বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৩৯ পি.এম
ভারতে শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে আয়োজিত আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাই পুলিশের হাতে বলিউড অভিনেত্রী আয়েশা খানের আটক হওয়ার ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লিতে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ার পর, শিক্ষার্থীদের সংহতি জানাতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদারে পুলিশি হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি।
‘ধুরন্ধর’ ছবির ‘শারারাত’ গানখ্যাত এই অভিনেত্রী প্রায় তিন ঘণ্টা পরে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। বুধবার বিকেলে মুম্বাইয়ের দাদারে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান আয়েশা খান। তবে, তার দাবি অনুযায়ী, মিছিল বা কোনো প্রতিবাদ শুরু করার আগেই পুলিশ তাকে এবং তার সঙ্গীদের আটক করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আয়েশা জানান, তিনি তার দুই নারী বন্ধুর সঙ্গে রাস্তার একপাশে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এর আগে তার ভাই এবং অন্যান্য পুরুষ বন্ধুদের পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। তারা কোনো স্লোগান দেননি অথবা কোনো প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেননি, তবুও প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য তাদের ঘিরে ধরে জোরপূর্বক ভ্যানে তুলে নেয়।
আটকের পরপরই শেয়ার করা একাধিক ভিডিওতে আতঙ্কিত আয়েশাকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো নিয়ম না ভেঙে এবং কোনো ধরনের স্লোগান না দিয়ে শুধু শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কেন তাকে আটক করা হল? আটক হওয়ার পর তাকে এবং তার বন্ধুদের ওরলি পুলিশ স্টেশনে নেয়া হয়। এছাড়া, পরে তিনি জানান, শহরের বিভিন্ন থানায় তাদের দলের সদস্যদের আলাদা করে ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ স্টেশনে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হলেও আটক প্রক্রিয়ার সময় হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অবশেষে প্রায় তিন ঘণ্টা পরে মুক্তি পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আপডেট জানান এই অভিনেত্রী। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি তার ভাইয়ের মুক্তির জন্য অন্য পুলিশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রসঙ্গত, সিজেপি আয়োজিত এই আন্দোলনের সমর্থনে দেশের একাধিক খ্যাতনামা তারকা সোচ্চার হয়েছেন। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের রাজপথে শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, রত্না পাঠক শাহ এবং নাসিরুদ্দিন শাহের মতো বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পীরাও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ২ হাজার ২৪০টি মামলা দায়ের করেছে।
এ অভিযানে ডাম্পিং করা হয়েছে ৪৭৬টি যানবাহন এবং ২৯২টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এ তথ্য জানায়।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক–রমনা বিভাগে ১৩০টি মামলা, লালবাগ বিভাগে ১৩৬টি মামলা, মতিঝিল বিভাগে ৩৬৫টি মামলা, ওয়ারী বিভাগে ৩৯১টি মামলা, তেজগাঁও বিভাগে ২৮৭টি মামলা, মিরপুর বিভাগে ৩৩৭টি মামলা, উত্তরা বিভাগে ৩১৩টি মামলা এবং গুলশান বিভাগে ২৮১টি মামলা করা হয়েছে।
এই মামলাগুলোর মধ্যে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬: ড্রাইভিং ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস অ্যান্ড প্রসপারিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে এ এক্সপো পরিদর্শন করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও এক্সপো শুরু হয়। এ আয়োজনের লক্ষ্য হল বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পরবর্তী ধাপে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি আরও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের উদ্যোগ জোরদার করছে। এ প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ইনভেস্টরস এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন এফআইসিসিআই বা ফিকির সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বিদেশী বিনিয়োগকারীগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের পুনর্বাসনে জাতীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সুনির্দিষ্টভাবে ২২ জুলাই বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত 'ঢাকায় স্মাইল এশিয়ার ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডশিপ মেডিকেল মিশন উপলক্ষে গালা ডিনার' অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের উদ্যোগে স্মাইল এশিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা ব্যাংক ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের 'নতুন হাসির অঙ্গীকারে' শীর্ষক সফল কর্মসূচি উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঠোঁট ও তালুকাটা মোট ৬৯ জন শিশুকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান কালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, জন্মগতভাবে ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের অসহায়ত্ব ও আবেগ দেখে যে কারও হৃদয় কেঁদে ওঠে। তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও নার্সদের একটি গঠিত দল এই শিশুদের মুখে আবার হাসি ফুটিয়ে তুলেছে। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পূর্ণ সহযোগিতায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলটি ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে।
মন্ত্রী স্মাইল এশিয়া ও সাজেদা ফাউন্ডেশনকে পুনরায় এই ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের পরবর্তীতে (স্মাইল এশিয়া) সরকারের পক্ষ থেকে একটি জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া হবে, যাতে আরও বৃহৎ আকারে দেশের মানুষের সেবা করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওসমান এরশাদ ফয়েজ, সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহেদা ফিজ্জা কবির, স্মাইল এশিয়ার মহাসচিব অভিমন্যু তালুকদার, ঢাকার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আ. রাজ্জাক সরকার প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা উপসাগরীয় অঞ্চলের সিআইএর একাধিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় তদন্ত করে দেখছেন যে, রাশিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহে। চারটি সূত্র বিষয়টির সাথে পরিচিত হয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে হামলার লক্ষ্যভেদের সঠিকতা, কার্যকারিতা তথা মস্কোর ইরানের প্রতি দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর ইরানের হামলায় রাশিয়া লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু সিআইএ-এর স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে হামলায় মস্কোর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অপরটি ছিল ইরাকের পূর্বাঞ্চলের একটি স্থাপনা। কিছু সূত্র দাবি করছে, অন্য আরও কয়েকটি সিআইএ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের অবস্থান বা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। গোয়েন্দা নথিতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে রাশিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদিতে হামলায় রাশিয়ার প্রযুক্তিতে উন্নত করা ইরানের দুটি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করার ধারণা রয়েছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাস ভবনের বাইরের দেয়ালের তুলনামূলক দুর্বল অংশে আঘাত করে একটি বড় ছিদ্র সৃষ্টি করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত বা আহত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা নতুন নয়। কিন্তু সিআইএ-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা হলে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য মস্কোর আরও প্রত্যক্ষ ভূমিকার নির্দেশক হতে পারে। বিশেষ করে, যখন ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সমাপ্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর রাশিয়া তেহরানকে লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠানো হয়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সূত্রগুলোর দাবি, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা দিয়েছে। তাদের ধারণা, রিয়াদের হামলায় ওই উন্নত ড্রোন ব্যবহার হয়েছিল। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে ‘কমেটা-এম’ নামে একটি স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা দিয়েছে, যা শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং মোকাবেলায়ও কার্যকর। গত মার্চে দ্য ওয়াল স্ট্রি জার্নালে প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, তবে ক্রেমলিন সেটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশে সিআইএর কার্যক্রমের আওতায় শুধু দূতাবাসভিত্তিক স্টেশনের নয়, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, লজিস্টিক হাব, নজরদারি কেন্দ্র এবং বিভিন্ন গোপন অপারেশনের স্থাপনার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এসব স্থাপনার অবস্থান অত্যন্ত গোপন থাকে। সূত্রগুলো হামলার শিকার স্টাপনাগুলোর সংখ্যা বা অবস্থান প্রকাশ করেনি। একজনের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থাপনার সংখ্যা ‘একটির বেশি, তবে এক ডজনের কম’। অন্য একজন জানিয়েছেন, একাধিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা বিশেষভাবে তদন্ত করছেন যে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার সময় ইরান রাশিয়ার দেওয়া তথ্য ব্যবহার করেছিল কি না। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরানের মূল লক্ষ্য হয়তো পুরো মার্কিন দূতাবাস ছিল এবং ঘটনাক্রমে সিআইএ স্টেশনটিও হামলার শিকার হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ছাড়া অনেক কম দেশই এ ধরনের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহারের সক্ষমতা ও আগ্রহ রাখে। সাবেক সিআইএ স্টেশন প্রধান ও আন্ডারকভার অপারেশন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, যদি মস্কো তেহরানকে সিআইএর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করে থাকে, তাহলে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তার ভাষায়, ‘রাশিয়া ও ইরান— উভয়েই নিজেদের প্রভাববলয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে দেওয়া, অথবা পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ