ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ কোরিয়ার কইকা স্কলারশিপের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে আবেদন আহ্বান


দক্ষিণ কোরিয়ার কইকা স্কলারশিপের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে আবেদন আহ্বান

দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা কইকা স্কলারশিপ প্রগ্রাম ২০২৭-এ অংশগ্রহণ করতে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তারা এই প্রগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সম্প্রতি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদেশ প্রশিক্ষণ শাখার উপসচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন।

সব জেলা প্রশাসক এবং সব মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থায়নে কইকা স্কলারশিপ প্রগ্রাম ২০২৭-এর আওতায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাসমূহ এবং মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ১৫টি পূর্ণবৃত্তির সুযোগ পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে ১১টি মাস্টার্স এবং ৪টি পিএইচডি রয়েছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার

এই প্রগ্রামে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের যাবতীয় ব্যয় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কর্তৃক বহন করা হবে এবং এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষ থাকবে না। নিম্নোক্ত শর্তাবলি অনুসরণপূর্বক উল্লিখিত মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন আহ্বান করা হচ্ছে।

বর্ণিতাবস্থায়, নিম্নরূপ শর্ত সাপেক্ষে প্রতিটি প্রগ্রামের বিপরীতে যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন করতে হবে। মনোনীত কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা ২০২৩ এবং কইকার নির্ধারিত ফর্মে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ই-মেইলে ([email protected]) একটি ফাইলে আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অবহিত রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানোর জন্য নির্দেক্রমে অনুরোধ করা হলো।

শর্তাবলী : প্রার্থীর বয়স ৪০ বছর অথবা এর কম হতে হবে। প্রগ্রামের বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রার্থীর কাজের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। প্রার্থীদের রেলিভেন্ট ফিল্ড অব স্টাডিতে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যেসব কর্মকর্তা পূর্বে কোনো কইকা স্কলারশিপ প্রগ্রামে অংশগ্রহণ করেননি, তবে কইকা মাস্টার্স ডিগ্রি প্রগ্রাম সম্পন্ন করেছেন এবং ইতিমধ্যে সর্বনিম্ন ৩ বছর সময় অতিক্রম করেছেন, তারা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ নেদারল্যান্ডস-সুইডেন মহারণ, কার জয়ের সম্ভাবনা কেমন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


আজ নেদারল্যান্ডস-সুইডেন মহারণ, কার জয়ের সম্ভাবনা কেমন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এফ’-এ আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি দুই দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই লড়াইয়ের ফল অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে গ্রুপ সেরার দৌড়।

প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। অপরদিকে সুইডেন দুর্দান্ত ফুটবল প্রদর্শন করে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছে। তাই, আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে গ্রাহাম পটারের দল।

যদিও পরিসংখ্যান ও শক্তির বিচারে এখনও ফেবারিট নেদারল্যান্ডস। অপটার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডাচদের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫.৯ শতাংশ। সুইডেনের জয়ের সম্ভাবনা ২০.৮ শতাংশ এবং ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৩.৩ শতাংশ।

নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাপানের বিপক্ষে ড্র থেকে শিক্ষা নিয়ে সুইডেনের বিপক্ষে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে তার দল। তবে ইনজুরি ও অসুস্থতা কিছুটা চিন্তা বাড়িয়েছে ডাচ শিবিরের।

ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও কুইন্টন টিম্বারকে ঘিরে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে সুইডেনের ভরসা দুই তারকা স্ট্রাইকার ভিক্টর ইয়োকেরেস ও আলেক্সান্ডার ইসাক। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে দুজনই গোল করেছেন এবং এই দুজনের উপরে সবচেয়ে বেশি সতর্ক ডাচরা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে আজকের দুই দলের লড়াই তাই শুধুমাত্র তিন পয়েন্টের জন্য নয়, বরং গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে-কলমে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে থাকলেও সুইডেনের সাম্প্রতিক ফর্ম বলছে, আজকের ম্যাচে যে কোনো ফলই সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫০ বছর বয়সী শিক্ষিকা সতাব্দী চাকমা মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় শতাব্দী চাকমাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তার মৃতু ঘোষণা করেন।

শতাব্দী চাকমা নানিয়ারচর উপজেলার রামহরিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি রাঙামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুখীনীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতা প্রয়াত রবীচন্দ্র চাকমা এবং মাতা প্রয়াত লক্ষ্মীদেবী চাকমা।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে তিনি নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। পথিমধ্যে নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের সমাজকল্যাণ এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করার সময়, রাস্তার পাশে থাকা একটি জামগাছ থেকে ফল পাড়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কাঁচা বাঁশ ব্যবহার করে জাম পাড়তে গিয়ে অসাবধানতাবশত তার হাতের বাঁশটি পাশের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে এবং ফলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা ও সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে নানিয়ারচর আসার পথে এক স্কুল শিক্ষিকা ঘিলাছড়ি এলাকায় জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


রংপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯ জন

রংপুর মহানগর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও মাদক নির্মূল, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযানে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে হত্যা মামলার আসামি, মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং পরোয়ানাভুক্তসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। একই সঙ্গে অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, মাদক ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা এবং জননিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে মহানগর পুলিশের সব ইউনিটের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে হত্যার মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক মামলার আসামি এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারও হয়েছে।

এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের তালিকায় রয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নগরীর ইসলামবাগ এলাকার ফজলু মিয়ার ছেলে আসিফ মিয়া (২৪), গণেশপুর ক্লাবমোড় এলাকার মোন্নাফ (২৮), বনানীপাড়া এলাকার লিটন মিয়া (২৭) এবং লালবাগ কেডিসি এলাকার স্বপন মিয়া (৫৮)।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন মিজানুর রহমান মনু (৩৬), দেলোয়ার হোসেন হাসান (৫৫), পরশুরাম থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন ছাদেক মিয়া (৪৫), মোখছেদুর রহমান (৭০), শাহিনুজ্জামান সাজু (৪৪), শামীম মিয়া, লিটন মিয়া (৩৪) এবং মোন্নাফ (৪৫)।

হারাগাছ থানা পুলিশের অভিযানে আটক হন সাইফুল ইসলাম (৩০), হিমেল (২৮), মো. আব্দুস সাত্তার মিয়া এবং মো. রবিউল ইসলাম।

মাহিগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় শামীম আরফান বাপ্পীকে।

অন্যদিকে, তাজহাট থানা পুলিশের অভিযানে লিটন মিয়া (৩৬) ও রনি মিয়া (২০) গ্রেপ্তার হন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা রোধ, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি মাদক ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মহানগর এলাকায় অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার সব আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা অথবা নন-এফআইআর প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে মহানগর পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান হচ্ছে জিরো টলারেন্স।

পুলিশের এই অভিযানে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে আটক হলো ভুয়া পরীক্ষার্থী ও প্রশ্নফাঁস চক্রের ৬ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


রংপুরে আটক হলো ভুয়া পরীক্ষার্থী ও প্রশ্নফাঁস চক্রের ৬ সদস্য

রংপুরে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

আটককৃতদের মধ্যে মো. তাওরাত আকরাম (২৭), মো. বাধন মিয়া (৩৭), মো. সাহেব আলী (২৬), মো. আতিকুর রহমান (৩৪), মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৬) এবং মো. হাফিজ আল মামুন (২০) রয়েছেন।

ডিবির সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন একটি ভবনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের ফলে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১৫টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্ট্যাম্প, আটটি স্বাক্ষরিত চেক, তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, চারটি মূল শিক্ষাগত সনদপত্র এবং পাঁচটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সরকারি চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া, অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া, প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা এবং তা নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে তাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আইনগত কারণে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যারা মেধাবী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের ব্যবহৃত স্মার্টফোনগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য, যোগাযোগের মাধ্যম এবং জালিয়াতির আলামত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া স্ট্যাম্প, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদপত্রের বৈধতাও যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রমের বিস্তৃতি এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ও চক্র চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা এবং জাল কাগজপত্র তৈরির মতো অপরাধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃত মেধাবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রিক যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণার সুযোগ নেই। মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ডিবির এ অভিযান প্রমাণ করে, অপরাধীরা যতই কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, তারা আইনের নজর এড়াতে পারবে না।

তিনি আরও জানান, নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে যেসব অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তের কাজ চলছে। যদি কেউ মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে অবৈধ সুবিধা নিতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%