প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যুদ্ধের জন্য অন্যতম উত্তপ্ত রণক্ষেত্র, যেটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। এই প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, সেটি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবির শেষ নেই।
তবে দুই দেশের বাগাড়ম্বরের বাইরের একটি চিত্র আমাদের সামনে এসেছে। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের আসল চিত্র অন্য এক বাস্তবতার নির্দেশ করছে।
আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার-এর তথ্য উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ৮০ শতাংশের বেশি জাহাজ ওঙ্কার উপকূলীয় ওমানি রুট ব্যবহার করেছে। যদিও জাতিসংঘের অনুমোদিত, এই রুটটিতে জাহাজ চলাচলে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল ইরান। ওমানের এই রুটে চলাচল বাড়ার অর্থ হলো—প্রণালীতে জাহাজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইরান যে একচ্ছত্র প্রভাব পূর্বে বিস্তার করত, তা অনেকটাই কমে এসেছে।
কেপলারের ক্রুড অয়েল অ্যানালিসিস বিভাগের প্রধান হুমায়ুন ফালাকশাহী সিএনএনকে বলেছেন, ‘ক্রমেই বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে ইরান অন্তত আংশিকভাবে হলেও হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’
কেপলারের তথ্য অনুসারে, মাত্র এক মাস আগে অবস্থা ভিন্ন ছিল, ওমানি রুটে বলতে গেলে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজই চলাচল করত না। শুরু থেকেই ইরান এই প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দাবি করে এবং ওমানের উত্তর উপকূলের রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায়। কিন্তু বর্তমানে হামলা ও ঝুঁকির তোয়াক্কা না করে, জাহাজগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষার ওপর ভরসা রেখে ওমানি রুট ব্যবহার করছে।
নৌপথের এই পরিবর্তনের কারণে জাহাজের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স বা ‘টোল’ আদায়ের যে পরিকল্পনা তেহরান করেছিল, তা থমকে গেছে। অধিকাংশ জাহাজ ইরানের পছন্দনীয় রুট এড়িয়ে চলায় তাদের কাছ থেকে ফি আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ‘পিকারিং এনার্জি পার্টনার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং জানিয়েছেন, ইরানের এই টোল আদায়ের দাবি মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক অংশীদার মেনে নেয়নি।
এদিকে, ইরানের হামলার ঝুঁকি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলো নতুন কৌশল নেয়ার চেষ্টা করছে। কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বড় বড় তেলবাহী জাহাজ দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করে ওমান উপসাগরে বিপদসীমার বাইরে অপেক্ষারত অন্য ট্যাঙ্কারে তেল স্থানান্তরিত করছে।
এমনকি আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা (ট্রান্সপন্ডার) সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ রেখে চলেছে। এর ফলে সমুদ্রসীমায় এক ধরনের ‘ডার্ক ট্রাফিক’ বা অদৃশ্য জাহাজ চলাচলের সৃষ্টি হয়েছে, যা তেল পরিবহনের সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন করে তুলেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী মার্কিন বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি মঙ্গলবার এটিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ বলেও ঘোষণা দেন তিনি। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ দিয়ে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবিও শতভাগ সঠিক নয়। ইরান এখনও এই সমুদ্রপথে হামলা চালাতে সক্ষম এবং তেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব অবস্থার চেয়ে কম রয়েছে। অর্থাৎ, শক্তি প্রদর্শন করে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা এখনও ইরানের রয়েছে, তবে জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা তাদের কমেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন