০৩:৫২ এম
দেশে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা আবারো শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে লোকসানের কারণে ভোজ্যতেল আমদানি করা সম্ভব হবে না। তবে এ বিষয়টিতে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দাম বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাজার, এবং বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পক্ষে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে নানা কারণ দেখিয়ে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয়ের অজুহাতে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ, বর্তমান দামে তারা লোকসান ভোগ করছেন। সেজন্য প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া, লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫ লিটারের বোতল এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ১৮৮ টাকা নির্ধারণ করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, খোলা পাম তেলের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে।
সূত্র থেকে জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভোজ্যতেলের দাম কতো হওয়া উচিত তা নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১৯১ মার্কিন ডলারে, যা মাসখানেক আগে ছিল এক হাজার ১৬৯ মার্কিন ডলার। আর এক বছর আগে ওই দাম ছিল এক হাজার ৭৮ ডলার। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে পাম তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম তেল এক হাজার ১৬২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, অথচ এক মাস আগে তা ছিল এক হাজার ১৪৫ ডলার এবং এক বছর আগে এক হাজার ২৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে, বিশ্ববাজারে দাম বেড়ালেও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের সঙ্গে কিছু তারতম্য রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেওয়ার কারণে সেসব বিষয় সমন্বয় করেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
এদিকে, এই প্রসঙ্গে টি কে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তসলিম জানিয়েছেন, ভোজ্যতেল আমদানির পর্যায়ে সমস্ত খরচ বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচও বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরো একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদি লোকসান অব্যাহত থাকে, তাহলে এভাবে আমদানি করা সম্ভব হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন