১১:৩৭ পি.এম
রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে ফেলে গেছেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। যে স্ত্রী এবং সন্তানের সুখের জন্য পরিবারের ছেড়ে তিনি দীর্ঘ ১২ বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রবাসে কাটিয়েছেন, সেই স্ত্রী ও সন্তানরাই অভিযোগ উঠেছে যে, গত শনিবার রাতে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে যান।
শনিবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে খাস জমিতে ১৮ দোকান, ইজারা না হওয়ায় বন্ধ রাজস্ব আদায়
জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন, বয়স ৪৯ বছর। তিনি কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রামের সীমানা ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাশবাড়ি দক্ষিণ পাড়া, ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছে বসবাস শুরু করেন। জীবিকার তাগিদে পরবর্তীতে সৌদি আরবে পাড়ি যান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কাজ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রবাস জীবনে উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। কয়েক বছর আগে কিডনি জটিলতা ও নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটির পাশের রাস্তায় তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মানবেতর অবস্থায় পড়ে যান। পরে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ৫ পুলিশসহ আহত ৩০
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ মেম্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী বলেন, "আমার ভাইকে আমি পূর্বেই সাবধান করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে এলাকার কারও কথা শোনেনি। আজ শুনতে পেলাম, তার স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে।"
স্থানীয়রা অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, "আমার স্বামীকে আমি কয়েক মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সঙ্গে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই।"
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বাস দুর্ঘটনায় সুপারভাইজারসহ ২ নিহত, ৩ আহত
রাতের বেলায় তিনি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালেন, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।"
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন