বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ পি.এম
টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটি, পানি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা (পলিসি গাইডলাইন) প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয় গঠন করেছে।
কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব। সদস্য-সচিব হিসেবে থাকবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআই)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব ফুড প্রফেশনালস এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত পলিসি গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে।
এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা; বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞদের কো-অপ্ট করার সুযোগ।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ কারণে বালাইনাশকের ব্যবহার যেন বিজ্ঞানসম্মত, পরিমিত ও পরিবেশবান্ধব হয়, এ বিষয়ে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।
নতুন এই বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতিগত সংস্কার আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫৫ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী এবং দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আরও এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোমস্তাপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ২৫৫ গ্রাম গাঁজাসহ মোঃ টুটুল ওরফে সাহু (৪০) নামের একজন ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃত টুটুল চৌডালা প্রামানিকপাড়া গ্রামের মৃত কশিমুদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
একই অভিযানে জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামী মোঃ মজিবুর রহমান-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি গোমস্তাপুর থানার বাংগাবড়ী বেজিনাথপুর এলাকার মৃত জহির আলী মন্ডলের ছেলে।
গোমস্তাপুর থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত উভয় আসামীকে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, জামায়াত ইসলামী থেকে কেবল বহিষ্কারের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ হারানোর সুযোগ নেই।
তিনি বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ইসি মাছউদ বলেন, শুধু দলের বহিষ্কারের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। সংসদের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি পাওয়ার পর বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি পদ হারানোর সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, আইন অনুযায়ী যদি কেউ দল থেকে পদত্যাগ করেন, তবে তার এমপি পদ হারানোর কথা রয়েছে। কিন্তু দল যদি বহিষ্কার করে, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী এমপি পদের হারানোর সুযোগ নেই। সংসদ থেকে রেফারেন্স সাপেক্ষে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের মাধ্যমে সংসদের চিঠি পেলে, কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর সৌদি আরবের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’-তে আগুন লাগার ঘটনা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। স্যাটেলাইটের সর্বশেষ ছবিতে জাহাজটির অবস্থানে উজ্জ্বল আলোর উপস্থিতি দেখা গেছে, যা সেখানে তীব্র আগুন জ্বলতে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রথমে সৌদি আরবও নিশ্চিত করেছিল, লোহিত সাগরে হামলার শিকার হওয়ার পর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। বৃহস্পতিবার হুতি বিদ্রোহীরা দুটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত একটি ট্যাংকারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্যাটেলাইটে যে স্থানে উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখা গেছে, ঠিক সেখান থেকেই ‘এনসেলিয়া’ ট্যাংকারটি তার স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) ব্যবহার করে সর্বশেষ অবস্থান সম্প্রচার করছিল। সেই একই স্থানের আগের দিনের স্যাটেলাইট ছবিতে এমন কোনো আলোর উপস্থিতি ছিল না।
সৌদি বার্তা সংস্থার খবরে পরিবহন কর্তৃপক্ষের এক অজ্ঞাত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলের সময় ট্যাংকারটিতে হামলা হয়। হামলাটির ফলে জাহাজের সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে, সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, সৌদি আরবের সুকাইক শহর থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। তবুও, সংস্থাটি আক্রান্ত জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় তিনশো বছর আগে, ১৭২৪ সালে নির্মিত হয়েছিল দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর। মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই মানমন্দির আজ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অন্যতম আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। দিল্লিতে যখনই কোনো আন্দোলন কিংবা গণসমাবেশের খবর আসে, তখন যে নামটি সর্বাধিক উচ্চারিত হয় তা হলো ‘যন্তর মন্তর’।
সম্প্রতি নিট বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এই স্থান। একইসঙ্গে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অবস্থান কর্মসূচি এখানে চলমান রয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন দিল্লির প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে যন্তর মন্তর?
ইতিহাস নির্দেশ করে, ১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনের আশেপাশে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আগে রাজধানীর প্রধান প্রতিবাদস্থল হলো বোট ক্লাব এলাকা। কিন্তু ১৯৮৮ সালে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষকের বিশাল সমাবেশের পর জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর, বোট ক্লাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হলে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করলেও, যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে, এখানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রভাব প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি পড়ে না। একইসাথে, সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটি সহজে পৌঁছানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুত প্রতিবাদের পরিচিত ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
২০১৮ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জানানো হয়, আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এরপর থেকে যন্তর মন্তর আরও বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
এদিকে, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। অভিযোগ উঠে যে, তিনি পরোক্ষভাবে তাদের ‘তেলাপোকা’ ও সমাজের পরজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর প্রতিবাদে, রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে।
গত ২০ জুলাই দলটির আহ্বানে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ যান্ত্রিক প্রতিরোধ হিসেবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিজিৎ দিপকে নতুন কোনো সড়ক কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিদর্শন হিসেবে যাত্রা শুরু করা যন্তর মন্তর আজ যেন ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার আরেক নাম হয়ে উঠেছে। তিনশ বছর পেরিয়ে গেলেও ইতিহাসের এই স্থাপনাটি এখনও মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ