প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রায় তিনশো বছর আগে, ১৭২৪ সালে নির্মিত হয়েছিল দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর। মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই মানমন্দির আজ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অন্যতম আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। দিল্লিতে যখনই কোনো আন্দোলন কিংবা গণসমাবেশের খবর আসে, তখন যে নামটি সর্বাধিক উচ্চারিত হয় তা হলো ‘যন্তর মন্তর’।
সম্প্রতি নিট বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এই স্থান। একইসঙ্গে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অবস্থান কর্মসূচি এখানে চলমান রয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন দিল্লির প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে যন্তর মন্তর?
ইতিহাস নির্দেশ করে, ১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনের আশেপাশে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আগে রাজধানীর প্রধান প্রতিবাদস্থল হলো বোট ক্লাব এলাকা। কিন্তু ১৯৮৮ সালে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষকের বিশাল সমাবেশের পর জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর, বোট ক্লাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হলে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করলেও, যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে, এখানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রভাব প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি পড়ে না। একইসাথে, সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটি সহজে পৌঁছানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুত প্রতিবাদের পরিচিত ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
২০১৮ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জানানো হয়, আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এরপর থেকে যন্তর মন্তর আরও বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
এদিকে, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। অভিযোগ উঠে যে, তিনি পরোক্ষভাবে তাদের ‘তেলাপোকা’ ও সমাজের পরজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর প্রতিবাদে, রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে।
গত ২০ জুলাই দলটির আহ্বানে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ যান্ত্রিক প্রতিরোধ হিসেবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিজিৎ দিপকে নতুন কোনো সড়ক কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিদর্শন হিসেবে যাত্রা শুরু করা যন্তর মন্তর আজ যেন ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার আরেক নাম হয়ে উঠেছে। তিনশ বছর পেরিয়ে গেলেও ইতিহাসের এই স্থাপনাটি এখনও মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করে চলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন