১১:৩৮ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একটি হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে পরিচিত এক জামায়াত নেতাকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরের সময়, আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন আবেদন করেন। আদালতের বিচারক সাদেকুর রহমান, জামিন আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবু বকর ছিদ্দিক, কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের পুত্র।
আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
আদালত সূত্রে জানা যায় যে, সালেহা বেগম নামক এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি।
এটি জানা যায় যে, ওই নারীকে তিনি গোপনে বিয়ে করেন এবং পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামের ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে, তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান।
চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন, কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দাখিল করেন।
কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত চালিয়ে রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর, সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
এবং আদালতে সেলিমের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয় যে, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে, সে গলা টিপে অচেতন করে। পরে তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর, সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
চার্জশিটে উল্লেখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী দেখা যায়, ‘সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জমি কেনার কথা বলে, সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে, উল্টো আরো ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এর ফলে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করে। সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে, থানা পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও, আবু বকর পলাতক থাকায়, আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
বাদির আইনজীবী আমজাদ হোসাইন জানান, চার্জশিটভূক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে, তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। হত্যা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
ভিকটিম সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আসামি আবু বকর ছিদ্দিক জামায়াতের রাজনীতি করে থাকলেও, তিনি লম্পট প্রকৃতির একজন ব্যক্তি। তিনি এ পর্যন্ত সাতবার বিয়ে করেছেন। অর্থের লোভে সবার অজান্তে তিনি তাদের মাকেও বিয়ে করেছেন। একসময় তারা ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে, তিনি ভাড়াটে লোক দিয়ে তাদের মাকে হত্যা করাতে বাধ্য হন। ফলে, তারা আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা পাহারায় বিএনপির নেতাকর্মীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন