প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দোহায় কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রথম দফার পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে। ওই আলোচনার সময় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকা ও মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া হুমকিমূলক বক্তব্যের গুরত্বপূর্ণ সমালোচনা করেছে তেহরান। তবে দুই পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা তদারকিতে একটি ‘দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম’ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তিন দেশের ঊর্ধ্বতন আলোচকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান তুলে ধরে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়, সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি, এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক হুমকিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইরানি প্রতিনিধি দল তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান করা হবে না বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের একটি শর্ত লঙ্ঘন হলে পুরো চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। তিনি জানান, এই সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন ও ত্রুটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করতে এবং তা দ্রুত তদারকিতে শিগগিরই একটি বিশেষ যোগাযোগ মাধ্যম চালু করা হবে।
এছাড়া, বৈঠকের সময়ে ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ তেহরানের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার কাজে ব্যবহারের বিষয়েও কিছু অগ্রগতি লাভ হয়েছে।
বৈঠক পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালভাবেই এগোচ্ছে এবং দোহার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
এমনকি, আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদী হলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তারা মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ভ্যান্স আরও বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি চালু করে অথবা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে সব ধরনের ‘বিকল্প পথ’ খোলা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন