ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চুক্তির পরও দেশে না ফিরতে বাস্তুচ্যুতদের সতর্ক করল লেবানন


চুক্তির পরও দেশে না ফিরতে বাস্তুচ্যুতদের সতর্ক করল লেবানন

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার পরেও, সোমবার (১৫ জুন) দক্ষিণ লেবানন কর্তৃপক্ষ ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গত তিন মাস ধরে চলমান যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষদের তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরতে না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে। কারণ ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে না।

রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের সবচেয়ে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করছে লেবানন; যেখানে ২ মার্চ তেহরানের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গুলি বর্ষণকারী ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি অভিযানে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, সোমবার ভোরে একটি চুক্তির ঘোষণা হয়েছে এবং এই চুক্তিতে লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযানের অবিলম্বে ও স্থায়ী সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে

এদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী একটি স্ব-ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করেছে, সেখানকার পৌরসভাগুলো বাসিন্দাদের ফিরে না আসার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি জারি করেছে।

বৈরুতের হামরা জেলায় আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত নারী মোনা মাজেহর, দক্ষিণের শহর টায়ারের কাছে নিজের গ্রামে ফিরতে কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা করেছেন না। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা দ্বিধাগ্রস্ত; ইসরাইলকে বিশ্বাস করা যায় না।’

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, যার দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পক্ষ নয়, বলেছেন যে ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন, গাজা এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো থেকে সরে আসবে না এবং লেবাননের ঘটনাবলীর কারণে ইরান ইসরাইল হামলা চালালে তার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

দলটির রাজনৈতিক মিত্র এবং শিয়া মুসলিম আমাল মুভমেন্টের প্রধান, সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরি বলেছেন, এই চুক্তিটি ‘লেবাননসহ এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি স্থাপন করেছে।’

এক বিবৃতিতে বেরি এই চুক্তিতে লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং এই বিধানটিকে বাধ্যতামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

অন্যদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংস করে চলেছে। যদিও ইসরাইলের দাবি, তারা মূলত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বেসামরিক এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা হিজবুল্লাহ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। কয়েক লক্ষ লেবানিজ শিয়া দেশের অন্যান্য অংশে আশ্রয় নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


পাকিস্তানে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যু

পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় দেশের বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানটির দুই জন চালক।

এ ঘটনা সোমবার (১৫ জুন) সকালে প্রদেশের মারদান জেলায় ঘটেছিল। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্যের নিশ্চিত করেছে।

নিহত দুই চালকের নাম-পরিচয়ও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তারা হলেন বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মুহম্মদ কাসিম আব্দুল্লাহ এবং নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তাহা আব্বাসী।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এই বিমানটি উড়িয়েছিলেন উভয় চালক। তবে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই মারদান জেলায় বিমানটি ভূপাতিত হয়। চালক দু’জনের মৃত্যুর খবর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গেছে।

বিমানটির ভূপাতিত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পাকিস্তান আইএসপিআর জানিয়েছে।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

এর আগে, গত সপ্তাহে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল, যেখানে ২২ জন সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুরু হলো সংসদের নতুন অধিবেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


শুরু হলো সংসদের নতুন অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। রবিবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এটি শুরু হয়।

অধিবেশন শুরু হয় পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খোলার অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খোলার অপেক্ষা

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার নতুন এক সমঝোতার ফলে দুই দেশের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট কমানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানের পথও এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হতে পারে।

এক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সমঝোতা স্মারক সামনে এসেছে। এ সময়, বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ ও পক্ষ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালায়।

এর আগে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা গেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ধীরে ধীরে খুলবে হরমুজ প্রণালি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল এবং জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেন, শুক্রবার চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করা হবে এবং এরপর আবার এই পথ দিয়ে উভয় দিক থেকে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারবে।

ইরান চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধবিরতির অতিরিক্ত ৬০ দিনের সময়সীমায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায় করবে না বলেও জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্প আরো বলেন, গত এপ্রিল মাসে ইরানের বোনদরগুলোতে যাওয়া এবং সেখান থেকে বের হওয়ার জাহাজগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল, সেটি প্রত্যাহার করা হবে। চুক্তিতে উভয় পক্ষের সামরিক হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ হবে এবং একইভাবে ইরানের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাও বন্ধ থাকবে। ইরান থেকে বের হওয়া জাহাজ আটকানোর কার্যক্রমও স্থগিত করা হবে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ মালিক এবং শিপিং কোম্পানিগুলোকে আবার এই পথে নিয়মিত চলাচলে আস্থা ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগবে। পাশাপাশি, জাহাজের বিমা খরচ কমতেও সময় লাগতে পারে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান আবারও ঘোষণা দেবে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন অস্ত্র সংগ্রহ করবে না। চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৯ হাজার কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা চালাবে। এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। সূত্রটি আরো জানায়, অন্তত এতটুকু নিশ্চিত করা যায় যে ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের ভেতরেই সম্পন্ন হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। জানা গেছে, ইরানের মজুতকৃত ইউরেনিয়ামের বেশির ভাগই নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার খুব কাছাকাছি।

এছাড়া, চুক্তির অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির বর্ধিত ৬০ দিনের সময়ে ইরানকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া একবারে হবে না। ধাপে ধাপে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে, এর মধ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয় কি না, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়াকে 'কাজের ভিত্তিতে অগ্রগতি' ধরনের ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পুরো পরিকল্পনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ধীরে ধীরে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। তিনি বলেন, ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

চুক্তিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নয়, পুরো অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে আনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর চলমান সংঘর্ষও রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই উদ্যোগকে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান- সব পক্ষই সমর্থন করবে বলে তারা আশা করছেন। তার মতে, চুক্তিটি কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষই আত্মরক্ষার অধিকার ছেড়ে দেবে না। যদি ইরান চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তাহলে ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া দেখাবে না- এমন আশা করার কোনো কারণ নেই।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং তারা এতে স্বাক্ষরও করছে না। যদিও এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে রবিবার, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের নতুন হামলার ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদ্য হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দেশে বসবাস, ভিসা জটে দেখা হচ্ছে না প্রিয়জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


দুই দেশে বসবাস, ভিসা জটে দেখা হচ্ছে না প্রিয়জনের

স্বামী একজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, অন্যদিকে স্ত্রী দেশে রয়েছেন। কিংবা কখনো স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় এবং স্বামী দেশে।

মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে লাখো প্রবাসী পরিবারের জীবন এভাবেই কাটছে। অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার দীর্ঘসূত্রতা এখন আর শুধু প্রশাসনিক সমস্যা হয়ে রইল না, এটি পরিণত হয়েছে হাজারো পরিবারের জীবনে একটি গভীর মানবিক সংকটে। ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আবেদন আটকে রাখছে না, বরং অভিবাসনের সংখ্যা কম দেখানোর চেষ্টা করছে।

রবিবার (১৪ জুন) স্কাই নিউজের ‘সানডে এজেন্ডা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টনি বার্ক বলেন, পার্টনার ভিসা আবেদনে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত বিলম্বের ঘটনা পরিলক্ষিত হলেও এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবলসংকটের কারণে হচ্ছে, সরকারের কোনো ইচ্ছাকৃত নীতির কারণে নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আটকে রাখা হচ্ছে না। প্রশাসনিক জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা এই বিলম্বের প্রধান কারণ।

সম্প্রতি স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পার্টনার ভিসার অপেক্ষমাণ আবেদন সম্ভাব্যভাবে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর সাথে প্রায় ৬০ হাজার নতুন আবেদন যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আবেদনগুলোর স্তূপ প্রতিবছর বেড়েই চলেছে এবং দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর।

এই পরিস্থিতির কারণে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন কমিয়ে দেখানোর জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণের গতি ধীর করছে। তবে সরকার এ অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন আইন ১৯৫৮ অনুযায়ী, পার্টনার ভিসা ‘ডিমান্ড-ড্রিভেন’ শ্রেণির ভিসা হিসেবে বিবেচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের ভিসায় সাধারণ দক্ষ অভিবাসনের মতো নির্দিষ্ট কোটা আরোপের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে আবেদনকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তির প্রত্যাশা থাকে।

সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ড. আবুল রিজভি বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন প্রক্রিয়া ধীর করা হয়েছে, তবে তা আইনি প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালত সরকারকে মাইগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেনি। সূত্র জানান, অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার মধ্যে অনশোর সাবক্লাস ৮২০/৮০১ এবং অফশোর সাবক্লাস ৩০৯/১০০ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আবেদনকারীরা সাধারণত প্রথমে অস্থায়ী ভিসা পান এবং নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক আবেদনকারীকে ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ভিসার মাধ্যমে দেশটির নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং যোগ্য নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা তাদের জীবনসঙ্গীকে অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ পান। এইভাবেই বিশ্বের অন্য দেশের নাগরিকদের মতো বহু বাংলাদেশি পরিবার পুনর্মিলনের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হতে হতে বছরের পর বছর কাটছে।

দীর্ঘ এই অপেক্ষার মধ্যে দম্পতিদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, সম্পর্কে চাপ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেক পরিবারে সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ভিসার অপেক্ষায় থমকে আছে। একাধিক প্রবাসীর দাবি, দীর্ঘ ভিসা অপেক্ষা শুধু দম্পতিদের মধ্যে মানসিক চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলোরও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করছে। তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে চাকরি, বিদেশে ভ্রমণ এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে অনেককে। ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সময়ের কারণে আবেদনকারী অনেকের পুলিশ ছাড়পত্র এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যবহার করে নতুন করে এসব নথি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে মানসিক যন্ত্রণাও দীর্ঘ হচ্ছে।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আবেদন বৃদ্ধির তুলনায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবল সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলস্বরূপ, পারিবারিক পুনর্মিলন সংক্রান্ত ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতা আরও প্রকট হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা জানান, পার্টনার ভিসা শুধুমাত্র একটি অভিবাসন প্রক্রিয়া নয়; এটি পরিবারের সদস্যদের এক ছাদের নিচে আনার স্বপ্ন এবং নতুন জীবন গড়ার প্রত্যাশা। তাদের দাবি, দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই স্বপ্ন আটকে থাকার ফলে হাজারো পরিবার অনিশ্চতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই ভিসাজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%