১১:০১ এম
ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বের বাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে চলছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি এবং হেলেনিক শিপিং নিউজ সূত্রে খবর।
এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সূচক জুনের তুলনায় দশমিক ৬ পয়েন্ট এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে এফএও এই সূচক তৈরি করে।
আরও পড়ুন: এপস্টেইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প
২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যসূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় সূচক এখনো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ কম রয়েছে।
জুলাই মাসে মূলত শস্য, ভোজ্যতেল এবং চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে, এ সময়ে মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের দাম হ্রাস পেয়েছে।
এফএওর শস্য মূল্যসূচক জুলাইয়ে আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গমের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বন্দর অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ফলে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহও গমের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের খরা পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে ইসলামী বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী তুর্কিস্তান ঘোষণা
এদিকে জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এতে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক। পাম এবং সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাম তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় সূর্যমুখী এবং সরিষার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
জুলাই মাসে চিনির দামও বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এল নিনোর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও খরা দেখা দেওয়ায় উৎপাদনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, ব্রাজিলে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়ার প্রত্যাশা চিনির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
পক্ষান্তরে, খাদ্যপণ্যের সব কটির দাম বাড়েনি। আগের মাসের তুলনায় জুলাইয়ে মাংসের দাম কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে এটিই মাংসের দামের প্রথম মাসিক পতন। একই সময়ে দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচকও কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের ৩০ নেতাকর্মী গ্রেফতার
এফএও সতর্ক করে বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও এল নিনোর প্রভাবে তৈরি আবহাওয়া সংকট বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা আবারও চাপে পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন