বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৫৩ পি.এম
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর সৌদি আরবের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’-তে আগুন লাগার ঘটনা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। স্যাটেলাইটের সর্বশেষ ছবিতে জাহাজটির অবস্থানে উজ্জ্বল আলোর উপস্থিতি দেখা গেছে, যা সেখানে তীব্র আগুন জ্বলতে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রথমে সৌদি আরবও নিশ্চিত করেছিল, লোহিত সাগরে হামলার শিকার হওয়ার পর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। বৃহস্পতিবার হুতি বিদ্রোহীরা দুটি ট্যাংকারে হামলার দাবি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত একটি ট্যাংকারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্যাটেলাইটে যে স্থানে উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখা গেছে, ঠিক সেখান থেকেই ‘এনসেলিয়া’ ট্যাংকারটি তার স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) ব্যবহার করে সর্বশেষ অবস্থান সম্প্রচার করছিল। সেই একই স্থানের আগের দিনের স্যাটেলাইট ছবিতে এমন কোনো আলোর উপস্থিতি ছিল না।
সৌদি বার্তা সংস্থার খবরে পরিবহন কর্তৃপক্ষের এক অজ্ঞাত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলের সময় ট্যাংকারটিতে হামলা হয়। হামলাটির ফলে জাহাজের সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে, সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, সৌদি আরবের সুকাইক শহর থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। তবুও, সংস্থাটি আক্রান্ত জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় তিনশো বছর আগে, ১৭২৪ সালে নির্মিত হয়েছিল দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর। মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই মানমন্দির আজ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অন্যতম আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। দিল্লিতে যখনই কোনো আন্দোলন কিংবা গণসমাবেশের খবর আসে, তখন যে নামটি সর্বাধিক উচ্চারিত হয় তা হলো ‘যন্তর মন্তর’।
সম্প্রতি নিট বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এই স্থান। একইসঙ্গে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অবস্থান কর্মসূচি এখানে চলমান রয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন দিল্লির প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে যন্তর মন্তর?
ইতিহাস নির্দেশ করে, ১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনের আশেপাশে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আগে রাজধানীর প্রধান প্রতিবাদস্থল হলো বোট ক্লাব এলাকা। কিন্তু ১৯৮৮ সালে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষকের বিশাল সমাবেশের পর জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর, বোট ক্লাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হলে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করলেও, যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে, এখানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রভাব প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি পড়ে না। একইসাথে, সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটি সহজে পৌঁছানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুত প্রতিবাদের পরিচিত ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
২০১৮ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জানানো হয়, আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এরপর থেকে যন্তর মন্তর আরও বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
এদিকে, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। অভিযোগ উঠে যে, তিনি পরোক্ষভাবে তাদের ‘তেলাপোকা’ ও সমাজের পরজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর প্রতিবাদে, রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে।
গত ২০ জুলাই দলটির আহ্বানে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ যান্ত্রিক প্রতিরোধ হিসেবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিজিৎ দিপকে নতুন কোনো সড়ক কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিদর্শন হিসেবে যাত্রা শুরু করা যন্তর মন্তর আজ যেন ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার আরেক নাম হয়ে উঠেছে। তিনশ বছর পেরিয়ে গেলেও ইতিহাসের এই স্থাপনাটি এখনও মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দক্ষিণ বাজারে আপন জুয়েলার্স নামে একটি স্বর্ণের দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে বাজারের বাবুল কর্মকারের স্বর্ণের দোকানের পেছনের দেয়াল ভেঙে দুর্বৃত্তরা দোকানে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত করে। দোকানের মালিক বাবুল কর্মকার জানান, সকালে দোকান খুলতে এসে তিনি দেখতে পান দোকানের পেছনের দেয়াল ভাঙা। পরবর্তী সময়ে হিসাব করে দেখা যায়, দোকান থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, প্রায় ৫ আনা স্বর্ণ এবং ৮০ ভরি রুপা চুরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ঘটনা জানার পর বৃহস্পতিবার সকালে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, "ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চোরদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি খুব শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।" তিনি আরো বলেন, "ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাতের পাহারা আরও জোরদার করতে হবে। প্রতিটি দোকান ও মার্কেটের সামনে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক আলো জ্বালিয়ে রাখার অনুরোধ করছি। কাউখালী থানা পুলিশের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বদা পাশে থাকবে।" এদিকে কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, "আমি এর আগেও পুলিশ প্রশাসনকে বলেছিলাম, দক্ষিণ বাজারে রাতের পাহারা যথেষ্ট নয়। এ এলাকায় প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে এবং মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের আনাগোনা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দুই সমিতির পৃথক সভা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।" তিনি অভিযোগ করেন, "দক্ষিণ বাজারের ভেতরে কিছু চোর ও মাদক ব্যবসায়ীর বসবাস রয়েছে, তারাই বিভিন্ন অপরাধের মূল হোতা। কিছুদিন আগে দিনের বেলায় দক্ষিণ বাজারে সোহাগ তালুকদারের দোকান থেকে টাকা চুরির ঘটনায় নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।" চুরির ঘটনায় দক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত চোরদের গ্রেপ্তার, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং বাজারে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীতে যৌথ অভিযানে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ২২ হাজার মিটার অবৈধ মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়্যেদা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌ পুলিশের একটি দল সহায়তা করে।
মৎস্য বিভাগের সূত্রে জানা যায়, এই অভিযানে নদী থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের ১০টি 'চায়না দুয়ারী' জাল এবং ১৮ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের ২টি 'বাঁধা জাল' জব্দ করা হয়েছে। জব্দ জালের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পরে জব্দ করা জালগুলো শহরের গুরুধাম এলাকায় নিয়ে পুড়িয়ে ধংস করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ক্ষতিকর অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলতে থাকবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে 'মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন,-১৯৫০' বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী হিসাবে পরিচিত কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা। এই শহরটি বছরের বড় একটি সময় তীব্র শীতের জন্য পরিচিত। বর্তমানে এটি নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে। চলতি গ্রীষ্মেই ভেঙেছে কয়েক দশকের পুরোনো তাপমাত্রার রেকর্ড। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাময়িক কোনো আবহাওয়াগত অস্বাভাবিকতা নয়; বরং মধ্য এশিয়াজুড়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ুরই স্পষ্ট প্রতিফলন। এই পরিস্থিতির ফল ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পানি এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর আরও গভীর প্রভাব ফেলবে।
গ্রীষ্ম মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই আস্তানায় দুটি রেকর্ড গড়া তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত ১৪ জুলাই শহরটির তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে। এতে ৩৪ বছর আগে একই দিনে রেকর্ড হওয়া ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা ভেঙে যায়। এরও আগে, ২৩ জুন তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ১৯৪১ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।
শুধু রাজধানী নয়, তীব্র গরমে পুড়ছে পুরো কাজাখস্তান। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি, আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও তা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। নাগরিকদের সতর্কতা দেওয়ার জন্য জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা কাজহাইড্রোমেট জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে ৩৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে।
অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, গত সপ্তাহজুড়ে জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ‘১১২’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের বারবার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রচণ্ড রোদের উত্তাপে গরম হয়ে যাওয়া রাস্তার ওপর ডিম ভেজে দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, কাজাখস্তানের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্যকর অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার শহরের তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
কিন্তু কাজাখস্তানে তাপপ্রবাহে প্রতিবছর কত মানুষ মারা যান, তার নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় পরিসংখ্যান নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের মৃত্যুর জন্য এখনো আলাদা কোনো তথ্যভাণ্ডার বা সূচক চালু হয়নি। এর পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যানও এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। যদিও প্রবীণ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সতর্কতা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ডব্লিউএইচওর ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স অঁরি পি. ক্লুজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে মধ্য এশিয়ায় তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়বে। বিশেষভাবে কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকবে। তাই পরবর্তী গ্রীষ্মের আগেই প্রতিটি দেশের কার্যকর হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা জরুরি।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশ পরিকল্পনা কার্যকর করেছে, সেখানে তাপপ্রবাহজনিত অতিরিক্ত মৃত্যু প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান তাপপ্রবাহ যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফল। কাজহাইড্রোমেটের তথ্য বলছে, বিশ্বের গড়ের তুলনায় কাজাখস্তান দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। ২০২৫ সাল ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। ওই বছরে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
এর ফলে ৩০ ও ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা বাড়ছে। একসাথে বাড়ছে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যদিও অধিকাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, তবুও দীর্ঘস্থায়ী গরমের কারণে নতুন করে দাবানলের আশঙ্কা রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, আগেভাগে তুষার গলে যাওয়ার কারণে বসন্তের বন্যা দ্রুত দেখা দিচ্ছে। এতে সেচের জন্য জলাধারে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তুলনামূলক উষ্ণ শীতের ফলে মাটির গভীরে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতাও পৌঁছাচ্ছে না, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের পর থেকে কাজাখস্তানের হিমবাহগুলো তাদের মোট ভরের ১৪ থেকে ৩০ শতাংশ হারিয়েছে। বর্তমানে হিমবাহ দ্রুত গলার কারণে নদীতে সাময়িকভাবে পানির প্রবাহ বাড়লেও শতাব্দীর শেষ দিকে পরিস্থিতি উল্টো হয়ে ভয়াবহ পানিসংকট দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সির দরিয়া, ইলি ও অন্যান্য পার্বত্য নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে মধ্য এশিয়াজুড়ে পানি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে যাবে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশ কাজাখস্তানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরা কৃষি উৎপাদন, চারণভূমি ও পানির সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর প্রভাব শুধু দেশে নয়, পুরো অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। সূত্র: ইউরো নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ