক বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন। আমরা আগামীতে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি।’
দোহা আলোচনায় মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা সরাসরি কোনো টেবিলে বসেননি। বরং তারা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পৃথকভাবে এই পরোক্ষ বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনা শেষে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন।
গরিবাবাদী বলেন, বৈঠকে লেবাননে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথমে অবমুক্ত করা ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ কীভাবে খরচ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো প্রয়োজনীয় চাহিদার আলোকেই দরকারি পণ্য কেনা হবে এবং পরে তা ইরানের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
তবে প্রকৃতপক্ষে দুই পক্ষই মতপার্থক্য দূর করতে পেরেছে কি না, তা আলাদাভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
সমঝোতা স্মারক বা প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশেরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার কথা ছিল। বর্তমানে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও এই কৌশলগত জলপথের অবস্থা এখনও অস্থিতিশীল। গত সপ্তাহের শেষেও একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের হামলা এবং এর জেরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে যে, তেহরান এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রয়োজনে তারা শক্তি প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, প্রাথমিক চুক্তির টোলমুক্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে তারা এই পথে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুঁজিবাজারের শেয়ারের দর ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত সার্কিট ব্রেকারসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন মাপকাঠি নির্ধারণ এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষমতা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বুধবার (১ জুলাই) কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে গত ৩০ জুন কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১০১৮তম জরুরি কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার সীমাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন মাপকাঠি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের এখতিয়ার ডিএসই ও সিএসইর রয়েছে। এই কারণে প্রযোজ্য প্রবিধান, নীতিমালা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার আলোকে এসব মাপকাঠি স্বাধীনভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১৭ জুন জারি করা এ সংক্রান্ত কমিশনের আদেশ বাতিল করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। কমিশন সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি চাইলে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজারের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় অর্থবছর শেষে অর্জিত আয় লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করে তা ফান্ডে পুনঃবিনিয়োগের অনুমোদন দিতে পারবেন।
বিএসইসি বিশ্বাস করছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর কার্যকর ভূমিকা আরও জোরদার হবে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দোহায় কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রথম দফার পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে। ওই আলোচনার সময় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকা ও মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া হুমকিমূলক বক্তব্যের গুরত্বপূর্ণ সমালোচনা করেছে তেহরান। তবে দুই পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা তদারকিতে একটি ‘দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম’ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তিন দেশের ঊর্ধ্বতন আলোচকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান তুলে ধরে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়, সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি, এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক হুমকিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইরানি প্রতিনিধি দল তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান করা হবে না বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের একটি শর্ত লঙ্ঘন হলে পুরো চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। তিনি জানান, এই সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন ও ত্রুটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করতে এবং তা দ্রুত তদারকিতে শিগগিরই একটি বিশেষ যোগাযোগ মাধ্যম চালু করা হবে।
এছাড়া, বৈঠকের সময়ে ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ তেহরানের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার কাজে ব্যবহারের বিষয়েও কিছু অগ্রগতি লাভ হয়েছে।
বৈঠক পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালভাবেই এগোচ্ছে এবং দোহার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
এমনকি, আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদী হলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তারা মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ভ্যান্স আরও বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি চালু করে অথবা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে সব ধরনের ‘বিকল্প পথ’ খোলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচটি জেলার আটটি স্থানে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তাপাড়ে বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তারা এই আলোর মিছিল করেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজারের আলীবাবা থিম পার্ক-সংলগ্ন তিস্তাপাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেছেন, চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেই এই সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আমরা এই ঘোষণাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি নদী ভাঙন রোধ, তিস্তার উভয় তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি উৎপাদন ও সেচ সম্প্রসারণ, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন, এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদে দেওয়া ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নই হবে তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা নতুন আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। এজন্য তারা তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ আলোর মিছিলে অংশ নিয়ে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান, ববিউল ইসলাল, স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন?’ এই স্লোগানে পুরো জুন মাসজুড়ে নিজেদের অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ ও মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আমরা আশায় ছিলাম মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণাসহ একনেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হলেও চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের আশায় আলোর দ্বীপ জ্বালিয়েছেন।
একই দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আউলিয়ার বাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নুর দুলাল ও মাহমুদ আলম এবং কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল ইসলাম, পারভিন আক্তার, ওমর ফারুক ও মোনায়েম সরকার।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ও বানপাড়া তিস্তাপাড়ের কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, শৈলমারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান এবং কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পাশা এলিচ ও জাহাঙ্গীর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট তিস্তা তীরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন: স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির, কেন্দ্রীয় নেতা সাজু সরকার, মোশাররফ হোসেন, মওলানা জাহিদুল ইসলাম। উলিপুর উপজেলার হোকোডাঙা তিস্তা পাড়ে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মশিউর রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেন।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা জরুরি।
এসব কর্মসূচি থেকে আগামী দিনে রংপুর অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হলো—(১) তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা, (২) অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে 'তিস্তা কর্তৃপক্ষ' গঠন, (৩) দক্ষ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ, (৪) সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু এবং বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্পে বিনিয়োগ, (৫) ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং (৬) প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক সমবায় ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ