প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলেরা আক্রান্ত হলে দেরি না করে সময়মতো চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দিয়েছেন।
আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ প্রদান করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবে যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে পানিশূন্যতার কারণে এটি জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি বললেন, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং কার্যকর রোগ নজরদারি সহ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।
সাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং কিছু এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় আমাদের একটি টার্গেটেড ইভিডেন্স বেজড ও প্রিভেনটিভ এপ্রোচ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণে রোগের বোঝা, পূর্ববর্তী টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’
তিনি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেয়ার কথাও বলেন। তিনি জানিয়েছেন, আমরা শুধুমাত্র রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর নির্ভরশীল নই। বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেটিতে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবেন না। বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের বিষয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজস্ব ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এতে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, কভারেজ মনিটরিং, প্রোগ্রাম সুপারভিশন এবং পরবর্তী মূল্যায়ন সহজ ও নির্ভুল হবে।
সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২য় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করা আবশ্যক। ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল নাগরিক (গর্ভবতী নারী ব্যতীত) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা পাবেন। সারাদেশে মোট ৫১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির অধীনস্থ লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এই ৪টি থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ডিএনসিসির শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতে সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় আমরা ১৭টি ওয়ার্ডেও এই কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচও-এর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআরবির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন