১১:৩৪ পি.এম
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সারা দেশে ‘মব’ সহিংসতায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৩৭ জন নারী, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশু।
এছাড়া, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির অন্তঃকোন্দলে ৪০ জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ৯ মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪০১ জন।
আরও পড়ুন: ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হন, যাদের মধ্যে ৩৯২ জন ১৮ বছরের কম বয়সী।
প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়েছে, ১৩০ জন (২০ শতাংশ) নারী ও কন্যাশিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। এছাড়া, ৬৯৬ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৭৬ জন শিশু।
গত ৯ মাসে সারা দেশে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তঃকোন্দলে ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় ৬ হাজার ৪৭৩ জনের বেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অন্তঃকোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৩২ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সহিংসতার ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ২ হাজার ১৯০ জন আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন (৬৩ শতাংশ), জামায়াতের ৮ জন (১১ শতাংশ) ও আওয়ামী লীগের ৬ জন (৮ শতাংশ)।
আরও পড়ুন: মাদরাসার বাবুর্চিকে খাবার না পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করল মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল
৯ মাসে সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৯৭ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৮৭ জন এবং হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৭৭ জন সাংবাদিক। এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর অধীনে ৫১ জন সাংবাদিককে আসামি করে ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ সময় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় পৃথক ৪০টি মামলায় ১১৩ জনকে অভিযুক্ত এবং ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজত ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় কারাগারে ৯৫ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪০ জন কয়েদি ও ৫৫ জন হাজতি। তাঁদের মধ্যে ২০ জন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য।
আরও পড়ুন: যোগ্য মানুষকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হয় এটাই প্রমানিত হলো
প্রতিবেদনে ৯ মাসে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়েছে, গত ৯ মাসে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
৯ মাসে সারা দেশে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের ৪৬৫টি ঘটনায় ৪৯১টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় ৪৬টি, ঝুলন্ত অবস্থায় ৮৭টি এবং শরীরে একাধিক আঘাতসহ ৭৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গলা কেটে হত্যা করা ৩৫টি এবং হাত-পা বাঁধা ৩১টি লাশ পাওয়া গেছে। এর বাইরে নানা ধরনের পরিস্থিতিতে আরও ২১৮টি লাশ পাওয়া গেছে।
সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৩টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ২২ জন।
শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ মাসে ৫৮২টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১ হাজার ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: নলতায় জমি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ ভাবীর বিরুদ্ধে, তদন্তে মিলেছে স্বস্তি
শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়েছে, ৯ মাসে ১ হাজার ৮১০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। ১ হাজার ৩১৬ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন