০৪:৪৩ এম
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনার সঙ্গে পরকীয়াজনিত বিষয় জড়িত হওয়ার অভিযোগ এসেছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়, প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার ছবি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহত মমতাজের সঙ্গে ওই নেতার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতের ঘটনা, ইতালির স্থানীয় সময় রাত ৯ টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতদের নিকটাত্মীয় হোসনেয়ারা বেগম এ তথ্য জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের পুত্র।
আরও পড়ুন: দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোকে মেলানোর মানবিক কারিগর রেড ক্রিসেন্ট: মো. মোস্তাক মিয়া
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তাঁর স্ত্রী মমতাজ আরজু (৩৮) এবং তাদের মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা (৫)। একই ঘটনায় কামালের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
জানা যায়, দেশে থাকাকালীন কামালের স্ত্রী আরজুর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহাদাতের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালি নিয়ে যান, কারণ তারা তাদের সম্পর্ক নিষিদ্ধ করতে পারেননি।
এর আগে চার বছর আগে, শাহাদাতের স্ত্রী বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে পরকীয়ার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। পরে প্রেমিকা মমতাজ বেগম আরজু ইতালি যাওয়ার সংবাদ পেয়ে শাহাদাতও যুক্তরাজ্য ছেড়ে ইতালি চলে আসেন।
ইতালি প্রবাসীদের একাধিক সূত্র ও নিহত কামালের গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন যে, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতের ঘটনায় কামাল তার রোমের বাসার পার্শ্ববর্তী পার্কে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে প্রেমিক শাহাদাতের সঙ্গে বৈঠক করতে বসেন। বৈঠকের সময় কামালের দুই সন্তানও সেখানে উপস্থিত ছিল। বৈঠকে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে শাহাদাত ছুরিকাঘাত করে প্রেমিকা আরজু, তার স্বামী কামাল উদ্দিন বাবুল ও মেয়ে আরিশাকে ঘটনাস্থলে হত্যা করে। কামালের ছেলে অয়ন আহত হলেও সে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
এদিকে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকেও মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’
অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্য শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনিবার (২৭ জুন) তার ছবি প্রকাশ করে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তারা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে জানায়, ‘ছবিতে থাকা ব্যক্তি রোমে গত রাতে ঘটে যাওয়া ট্রিপল মার্ডারের রচয়িতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। লোকটি শাহাদাত হোসেন নামে পরিচিত। ১৯৮৩ সালের ১০ মে বাংলাদেশে জন্ম। তার সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমকে (৩৩৪৬৯০৩২৯৫) জানাতে পারেন।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন হায়দার বলেছেন, শাহাদাত হোসেন চার বছর আগে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর থেকে দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে চলতি বিষয়ে শাহাদাতের পদত্যাগ বা অভ্যাহতির কোনো লিখিত নথি তিনি দেখাতে পারেননি।
আরও পড়ুন: হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত
আরো উল্লেখযোগ্য হলো, শাহাদাতের বড় ভাই সৌদি প্রবাসী ইসমাইল হোসেন হারুন জানিয়েছেন, চার বছর আগে বাড়ির সব সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর থেকে শাহাদাতের সঙ্গে পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন