বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৫৫ এম
দোহায় কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রথম দফার পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে। ওই আলোচনার সময় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকা ও মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া হুমকিমূলক বক্তব্যের গুরত্বপূর্ণ সমালোচনা করেছে তেহরান। তবে দুই পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা তদারকিতে একটি ‘দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম’ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তিন দেশের ঊর্ধ্বতন আলোচকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান তুলে ধরে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়, সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি, এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক হুমকিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইরানি প্রতিনিধি দল তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান করা হবে না বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের একটি শর্ত লঙ্ঘন হলে পুরো চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। তিনি জানান, এই সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন ও ত্রুটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করতে এবং তা দ্রুত তদারকিতে শিগগিরই একটি বিশেষ যোগাযোগ মাধ্যম চালু করা হবে।
এছাড়া, বৈঠকের সময়ে ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ তেহরানের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার কাজে ব্যবহারের বিষয়েও কিছু অগ্রগতি লাভ হয়েছে।
বৈঠক পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালভাবেই এগোচ্ছে এবং দোহার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
এমনকি, আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদী হলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তারা মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ভ্যান্স আরও বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি চালু করে অথবা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে সব ধরনের ‘বিকল্প পথ’ খোলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচটি জেলার আটটি স্থানে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তাপাড়ে বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তারা এই আলোর মিছিল করেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজারের আলীবাবা থিম পার্ক-সংলগ্ন তিস্তাপাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেছেন, চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেই এই সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আমরা এই ঘোষণাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি নদী ভাঙন রোধ, তিস্তার উভয় তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি উৎপাদন ও সেচ সম্প্রসারণ, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন, এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদে দেওয়া ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নই হবে তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা নতুন আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। এজন্য তারা তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ আলোর মিছিলে অংশ নিয়ে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান, ববিউল ইসলাল, স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন?’ এই স্লোগানে পুরো জুন মাসজুড়ে নিজেদের অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ ও মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আমরা আশায় ছিলাম মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণাসহ একনেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হলেও চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের আশায় আলোর দ্বীপ জ্বালিয়েছেন।
একই দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আউলিয়ার বাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নুর দুলাল ও মাহমুদ আলম এবং কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল ইসলাম, পারভিন আক্তার, ওমর ফারুক ও মোনায়েম সরকার।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ও বানপাড়া তিস্তাপাড়ের কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, শৈলমারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান এবং কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পাশা এলিচ ও জাহাঙ্গীর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট তিস্তা তীরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন: স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির, কেন্দ্রীয় নেতা সাজু সরকার, মোশাররফ হোসেন, মওলানা জাহিদুল ইসলাম। উলিপুর উপজেলার হোকোডাঙা তিস্তা পাড়ে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মশিউর রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেন।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা জরুরি।
এসব কর্মসূচি থেকে আগামী দিনে রংপুর অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হলো—(১) তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা, (২) অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে 'তিস্তা কর্তৃপক্ষ' গঠন, (৩) দক্ষ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ, (৪) সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু এবং বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্পে বিনিয়োগ, (৫) ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং (৬) প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক সমবায় ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধের দামামায় রক্ষা পায়নি ইরানের হাজার বছরের ইতিহাস। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রাসাদ, মসজিদ আর বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন। ইউনেস্কোর সুরক্ষিত স্থাপনাতেও দেখা দিয়েছে ফাটল, ভেঙেছে কাচ, খসে পড়েছে টাইলস। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যুদ্ধের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
ধ্বংসের মুখে শত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য। ফেটে গেছে দেয়াল, ভেঙে পড়েছে কাচ। বিস্ফোরণের তীব্র কম্পনেই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ইরানের একাধিক স্থাপনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইসফাহানের নকশে জাহান স্কয়ার ও ৪শ’ বছরের পুরনো চেহেল সোটুন প্রাসাদ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি ঐতিহাসিক ভবন চিহ্নিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোমা সরাসরি না পড়লেও বিস্ফোরণের কম্পনে এক কিলোমিটার দূরের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর সেই কারণেই এত পুরনো স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত নকশে জাহান স্কয়ার, চেহেল সোটুন প্রাসাদ, গোলেস্তান প্রাসাদ, ইসফাহানের জামে মসজিদ, ট্রান্স-ইরানিয়ান রেলপথের আন্দিমেশ্ক স্টেশন এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো ফালাক-অল-আফলাক দুর্গ।
ইরানের ইউনেস্কো প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পুরো যুদ্ধে দেশটির অন্তত ১৩৪টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ইসফাহান শহর শুধু ইরানের মানুষের সম্পদ নয়। এটি পুরো বিশ্বের ঐতিহ্য। এই শহর বিশ্বের উত্তরাধিকার। তাই এই ঐতিহ্যকে সম্মান করতে হবে, এর মর্যাদা কখনোই নষ্ট করা উচিত নয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এখনো সেখানে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো সম্ভব হয়নি। স্যাটেলাইটের ছবি দেখে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে এমন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সাধারণত ‘নো-স্ট্রাইক লিস্টে’ রাখা হতো। ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা। ইচ্ছাকৃতভাবে এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রতিষ্ঠানে নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনস্থ আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুগ্মসচিব মাহফুজা আক্তার। এছাড়া একই বিভাগের অধীনস্থ জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক পদে যুগ্মসচিব মো. আশরাফুল মমিন খানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুগ্মসচিব এ কে এম শওকত আলম মজুমদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। তা না হলে ওই দিন বিকালের মধ্যে তাঁরা বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজড বা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি, যা আয়োজন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
বুধবার (১ জুলাই) রাতের এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অংশগ্রহণ করেন শত শত শিক্ষার্থী। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্মরণ করেন জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন বলেন, ‘২ বছর আগে এই জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের আত্মদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মোমবাতি প্রজ্বালনের আয়োজন করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। কারণ তাঁরা নিজের জীবন দিয়ে আমাদের ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষ একত্ব হয় অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদের মৃত্যুর খবরে। আমরা আমাদের ভাই, সহপাঠী আবু সাঈদসহ জুলাইয়ে শহীদ হওয়া প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এলইডি স্ক্রিনে জুলাই অভ্যুত্থানের ৩৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ