প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং অন্যজন তার সহযোগী মো. তারেক রহমান (২১)।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ১৯ আগস্ট সকালে ধামইরহাটের তালপুকুর মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে অজানা এক নারীর অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ডিবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ঘটনার ৩-৪ দিন আগে থেকে নিখোঁজ থাকা মেরিনা বেগমের ছেলে কাওসার আলী থানায় মামলা ও জিডি করেছিলেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, মূল অভিযুক্ত বাবুল হোসেনের সঙ্গে মেরিনার পূর্বপরিচয় ছিল। বাবুল তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মেরিনা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং সতর্ক করেন। এতে বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট রাতে মেরিনাকে মোটরসাইকেলে করে এক নির্জন আমবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সহযোগী তারেক রহমানের কোমর থেকে বেল্ট খুলে মেরিনার গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করতে বাবুল ও তারেক মোটরসাইকেলের পেট্রোল দিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেন এবং নিহতের ব্যবহার্য মালামাল বিভিন্ন স্থানে ফেলে আলামত নষ্টের চেষ্টা করেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্ট এবং নিহতের জুতা ও পোশাক উদ্ধার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও জানান, চারজনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলার বাকি দুই আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন