০৭:০৮ এম
মিউজিয়াম অব ইসলামিক কালচারাল হেরিটেজ এন্ড আল কোরআন লার্নিং সেন্টার থাইল্যান্ডের গৌরবোজ্জ্বল একটি প্রতিষ্ঠান। এটি দেশটির নারা থিওয়াত শহরে অবস্থিত এবং এখানে ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির অসংখ্য নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি, এই জাদুঘর ইসলামী ভ্রাতৃত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রদর্শনও বটে।
এখানে কোরআনের অনেক প্রাচীন অনুলিপি রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম ও রাজপরিবারের সদস্যরা ওয়াকফ ও দান হিসেবে প্রদান করেছেন। জাদুঘরে সংরক্ষিত নিদর্শনের মধ্যে ভারত, ইরান, ইয়েমেন, মিসর, নাইজেরিয়া, ব্রুনাই ও স্পেনের প্রাচীন বস্তু রয়েছে। উল্লেখ্য, জাদুঘরটি ২০২৪ সালে সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
জাদুঘরের কর্মকর্তা নিক ইলহাম জানিয়েছেন, এখানে বর্তমান কোরআন ও হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির মোট ১৮৪টি সংগ্রহ রয়েছে, যার বয়স ১০০ বছর থেকে শুরু করে এক হাজার বছরেরও বেশি। এসব সংগ্রহের বিশেষত্ব মূলত তাদের প্রাচীনত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি আলেম ও রাজপরিবারের বংশধরদের ওয়াকফকৃত। এগুলো কিনে সংগ্রহ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
মালয়েশিয়া থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে প্রখ্যাত আলেম টুক কেনালি (রহ.)-এর একটি পাণ্ডুলিপি, যা আনুমানিক ১৬০ বছর পুরনো। এছাড়া, তাঁর ব্যক্তিগত কোরআনের একটি অনুলিপিও এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপি দুটি মালয়েশিয়ার কেলান্তান অঙ্গরাজ্যের কুবাং কেরিয়ানের একটি পন্ডুক (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) থেকে সংগৃহীত। এগুলো স্থানীয় আলেমদের কোরআনি জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রচারের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত।
জাদুঘরে একটি বিশেষ পাণ্ডুলিপিও আছে, যা প্রখ্যাত আলেম শায়খ দাউদ ফাতানি (রহ.)-এর হাত থেকে তৈরি, যার বয়স দুই শ বছরেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। এই পাণ্ডুলিপির বিশেষত্ব হলো, এর কিছু লেখায় সোনার অলংকরণ তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে, বিভিন্ন রঙের কালি তৈরি করা হয়েছে ফুলের প্রাকৃতিক নির্যাস থেকে।
মালয় উপদ্বীপের নিদর্শনের পাশাপাশি, জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে মালয় অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন কোরআনের অনুলিপি, যা প্রায় চার শ বছর আগে শায়খ নুরুদ্দিন আর-রানিরি প্রস্তুত করেছিলেন। এছাড়া, স্পেনের ঐতিহাসিক অঞ্চল আন্দালুসিয়া থেকে প্রাপ্ত একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার বয়স প্রায় আট শ বছর।
জাদুঘরে এমন কিছু ব্যতিক্রমধর্মী সংগ্রহও রয়েছে, যেগুলো গাছের বাকল ও পশুর চামড়ার ওপর প্রস্তুত করা হয়েছে। নিক ইলহাম আরও বলেন, এসব মূল্যবান সংগ্রহের অস্তিত্ব নির্দেশ করে যে ইসলামী শিক্ষা উন্নয়ন এবং জ্ঞান সংরক্ষণের প্রচেষ্টা কখনোই জাতীয় সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। যদিও জাদুঘরটি দক্ষিণ থাইল্যান্ডে অবস্থিত, তথাপি এর প্রতিটি প্রদর্শনীকক্ষে মালয় অঞ্চলের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চেতনাকে সমুন্নত রাখা হয়েছে। মালয় আলেম ও রাজপরিবারের উত্তরসূরীদের প্রদর্শিত ওয়াকফের এই চেতনা জাদুঘরটিকে কেবল প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং অত্র অঞ্চলের ইসলামী ঐতিহ্যের ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
এই জাদুঘর এমন একটি ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে, যা যুগের পর যুগ ধরে সযত্নে লালিত, সংরক্ষিত এবং পরবর্তীতে প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এটি কেবল অতীতের স্মারক নয়; বরং সমগ্র মালয় অঞ্চলের ইসলামী জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং ওয়াকফভিত্তিক সভ্যতার ধারাবাহিকতার একটি জীবন্ত সাক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন