বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:২১ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে অর্থ দিতে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে নতুন আইন পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে ‘নিউজ বার্গেইনিং ইনসেনটিভ’ নামে আইনটি পাস হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
আইন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদ ও সার্চ সেবা পরিচালনাকারী বড় প্রযুক্তি কম্পানিগুলো যদি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি না করে, τότε তাদের বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে।
এই তালিকায় রয়েছে মেটা, গুগল, টিকটক ও মাইক্রোসফটের লিংকডইন। অস্ট্রেলিয়ায় যেসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ২৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি আয় হয় এবং যাদের উল্লেখযোগ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সার্চ সেবা রয়েছে, তাদের ওপর এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।
তবে চুক্তি করলে শুল্ক এড়ানোর সুযোগ থাকছে। আইন অনুযায়ী, কোনো প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে অন্তত আটটি ভিন্ন স্থানীয় সংবাদ প্রকাশকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। এসব চুক্তিতে সংবাদ তৈরির কাজ বা অনলাইনে সংবাদ কনটেন্ট প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যয় থাকতে হবে।
বড় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে করা চুক্তির ব্যয় শুল্কের দায়ের ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ছোট ও মাঝারি সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করা যাবে।
তবে কোনো একটি চুক্তির মাধ্যমে মোট দায়ের ২৫ শতাংশের বেশি সমন্বয় করা যাবে না।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনটির মাধ্যমে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্দিষ্ট আর্থিক সময়সীমার মধ্যেই এসব চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারের মতে, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোতে সংবাদ কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা হয় এবং এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ও বাড়ে। তাই সেই আয়ের একটি অংশ স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সংবাদ উৎপাদনে ফেরানো প্রয়োজন।
নতুন এই আইন অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থের উৎস তৈরি হবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া এর আগেও পদক্ষেপ নিয়েছিল। এবার নতুন আইন করে সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভবিষ্যতে যুদ্ধে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য ইরান ক্রমাগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। এখন থেকে তারা আরও নির্ভুল, বিধ্বংসী এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অস্ত্র তৈরি করছে বলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের অস্ত্রশস্ত্র অতীতের তুলনায় ভিন্ন হবে। এসব পরিবর্তন সম্ভবত নতুন প্রজন্মের ওয়ারহেড, হামলার নির্ভুলতা, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কিংবা অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে দেখা যাবে।
এছাড়া মোহেব্বি দাবি করেছেন যে, ইরান কখনোই অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ করেনি এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতায় যে কোনো ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিয়াদ কখনোই ইয়েমেনি এই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে না। গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পরও ইসরায়েল হামাসকে বড় ধরনের ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তার মতে, ইসরায়েলের তুলনায় সামরিকভাবে দুর্বল সৌদি আরবের পক্ষে আনসারুল্লাহকে পরাজিত করা আরও কঠিন হবে। সৌদি আরব যত বেশি হামলা চালাবে, পাল্টা আঘাতও তত বেশি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজার অস্ট্রেলীয় ত্রাণকর্মী লালজাওমি ‘জোমি’ ফ্র্যাঙ্ককম এবং তার সহকর্মীদের হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার ইসরাইলি সিদ্ধান্তে অস্ট্রেলিয়া ‘ক্ষুব্ধ’ হয়ে উঠেছে। দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক বৃহস্পতিবার এ সংবাদ উল্লেখ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত হিলেল নিউম্যানকে তলব করা হবে। পাশাপাশি ইসরাইলে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূতকে দেশটির সরকারের কাছে ‘সরাসরি আমাদের অবস্থান জানাতে’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে।
ওং উল্লেখ করেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সরকার গত রাতে ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অবগত হয়েছে। ঘোষণার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ব মানবিকতা দিবসে এমন একটি সিদ্ধান্ত জোমির স্বজন, মানবিক সহায়তাকর্মী এবং সকল অস্ট্রেলীয় নাগরিকের জন্য বিশেষভাবে অপমানজনক।’
২০২৪ সালের এপ্রিলে, ইসরাইলি বিমান হামলায় ভুলক্রমে তাদের ত্রাণবহরে আঘাত হানা হলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত কর্মীর মধ্যে ফ্র্যাঙ্ককম নিহত হন।
তাদের মৃত্যু সারা বিশ্বে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি পুনরায় জোরালো হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ওই স্বেচ্ছাসেবকদের হত্যা করেছে।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বুধবার জানায়, তাদের মৃত্যুর ঘটনায় কোন ফৌজদারি তদন্ত হবে না।
এ ব্যাপারে ওং বলেন, ‘জোমি অস্ট্রেলিয়ার সেরাটার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার সাহসের প্রশংসা করা উচিত। তার পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাদের প্রত্যাশিত জবাবদিহির ধারেকাছেও আসে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী ও যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সৈয়দ মোনালিসা ইসলামকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯ মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন করে জুলাইয়ে নিউ মার্কেট থানায় আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন।
মোনালিসা ইসলামের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
এদিন আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি দেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এর বিরোধিতা হয়।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পরবর্তী রিমান্ডের আদেশ দেওয়ার জন্য আদালত তদন্তের বিষয়টি পর্যালোচনা করেন।
অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেহেরপুরের ৮ মামলায় এবং ঢাকায় করা দুদকের এক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান মোনালিসা ইসলাম। তিনি যখনই কারামুক্ত হবেন ঠিক তখনই মুক্তি আটকাতে তাকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। আজ তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো।
যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। এ নিয়ে তার নামে মোট ১০টি মামলা করা হলো।’
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৫টায় নিউ মার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের শ্যালক আব্দুর রহমান। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ঢাকার ইস্কাটন রোডের একটি বাড়ি থেকে পুলিশ মোনালিসা ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীতে বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) শুরু করেছে মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে নগরীর সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের সামনে থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সচিব আশরাফুল আমিন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে চসিক বিটিআই ব্যবহার করছে। এর ফলস্বরূপ গত বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছর এই সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮০০-র বেশি ডেঙ্গু রোগী ছিল, কিন্তু চলতি বছরে তা প্রায় ৫৫০-৫৮০ জনে কমে এসেছে। গত বছরের সময়ে ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু ঘটলেও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলি হলো ২, ৩, ১৭, ১৮, ১৯, ৩২, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মশক নিধন কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করতে শতাধিক কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ আট এলাকায় বিশেষ নজরদারির জন্য দায়িত্বে থাকবেন ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনের পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্ববহ। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নালা-নর্দমা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
প্রোগ্রাম শেষে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ