ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানকে ‌‘জিতিয়ে’ ইসরায়েলের মহাপরিকল্পনায় শেষ পেরেক ঠুকলেন ট্রাম্প


ইরানকে ‌‘জিতিয়ে’ ইসরায়েলের মহাপরিকল্পনায় শেষ পেরেক ঠুকলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি নাটকীয় মোড় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে আকস্মিক সরে আসার সিদ্ধান্ত ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্নকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দমনে ওয়াশিংটনের এই পিছুটান কেবল একটি যুদ্ধাবসানের গল্প নয়, বরং এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পুনর্গঠনে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য তেল আবিব নির্ধারণ করেছিল, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গেছে।

বিগত পঁচিশ বছরের মধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন অথবা লিবিয়াতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের চেনা ছকের চেয়ে ইরানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে উঠেছে। সেখানে মার্কিন মদদে শাসনভার পরিবর্তনের চেষ্টা কেবল ব্যর্থ হয়নি বরং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি এই সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব আরও জোরালোভাবে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির মাধ্যমে যে কৌশলগত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল, সৌদি আরব তাতে সই করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের হাত ধরেই নেতানিয়াহুর সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তন বা ‘ইউ-টার্ন’ মূলত মার্কিন অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। আমেরিকার বাজারে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেলের চড়া দাম এবং নিজের ক্রমাগত কমতে থাকা জনপ্রিয়তার গ্রাফ ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে। তাছাড়া আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থবিরতা মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানছিল। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার মতো একটি দ্রুত ও সহজ জয় কিন্তু ইরান যখন শুরুতেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন আশি বছর বয়সী এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের মাঠ থেকে মানসিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

ইসরায়েলের ভেতরে এই ঘটনাটিকে একটি ঐতিহাসিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরাও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একাংশের মতে, এই যুদ্ধের আগে মার্কিন সমর্থনে ইসরায়েলকে অঞ্চলের প্রধান সামরিক শক্তি মনে করা হতো কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানই এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নেতানিয়াহুর ঘোর সমালোচকরা এটিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী দলগুলো এখন ‘একলা চলো’ নীতির কথা ভাবছে এবং নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার দাবি তুলছে।

হোয়াইট হাউজের এই সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্কেও চরম ফাটল দৃশ্যমান হয়েছে। ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেই বলেছেন, আমেরিকার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না, তাই নেতানিয়াহোর উচিত তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। অন্যদিকে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী শিবিরের একাংশ ট্রাম্পের এই অবস্থানকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে এবং মার্কিন প্রশাসন ও মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য করে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। কট্টর ডানপন্থীরা এখন ইরানের সরকারকে উৎখাত করতে নিজস্ব ও ‘সৃজনশীল’ উপায়ে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই নয় বরং ওয়াশিংটনের রাজনীতিতেও ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমেরিকার সাধারণ জনগণের মতামত এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় এখন স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলকে একটি গণতান্ত্রিক ও নির্ভরযোগ্য সামরিক মিত্রের চেয়ে একপ্রকার রাজনৈতিক বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়েছে। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসের ওপর ইসরায়েলি লবির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও খোদ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের মধ্যে এখন দ্বিপাক্ষিক স্ক্রুটিনি ও সমালোচনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েলি লবিস্টরা এখন মার্কিন আইনি কাঠামোয় জোরপূর্বক এমন কিছু ধারা যুক্ত করার চেষ্টা করছে যাতে ইসরায়েলের সামরিক সুবিধা চিরস্থায়ী করা যায়।

এই পুরো সংকট থেকে ইরান কৌশলগতভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বহর অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছে, যা যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে। একই সাথে লেবাননের হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সাথে তেহরানের সম্পর্ক ও সমন্বয় আগের চেয়ে আরও বেশি সুদৃঢ় হয়েছে। এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, ইরান কেবল তার মিত্রদের ব্যবহারই করে না বরং প্রয়োজনে তাদের সুরক্ষায় সরাসরি ঢাল হয়ে দাঁড়াতেও দ্বিধা করে না।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সামগ্রিক এই পরিস্থিতি এখন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ফিলিস্তিনিদের ওপর আরও মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে পারেন এবং গাজার বড় অংশ দখল করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে গাজার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ আন্দোলন এবং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল বয়কটের যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা ইসরায়েলের পক্ষে একা এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা অসম্ভব করে দেবে। মধ্যপ্রাচ্য সত্যিই বদলে গেছে, তবে তা নেতানিয়াহুর কাঙ্ক্ষিত উপায়ে নয়; বরং ইসরায়েল এখন তার চিরচেনা সামরিক শক্তির সীমানায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইফোনপ্রেমীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


আইফোনপ্রেমীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

আইফোন প্রেমীদের পকেটে এবার বড়সড় আর্থিক চাপ পড়তে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের আকাশচুম্বী দামের কারণে আগামীতে নতুন আইফোনের মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো অসম্ভব, এ কথা সাফ জানিয়েছে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক।

তিনি একইসাথে বলেছেন, এই সংকট দ্রুত কাটার কোন লক্ষণ নেই।

অ্যাপলের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, উৎপাদন খরচের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এতদিন গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়তে দেওয়া হয়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখন আর হাত গুটিয়ে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। টিম কুক বলেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও (আইফোনের) দাম বাড়ানো এখন অনিবার্য।’

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জয়জয়কার চিপ সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। এআই নিয়ে কাজ করা বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক পরিমাণে মেমোরি চিপ কিনে নেওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহে তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাজারে আসতে যাওয়া ‘আইফোন ১৮’ সিরিজেই এর বড় প্রভাব পড়বে।

বর্তমান মডেলের তুলনায় আইফোন ১৮ প্রো তৈরিতে মেমোরি ও স্টোরেজ যন্ত্রাংশের খরচ প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে, দাম অপরিবর্তিত থাকার যে গুঞ্জন বাজারে ছিল, টিম কুকের এই মন্তব্যের পর তা একপ্রকার কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ড্র যথেষ্ট নয়’- পর্তুগাল ম্যাচের পর ডিআর কঙ্গো কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


‘ড্র যথেষ্ট নয়’- পর্তুগাল ম্যাচের পর ডিআর কঙ্গো কোচ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ডিআর কঙ্গো চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে। ১-১ গোলে ড্র করে মূল্যবান একটি পয়েন্ট অর্জন করলেও দলের কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।

তার লক্ষ্য আরো বড়। তিনি চাইছেন যে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিক।

পর্তুগালের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর দেশাব্রে মন্তব্য করেন, ‘টুর্নামেন্টের জন্য এটি ভালো একটি শুরু। আমরা ড্র পেয়ে খুশি, কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে চলবে না।

আমাদের লক্ষ্য হল গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে পরের রাউন্ডে পৌঁছানো। শুধু ড্র করলেই হবে না।’

ফরাসি এই কোচের মতে, পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পয়েন্ট অর্জন করা দলের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়েছে। তবে, সামনে আরো কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

তিনি আরো বলেন, ‘যদি আমরা বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটি জিততে পারি, তাহলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু এটি একটি কঠিন গ্রুপ, সুতরাং আমাদের প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচে ডিআর কঙ্গো নিজেদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচজুড়ে ইউরোপীয় জায়ান্টদের চাপের মধ্যে রাখার পাশাপাশি সমতা ফিরিয়ে তারা লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আগামী ২৪ জুন গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ডিআর কঙ্গো কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে।

এরপর ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে উজবেকিস্তান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি, লোহিত সাগরে যাচ্ছে জার্মানির দুটি জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি, লোহিত সাগরে যাচ্ছে জার্মানির দুটি জাহাজ

জার্মানি সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি নৌযান লোহিত সাগরের দিকে পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের প্রয়োজন পড়তে পারে।

সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্রাসেলসে ন্যাটোর এক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

পিস্টোরিয়াস বলেন, তাদের মাইন অপসারণকারী জাহাজ 'ফুলদা' এবং সরবরাহ জাহাজ 'মোজেল' সুয়েজ খাল পেরিয়ে লোহিত সাগরের দিকে যাচ্ছে। এই জাহাজদুটি সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে মোতায়েন করা হচ্ছে।

তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত অভিযান শুরু হচ্ছে না। হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ অভিযান শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমোদন লাগবে। ইরান এবং ওমানের সম্মতি ছাড়া এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, এই ধরনের অভিযান বাস্তবে আদৌ শুরু হবে কি না, তা ভবিষ্যতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া রাজনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচিত। এই পথ দিয়েই বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয়। তাই এখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নষ্ট হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে মাইন বা বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা দেখা দিলে তা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই বিভিন্ন দেশ আগেই প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

পিস্টোরিয়াস ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে ব্রাসেলসে গিয়ে ইউরোপ ও ন্যাটোর সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। জার্মানির এই পদক্ষেপকে ন্যাটোর সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমঝোতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে মাইন অপসারণ অভিযান বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে সরকার : প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে সরকার : প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু পরিদর্শন উপলক্ষে যে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তিনি চান সারা বাংলাদেশের যেন উন্নয়ন হয়।

এছাড়া, তিনি বলেন, কায়েতপাড়া ও নগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হলো ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু। একটি মহল এই সেতুর কাজটি বন্ধ করে রেখেছে, তবে এটা যাতে রূপগঞ্জের উন্নয়ন না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, যদি সেতু দুটি চালু হয়, তাহলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং সময়ের সঙ্গে ব্যয়ও কমবে। কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া, ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে অল্প সময়ে আসা সম্ভব হবে।

সরকারি প্রতিনিধিরা জানান, জনগণ এই সেতু ব্যবহার করে ঢাকা থেকে সিলেট যাতায়াত করবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, বাশিরউদ্দিন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট গোলজার হোসেনসহ আরও অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%