০৩:৫২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার পরেও, সোমবার (১৫ জুন) দক্ষিণ লেবানন কর্তৃপক্ষ ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গত তিন মাস ধরে চলমান যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষদের তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরতে না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে। কারণ ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে না।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের সবচেয়ে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করছে লেবানন; যেখানে ২ মার্চ তেহরানের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গুলি বর্ষণকারী ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি অভিযানে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, সোমবার ভোরে একটি চুক্তির ঘোষণা হয়েছে এবং এই চুক্তিতে লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযানের অবিলম্বে ও স্থায়ী সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে
এদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী একটি স্ব-ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করেছে, সেখানকার পৌরসভাগুলো বাসিন্দাদের ফিরে না আসার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি জারি করেছে।
বৈরুতের হামরা জেলায় আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত নারী মোনা মাজেহর, দক্ষিণের শহর টায়ারের কাছে নিজের গ্রামে ফিরতে কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা করেছেন না। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা দ্বিধাগ্রস্ত; ইসরাইলকে বিশ্বাস করা যায় না।’
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, যার দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পক্ষ নয়, বলেছেন যে ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন, গাজা এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো থেকে সরে আসবে না এবং লেবাননের ঘটনাবলীর কারণে ইরান ইসরাইল হামলা চালালে তার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
দলটির রাজনৈতিক মিত্র এবং শিয়া মুসলিম আমাল মুভমেন্টের প্রধান, সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরি বলেছেন, এই চুক্তিটি ‘লেবাননসহ এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি স্থাপন করেছে।’
এক বিবৃতিতে বেরি এই চুক্তিতে লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং এই বিধানটিকে বাধ্যতামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংস করে চলেছে। যদিও ইসরাইলের দাবি, তারা মূলত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বেসামরিক এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা হিজবুল্লাহ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। কয়েক লক্ষ লেবানিজ শিয়া দেশের অন্যান্য অংশে আশ্রয় নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন