০১:১৮ এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সমাবেশে তিনি শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় হলো তারা এই দেশের গর্বিত নাগরিক। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে অভিহিত করার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ মহল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষকে কেবল ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে গত নির্বাচনে দেশের মানুষ সেই ধারণার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যারা ক্ষমতার মোহে দেশের বিভিন্ন স্থানে উপাসনালয় ও সম্পত্তি দখল এবং সহিংসতার রাজনীতি করেছে, জনগণ তাদের সেই অপচেষ্টা সফল হতে দেয়নি। বিগত দিনে বেদখল হওয়া অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার এবং মন্দির-সংক্রান্ত অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায়সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন