বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:১৯ পি.এম
নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং অন্যজন তার সহযোগী মো. তারেক রহমান (২১)।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ১৯ আগস্ট সকালে ধামইরহাটের তালপুকুর মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে অজানা এক নারীর অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ডিবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ঘটনার ৩-৪ দিন আগে থেকে নিখোঁজ থাকা মেরিনা বেগমের ছেলে কাওসার আলী থানায় মামলা ও জিডি করেছিলেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, মূল অভিযুক্ত বাবুল হোসেনের সঙ্গে মেরিনার পূর্বপরিচয় ছিল। বাবুল তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মেরিনা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং সতর্ক করেন। এতে বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট রাতে মেরিনাকে মোটরসাইকেলে করে এক নির্জন আমবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সহযোগী তারেক রহমানের কোমর থেকে বেল্ট খুলে মেরিনার গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করতে বাবুল ও তারেক মোটরসাইকেলের পেট্রোল দিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেন এবং নিহতের ব্যবহার্য মালামাল বিভিন্ন স্থানে ফেলে আলামত নষ্টের চেষ্টা করেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্ট এবং নিহতের জুতা ও পোশাক উদ্ধার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও জানান, চারজনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলার বাকি দুই আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলেরা আক্রান্ত হলে দেরি না করে সময়মতো চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দিয়েছেন।
আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ প্রদান করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবে যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে পানিশূন্যতার কারণে এটি জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি বললেন, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং কার্যকর রোগ নজরদারি সহ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।
সাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং কিছু এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় আমাদের একটি টার্গেটেড ইভিডেন্স বেজড ও প্রিভেনটিভ এপ্রোচ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণে রোগের বোঝা, পূর্ববর্তী টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’
তিনি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেয়ার কথাও বলেন। তিনি জানিয়েছেন, আমরা শুধুমাত্র রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর নির্ভরশীল নই। বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেটিতে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবেন না। বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের বিষয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজস্ব ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এতে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, কভারেজ মনিটরিং, প্রোগ্রাম সুপারভিশন এবং পরবর্তী মূল্যায়ন সহজ ও নির্ভুল হবে।
সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২য় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করা আবশ্যক। ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল নাগরিক (গর্ভবতী নারী ব্যতীত) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা পাবেন। সারাদেশে মোট ৫১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির অধীনস্থ লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এই ৪টি থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ডিএনসিসির শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতে সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় আমরা ১৭টি ওয়ার্ডেও এই কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচও-এর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআরবির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে অর্থ দিতে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে নতুন আইন পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে ‘নিউজ বার্গেইনিং ইনসেনটিভ’ নামে আইনটি পাস হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
আইন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদ ও সার্চ সেবা পরিচালনাকারী বড় প্রযুক্তি কম্পানিগুলো যদি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি না করে, τότε তাদের বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে।
এই তালিকায় রয়েছে মেটা, গুগল, টিকটক ও মাইক্রোসফটের লিংকডইন। অস্ট্রেলিয়ায় যেসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ২৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি আয় হয় এবং যাদের উল্লেখযোগ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সার্চ সেবা রয়েছে, তাদের ওপর এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।
তবে চুক্তি করলে শুল্ক এড়ানোর সুযোগ থাকছে। আইন অনুযায়ী, কোনো প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে অন্তত আটটি ভিন্ন স্থানীয় সংবাদ প্রকাশকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। এসব চুক্তিতে সংবাদ তৈরির কাজ বা অনলাইনে সংবাদ কনটেন্ট প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যয় থাকতে হবে।
বড় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে করা চুক্তির ব্যয় শুল্কের দায়ের ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ছোট ও মাঝারি সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করা যাবে।
তবে কোনো একটি চুক্তির মাধ্যমে মোট দায়ের ২৫ শতাংশের বেশি সমন্বয় করা যাবে না।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনটির মাধ্যমে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্দিষ্ট আর্থিক সময়সীমার মধ্যেই এসব চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারের মতে, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোতে সংবাদ কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা হয় এবং এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ও বাড়ে। তাই সেই আয়ের একটি অংশ স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সংবাদ উৎপাদনে ফেরানো প্রয়োজন।
নতুন এই আইন অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থের উৎস তৈরি হবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া এর আগেও পদক্ষেপ নিয়েছিল। এবার নতুন আইন করে সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভবিষ্যতে যুদ্ধে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য ইরান ক্রমাগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। এখন থেকে তারা আরও নির্ভুল, বিধ্বংসী এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অস্ত্র তৈরি করছে বলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের অস্ত্রশস্ত্র অতীতের তুলনায় ভিন্ন হবে। এসব পরিবর্তন সম্ভবত নতুন প্রজন্মের ওয়ারহেড, হামলার নির্ভুলতা, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কিংবা অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে দেখা যাবে।
এছাড়া মোহেব্বি দাবি করেছেন যে, ইরান কখনোই অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ করেনি এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতায় যে কোনো ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিয়াদ কখনোই ইয়েমেনি এই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে না। গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পরও ইসরায়েল হামাসকে বড় ধরনের ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তার মতে, ইসরায়েলের তুলনায় সামরিকভাবে দুর্বল সৌদি আরবের পক্ষে আনসারুল্লাহকে পরাজিত করা আরও কঠিন হবে। সৌদি আরব যত বেশি হামলা চালাবে, পাল্টা আঘাতও তত বেশি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজার অস্ট্রেলীয় ত্রাণকর্মী লালজাওমি ‘জোমি’ ফ্র্যাঙ্ককম এবং তার সহকর্মীদের হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার ইসরাইলি সিদ্ধান্তে অস্ট্রেলিয়া ‘ক্ষুব্ধ’ হয়ে উঠেছে। দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক বৃহস্পতিবার এ সংবাদ উল্লেখ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত হিলেল নিউম্যানকে তলব করা হবে। পাশাপাশি ইসরাইলে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূতকে দেশটির সরকারের কাছে ‘সরাসরি আমাদের অবস্থান জানাতে’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে।
ওং উল্লেখ করেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সরকার গত রাতে ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অবগত হয়েছে। ঘোষণার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ব মানবিকতা দিবসে এমন একটি সিদ্ধান্ত জোমির স্বজন, মানবিক সহায়তাকর্মী এবং সকল অস্ট্রেলীয় নাগরিকের জন্য বিশেষভাবে অপমানজনক।’
২০২৪ সালের এপ্রিলে, ইসরাইলি বিমান হামলায় ভুলক্রমে তাদের ত্রাণবহরে আঘাত হানা হলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত কর্মীর মধ্যে ফ্র্যাঙ্ককম নিহত হন।
তাদের মৃত্যু সারা বিশ্বে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি পুনরায় জোরালো হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ওই স্বেচ্ছাসেবকদের হত্যা করেছে।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বুধবার জানায়, তাদের মৃত্যুর ঘটনায় কোন ফৌজদারি তদন্ত হবে না।
এ ব্যাপারে ওং বলেন, ‘জোমি অস্ট্রেলিয়ার সেরাটার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার সাহসের প্রশংসা করা উচিত। তার পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাদের প্রত্যাশিত জবাবদিহির ধারেকাছেও আসে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ