ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হরমুজ প্রণালীতে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান


হরমুজ প্রণালীতে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান

ইরান যুদ্ধের জন্য অন্যতম উত্তপ্ত রণক্ষেত্র, যেটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। এই প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, সেটি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবির শেষ নেই।

তবে দুই দেশের বাগাড়ম্বরের বাইরের একটি চিত্র আমাদের সামনে এসেছে। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের আসল চিত্র অন্য এক বাস্তবতার নির্দেশ করছে।

আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার-এর তথ্য উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ৮০ শতাংশের বেশি জাহাজ ওঙ্কার উপকূলীয় ওমানি রুট ব্যবহার করেছে। যদিও জাতিসংঘের অনুমোদিত, এই রুটটিতে জাহাজ চলাচলে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল ইরান। ওমানের এই রুটে চলাচল বাড়ার অর্থ হলো—প্রণালীতে জাহাজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইরান যে একচ্ছত্র প্রভাব পূর্বে বিস্তার করত, তা অনেকটাই কমে এসেছে।

আরও পড়ুন: বাকৃবির কৃষি অনুষদের নবনিযুক্ত ডিনকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

কেপলারের ক্রুড অয়েল অ্যানালিসিস বিভাগের প্রধান হুমায়ুন ফালাকশাহী সিএনএনকে বলেছেন, ‘ক্রমেই বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে ইরান অন্তত আংশিকভাবে হলেও হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’

কেপলারের তথ্য অনুসারে, মাত্র এক মাস আগে অবস্থা ভিন্ন ছিল, ওমানি রুটে বলতে গেলে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজই চলাচল করত না। শুরু থেকেই ইরান এই প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দাবি করে এবং ওমানের উত্তর উপকূলের রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায়। কিন্তু বর্তমানে হামলা ও ঝুঁকির তোয়াক্কা না করে, জাহাজগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষার ওপর ভরসা রেখে ওমানি রুট ব্যবহার করছে।

নৌপথের এই পরিবর্তনের কারণে জাহাজের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স বা ‘টোল’ আদায়ের যে পরিকল্পনা তেহরান করেছিল, তা থমকে গেছে। অধিকাংশ জাহাজ ইরানের পছন্দনীয় রুট এড়িয়ে চলায় তাদের কাছ থেকে ফি আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ‘পিকারিং এনার্জি পার্টনার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং জানিয়েছেন, ইরানের এই টোল আদায়ের দাবি মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক অংশীদার মেনে নেয়নি।

এদিকে, ইরানের হামলার ঝুঁকি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলো নতুন কৌশল নেয়ার চেষ্টা করছে। কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বড় বড় তেলবাহী জাহাজ দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করে ওমান উপসাগরে বিপদসীমার বাইরে অপেক্ষারত অন্য ট্যাঙ্কারে তেল স্থানান্তরিত করছে।

আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ১,৮১০ মামলা

এমনকি আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা (ট্রান্সপন্ডার) সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ রেখে চলেছে। এর ফলে সমুদ্রসীমায় এক ধরনের ‘ডার্ক ট্রাফিক’ বা অদৃশ্য জাহাজ চলাচলের সৃষ্টি হয়েছে, যা তেল পরিবহনের সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন করে তুলেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী মার্কিন বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি মঙ্গলবার এটিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ বলেও ঘোষণা দেন তিনি। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ দিয়ে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবিও শতভাগ সঠিক নয়। ইরান এখনও এই সমুদ্রপথে হামলা চালাতে সক্ষম এবং তেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব অবস্থার চেয়ে কম রয়েছে। অর্থাৎ, শক্তি প্রদর্শন করে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা এখনও ইরানের রয়েছে, তবে জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা তাদের কমেছে।

আরও পড়ুন: ১৭ কোটি টাকার বিল অনুমোদন, টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে মাহবুবুল হক চৌধুরীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রিন্সেস ডায়ানাকে নিয়ে নতুন বই, ‘সত্য’ প্রকাশের ঘোষণা ভাইয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ এম


প্রিন্সেস ডায়ানাকে নিয়ে নতুন বই, ‘সত্য’ প্রকাশের ঘোষণা ভাইয়ের

রাজকুমারী ডায়ানার মৃত্যুর ৩০তম বার্ষিকী সামনে রেখে, তার ছোট ভাই চার্লস স্পেন্সার তার জীবন ও মৃত্যুর ঘটনার নানা অজানা তথ্য নিয়ে নতুন একটি বই প্রকাশের ঘোষণা করেছেন। এই বইটির শিরোনাম হলো ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’, যা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে বাজারে আসবে।

প্রকাশক সংস্থা পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস জানিয়েছে, মোট ১২টি ভাষায় অনূদিত হতে যাওয়া বইয়ে ১৯৯৭ সালের আগস্টে, প্যারিসে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যু এবং তৎপরবর্তী পরিস্থিতির সম্পর্কে সরাসরি আলোকপাত করেছেন স্পেন্সার। সংবাদ সংস্থাকে চার্লস স্পেন্সার বলেন, ডায়ানার মৃত্যুর তিন দশক ঘনিয়ে আসায় নানা ভুল তথ্য ও অসত্য কথা প্রচার পাচ্ছে। এ কারণে, বোনের সঙ্গে সম্পর্কিত সত্য ও ইতিবাচক স্মৃতিগুলো সবার সামনে তুলে ধরার জন্যই এই বই লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ডায়ানা কেমন প্রাণবন্ত এবং ব্যতিক্রমী একজন মানুষ ছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যই বইটির।

উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৯৭ সালে রাজকুমারী ডায়ানার মৃত্যুর পর থেকে, চার্লস স্পেন্সার তার দুই ভাগ্নে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। সম্প্রতি, হ্যারি এবং তার পরিবার যুক্তরাজ্যে স্পেন্সারের পৈতৃক বাসভবনে গিয়ে ডায়ানার সমাধি পরিদর্শন করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যের দাম

ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বের বাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে চলছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি এবং হেলেনিক শিপিং নিউজ সূত্রে খবর।

এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সূচক জুনের তুলনায় দশমিক ৬ পয়েন্ট এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে এফএও এই সূচক তৈরি করে।

২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যসূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় সূচক এখনো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ কম রয়েছে।

জুলাই মাসে মূলত শস্য, ভোজ্যতেল এবং চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে, এ সময়ে মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের দাম হ্রাস পেয়েছে।

এফএওর শস্য মূল্যসূচক জুলাইয়ে আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গমের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বন্দর অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ফলে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহও গমের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খরা পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।

এদিকে জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এতে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক। পাম এবং সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাম তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় সূর্যমুখী এবং সরিষার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

জুলাই মাসে চিনির দামও বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এল নিনোর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও খরা দেখা দেওয়ায় উৎপাদনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, ব্রাজিলে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়ার প্রত্যাশা চিনির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

পক্ষান্তরে, খাদ্যপণ্যের সব কটির দাম বাড়েনি। আগের মাসের তুলনায় জুলাইয়ে মাংসের দাম কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে এটিই মাংসের দামের প্রথম মাসিক পতন। একই সময়ে দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচকও কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ।

এফএও সতর্ক করে বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও এল নিনোর প্রভাবে তৈরি আবহাওয়া সংকট বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা আবারও চাপে পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দমকল সদর দপ্তরের পাশের হোটেলে ছিল না অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


দমকল সদর দপ্তরের পাশের হোটেলে ছিল না অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা

ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতল হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর ফলে ৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই কারণে রাজ্যের হোটেলগুলির অগ্নি নেভানোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হোটেলের অতিথিদের অনেকের অভিযোগ রয়েছে, হোটেলে যথাযথ আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ছিল না।

সম্প্রতি, তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর কলকাতায় একই ধরনের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা কিংবা ব্যবসার কাজে কলকাতায় এসেছিলেন। কিছু ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। রাত প্রায় ২টা নাগাদ হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুন লেগেছে; দমকলের প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরে ধোঁয়া দ্রুত ছড়াতে থাকে ও ঘুমন্ত আবাসিকদের অনেকেই ঘরের ভিতরে আটকে পড়েন। আগুনের উৎস বা পরিস্থিতি বোঝার আগেই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় হোটেলের একাধিক অংশ।

কিছু ব্যক্তির শরীরে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয় যে, এটি আগুনে দগ্ধ হওয়া, নাকি ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ।

এই হোটেলটি পূর্বে একটি আবাসিক ভবন ছিল, কিন্তু গত তিন-চার বছরে এটি বাণিজ্যিক হয়ে উঠেছে। ভবনটি ইংরেজি অক্ষর ‘এল’ আকৃতিতে তৈরি। পরবর্তীতে সেই বাড়িটিকে হোটেলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ঘরগুলি ছোট ছোট। মঙ্গলবার রাত ২টার সময় মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বাড়ির তিনতলার একটি হোটেলে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়াতে পারলেও মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় গোটা বাড়ি ঢেকে যায়।

এই ধরনের বাণিজ্যিক ভবনে জরুরি প্রস্থান গেট থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ওই ভবনে সেই ধরনের কোনো জরুরি প্রস্থান গেট নেই। প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি সরু গেট রয়েছে। এই ঘটনার পর হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অতিথিদের দাবি, সেখানে যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি আগুন লাগার পরও কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠেনি। ফলে বেশিরভাগ আবাসিকরা আগুনের খবর পান দেরিতে। এক অতিথি জানিয়েছেন, রাত আড়াইটা নাগাদ হোটেলের এক কর্মী এসে তাদের ঘুম থেকে তুলে দ্রুত বের হওয়ার কথা জানান। কিন্তু নীচে নামার পর বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সরু প্রবেশপথ এবং ধোঁয়ায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আবাসিকদের মধ্যে। পরবর্তীতে দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাদের বাইরে বের করে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের চেয়ে ধোঁয়াই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। এক আবাসিকের কথায়, হোটেলের ভিতর এতটাই ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল যে, সামনে কী রয়েছে, তা দেখা যাচ্ছিল না। শ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছিল। দমকলকর্মীদের সহায়তায় তারা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন বলে দাবি করেছিলেন। ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকার অন্য হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অনেক হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও সেগুলি কার্যকর কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না। কোথাও আবার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তারাপীঠের ঘটনার পর মাত্র দু’দিনের মধ্যে কলকাতায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ আরো বেড়ে গেছে।

ঘটনাস্থলের কাছেই নিউমার্কেট থানা, কলকাতা পৌরসভা এবং খাদ্যভবন রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যে থাকা দমকল সদর দপ্তরের কাছের এলাকায় কীভাবে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম উপেক্ষা করে হোটেল চলছিল, তা নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। নিউমার্কেটের অন্যান্য হোটেলেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। কেন এসব এত দিনেও রাজ্য প্রশাসনের নজরে আসেনি, কিংবা বহুতলে হোটেল ব্যবসা চালানোর জন্য দমকলের ছাড়পত্র আদৌ হোটেল মালিকদের কাছে ছিল কিনা- এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তারাপীঠ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন দুই বন্ধু। তাদের একজন আমিরুল করিম জানিয়েছে, আগুন লাগার পর ধোঁয়ার কারণে হোটেলের ভিতরে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তারা কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ওই ঘটনার আতঙ্ক এখনও কাটেনি বলেও জানান তিনি। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলের আবাসিকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছয় জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।

পরপর অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণহানির পর ফের সামনে এসেছে একই প্রশ্ন- নিরাপত্তা বিধি থাকা সত্ত্বেও কেন তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না? হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর, এই অগ্নিকাণ্ডের পর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে প্রশাসন। দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, 'কীভাবে এই হোটেলগুলো পারমিট পেল, ট্রেড লাইসেন্স পেল, তা তদন্ত করে দেখা খুবই প্রয়োজন। আমরা সব খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেব। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার দিকে নজর রেখেছেন।' বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছেন, ভবনটির মূল কাঠামো আবাসিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও পরে বেআইনি ভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, হোটেলের ঘর বাড়ানোর জন্য ভবনের পিলার পর্যন্ত কাটা হয়েছিল। এতে কাঠামোগতভাবে ভবনটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে অভিযোগ তার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলুচিস্তানে ৮ দিনে ২৬ পাকিস্তানি সেনা নিহতের দাবি বিএলএর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


বেলুচিস্তানে ৮ দিনে ২৬ পাকিস্তানি সেনা নিহতের দাবি বিএলএর

অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশ, এটি পাকিস্তানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। প্রদেশটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর একের পর এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় অন্তত ২৬ জন পাকিস্তানি সামরিক এবং সরকার সমর্থিত বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে। এই ঘটনার মধ্যে সামরিক বাহিনী ও সরকারি বাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। গত ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত, মাত্র আট দিনের ব্যবধানে, প্রদেশজুড়ে মোট ২২টি পৃথক হামলার মাধ্যমে এই সংগঠনটি বিপুল সংখ্যক হতাহত দাবি করেছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্টের (টিবিপি) একটি প্রতিবেদনে এ বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএলএ’র মুখপাত্র জীয়ান্দ বেলুচের দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এসব প্রাণঘাতী হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর পাকিস্তানের সেনা বা সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

টিবিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ আগস্ট চাগাইয়ের কোয়েটা-তাফতান বাণিজ্য সড়ক থেকে তিনটি বাণিজ্যিক গাড়ি জব্দ করে বিএলএ’র যোদ্ধারা এই সিরিজ অভিযান শুরু করে। একই দিনে কোয়েটার কামব্রানি রোডে 'ইগল স্কোয়াড' বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের বন্দি করে তাদের সমস্ত অস্ত্র ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

বিএলএ’র হামলার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সেনাবহরগুলো। উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বেলুচিস্তান জুড়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। ওয়াশিংটন ২০২৫ সালে বিএলএ-কে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

পাকিস্তানি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই বেলুচিস্তানে সহিংস ঘটনায় অন্তত ৯৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%